hadith book logo

সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

হাদীস: ৪. আল্লাহ তা‘আলার সীমার মধ্যে অবস্থানকারী ও সীমা লঙ্ঘনকারীর দৃষ্টান্ত হলো, একদল লোক জাহাজে আরোহণ করল, লটারীর মাধ্যমে কেউ উপর তলায় আবার কেউ নিচ তলায় স্থান পেল। নিচের তলার লোকদের পানির প্রয়োজন হলে উপরের তলা দিয়ে পানি আনতে যায়। ফলে নিচ তলার লোকেরা বলল, আমরা যদি জাহাজে আমাদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই, তাহলে উপর তলার লোকদের কষ্ট দেওয়া লাগত না। এখন যদি উপর তলার লোকেরা তাদের (জাহাজ ছিদ্র করার) কাজে ছেড়ে দেয় এবং কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের কাজে বাধা দেয় তাহলে তারা নিজেরাও বেঁচে যাবে আর তারাও বাঁচাবে

নু‘মান ইবন বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

4 - «مَثَلُ القَائِمِ عَلَى حُدُودِ اللَّهِ وَالوَاقِعِ فِيهَا، كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ، فَأَصَابَ بَعْضُهُمْ أَعْلاَهَا وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا، فَكَانَ الَّذِينَ فِي أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوْا مِنَ المَاءِ مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقَهُمْ، فَقَالُوا : لَوْ أَنَّا خَرَقْنَا فِي نَصِيبِنَا خَرْقًا وَلَمْ نُؤْذِ مَنْ فَوْقَنَا، فَإِنْ يَتْرُكُوهُمْ وَمَا أَرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعًا، وَإِنْ أَخَذُوا عَلَى أَيْدِيهِمْ نَجَوْا، وَنَجَوْا جَمِيعًا»

“আল্লাহ তা‘আলার সীমার মধ্যে অবস্থানকারী ও সীমা লঙ্ঘনকারীর দৃষ্টান্ত হলো, একদল লোক জাহাজে আরোহণ করল, লটারীর মাধ্যমে কেউ উপর তলায় আবার কেউ নিচ তলায় স্থান পেল। নিচের তলার লোকদের পানির প্রয়োজন হলে উপরের তলা দিয়ে পানি আনতে যায়। ফলে নিচ তলার লোকেরা বলল, আমরা যদি জাহাজে আমাদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই, তাহলে উপর তলার লোকদের কষ্ট দেওয়া লাগত না। এখন যদি উপর তলার লোকেরা তাদের (জাহাজ ছিদ্র করার) কাজে ছেড়ে দেয় এবং কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের কাজে বাধা দেয় তাহলে তারা নিজেরাও বেঁচে যাবে আর তারাও বাঁচাবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৯৩।]

হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :

এক. যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় আর যারা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তাতে বাধা দেয় না, তাদের অবস্থা ও পরিণতি একটি সুন্দর উপমা দিয়ে বুঝানো হয়েছে এ হাদীসে।

দুই. যখন কোন অন্যায় ও পাপের কারণে শাস্তি বা বিপর্যয় নেমে আসে, তখন অপরাধী ও নিরাপরাধ সকলেই এর শিকার হয়। তাই সামর্থানুযায়ী সকল অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করা জরুরী। এ অন্যায় কাজ দ্বারা আমি নিজে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হব সেটা বিবেচনা করা উচিত নয়। আমি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও অন্য মানুষ বা ভবিষ্যত প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিন. অন্যায় ও পাপ কাজে বাধা প্রদান করার মধ্যে সকলের কল্যাণ নিহিত আছে।

চার. এ হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, ভাগ-বাটোয়ারা, দায়িত্ব বন্টন, কে আগে শুরু করবে ইত্যাদির ব্যাপারে লটারী করা জায়েয। আমরা কুরআন ও হাদীসে এ ধরনের কাজে লটারী করার দৃষ্টান্ত দেখতে পাই।

কিন্তু যেখানে টাকা পয়সা বা সম্পদের লেনদেন বা তারতম্য আছে সেখানে লটারী জায়েয নয়। যেমন আমাদের দেশে প্রচলিত বিভিন্ন লটারী। দশ টাকার টিকেট কিনে লাখ টাকা জেতার সম্ভাবনা ইত্যাদি জুয়ার শামিল।