আবুল ওয়ালিদ উবাদা ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
3
- «بَايَعْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِي الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ، وَالْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ، وَعَلَى أَثَرَةٍ عَلَيْنَا، وَعَلَى أَنْ لَا نُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ، وَعَلَى أَنْ نَقُولَ بِالْحَقِّ أَيْنَمَا كُنَّا، لَا نَخَافُ فِي اللهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ» “আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বাইয়াত (শপথ) নিলাম দুঃখে-সুখে, শান্তিতে-বিপদে সর্বাবস্থায় নেতার কথা শোনা ও তার আনুগত্য করার, আমাদের ওপর তাদের প্রাধান্য দেওয়ার। আরো শপথ নিলাম, নেতাদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা আমরা করব না, যতক্ষণ না তোমরা তাদের থেকে স্পষ্ট কুফুরী দেখতে পাবে যার সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে প্রমাণ আছে। আমরা আরো শপথ নিলাম, আমরা যেখানেই থাকি না কেন সর্বাবস্থায় সত্য ও ন্যায়ের কথা বলব। আমরা আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করব না। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭১৯৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭০৯।]
হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. বিশেষ কোনো কাজ করা বা ত্যাগ করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাইয়াত বা শপথ করার প্রচলন ছিল। এ বাইয়াত অনুযায়ী চলা অপরিহার্য কর্তব্য।
দুই. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবর্তমানে নেতাদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ বৈধ ও তা মান্য করে চলা ওয়াজিব।
তিন. সর্বাবস্থায় মুসলিম শাসক ও নেতাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব। তবে তারা যদি শরী‘আত বিরোধী কোন কাজের নির্দেশ দেয়, তা পালন করা যাবে না। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ» “স্রষ্টার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই”। [মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১০৯৪, শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসটি শাইখাইনের শর্তে সহীহ।]
চার. কোনো নেতাকে কাফির বলা বা তার কাজকে কুফুরী বলতে হলে শক্তিশালী দলীল প্রয়োজন।
পাঁচ. সর্বাবস্থায় ও সর্বত্র সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা ঈমানদারদের কর্তব্য।
ছয়. শরী‘আতের কোনো বিধান পালনের ক্ষেত্রে কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করা উচিত নয়। এমনিভাবে সত্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার বা নিন্দুকের নিন্দা ঈমানদাররা পরোয়া করে না।
সাত. কোনো শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা অস্ত্র ধারণ করা যাবে না। তবে তার মধ্যে যদি চারটি শর্ত উপস্থিত থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। শর্ত চারটি হলো:
(১) কুফুরী দেখতে পাওয়া। মানে সন্দেহ বা গুজবে কান দিয়ে বিদ্রোহ করা যাবে না। তার অন্যায়টা দেখতে পেতে হবে। ভালোমত জানতে হবে।
(২) কৃত অন্যায়টা কুফুরী হতে হবে। ফাসেকী বা শুধু
বড় পাপ হলেই হবে না।
(৩) কুফুরীটা স্পষ্ট হতে হবে। অস্পষ্ট কুফুরী হলে হবে না। যেমন সে বলল: মদ খাওয়া হালাল, তোমরা মদ পান করো। যিনা-ব্যভিচার অন্যায় নয়, তোমরা তা করতে পারো, সমকামিতা অবৈধ নয়,
সালাত পড়ার দরকার নেই ইত্যাদি। এগুলো স্পষ্ট কুফুরী।
(৪) তার থেকে প্রকাশ হওয়া স্পষ্ট কুফুরীগুলো যে সত্যিকর অর্থেই কুফুরী সে ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলার কালামের স্পষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে।
এ চারটি শর্ত যদি কোনো শাসকের মধ্যে পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ জায়েয। তবে তার জন্য আরেকটি শর্ত আছে। তাহল, মুকাবিলা করার শক্তি ও সামর্থ থাকতে হবে। কুফুরী দেখে সহ্য করতে না পেরে যদি মিসাইল, যুদ্ধ বিমান, ট্যাংকের বিরুদ্ধে রান্না ঘরের চাকু নিয়ে লড়াই করতে নেমে যাওয়া হয়, তাহলে তা ইসলামে অনুমোদিত হবে না। এটা করার মানে নিজেকে জেনে শুনে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করা।