১
ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি
লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
দাস-দাসীর ব্যাপারে ইয়াহূদীদের অবস্থান
ইয়াহূদীদের নিকট মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত: এক ভাগ হল ইসরাঈল সম্প্রদায়; আর অপর ভাগ হল বাকি সকল মানুষ।
আর ইসরাঈল সম্প্রদায়, তাদের বাইবেলের পুরাতন নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত কিছু শিক্ষা সাপেক্ষে তাদের কাউকে দাস-দাসী বানানোর বৈধতা রয়েছে। আর তারা ব্যতীত অন্যরা হল নীচু বা অধঃপতিত জাতি, তাদেরকে বন্দী ও জোর-জবরদস্তী করে দাস-দাসী বানানো সম্ভব; কেননা তারা এমন বংশধর যাদের কপালে আদিকাল থেকে লাঞ্ছনা ও অপমান লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাওরাতের প্রস্থান পর্বে (২১: ২-১১) এসেছে:
“যখন তুমি কোন ‘ইবরানী (হিব্রু জাতির) গোলাম ক্রয় করবে, তখন সে ছয় বছর খেদমত করবে এবং সপ্তম বছরে সে বিনা খরচে স্বাধীন হয়ে বেরিয়ে যাবে। সে যদি একা প্রবেশ করে, তবে সে একাই বের হয়ে যাবে; আর সে যদি কোন স্ত্রীর স্বামী হয়, তবে তার সাথে তার স্ত্রীও বের হয়ে যাবে; যদি তার মনিব তাকে কোন স্ত্রী দান করে এবং তার থেকে তার সন্তান-সন্ততির জন্ম হয়, তবে স্ত্রী ও তার সন্তানগুলো মনিবের হয়ে যাবে এবং সে একা বের হয়ে যাবে; কিন্তু গোলাম যখন বলবে: আমি আমার মনিব, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদেরকে ভালবাসি, আমি তাদেরকে ছেড়ে স্বাধীন হয়ে বের হয়ে যাব না— তখন তার মনিব তাকে ঈশ্বরের নিকট পেশ করবে এবং সে দরজা বা দরজার চৌকাঠের কাছে তাকে নিয়ে তুরপুন দিয়ে তার কান ছিদ্র করে দেবে, তাতে সে সারা জীবন তার মালিকের গোলাম হয়ে থাকবে। আর যখন কোন ব্যক্তি তার কন্যাকে দাসী হিসেবে বিক্রয় করবে, তবে সে গোলামদের মত স্বাধীন হয়ে বের হতে পারবে না; কিন্তু যে মনিব তাকে নিজের জন্য পছন্দ করে নিয়েছে সে যদি তার উপর খুশী হতে না পারে তবে তাকে টাকার বদলে ছেড়ে দিতে হবে। অন্য জাতির কোন লোকের কাছে তাকে বিক্রি করা চলবে না; কারণ তার প্রতি মনিব তার কর্তব্য করে নি। আর যদি মনিব তার ছেলের জন্য তাকে প্রস্তাব দিয়ে থাকে, তবে সে তার কন্যাদের অধিকার অনুযায়ী তার সাথে ব্যবহার করবে। যদি সে তার নিজের জন্য অন্য কোন দাসীকে গ্রহণ করে, তবে সে তার ভরণ-পোষণ ও আচার-ব্যবহারে কোনরূপ ঘাটতি করবে না। যদি সে তার সাথে এই তিন পদ্ধতির কোন এক পদ্ধতি অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে বিনামূল্যে কোন বিনিময় ছাড়াই তাকে চলে যেতে দিতে হবে।
যদি ‘ইবরানী (হিব্রু জাতি) ভিন্ন অন্যদেরকে দাস-দাসী বানানো হয় তবে তা হবে বন্দী করে ও জোর খাটিয়ে। কারণ, তারা বিশ্বাস করে যে, মর্যাদার দিক থেকে তাদের জাতি অন্যান্য জাতির চেয়ে অনেক উপরে। তারা দাসত্ব প্রতিষ্ঠার এই পদ্ধতির ব্যাপারে তাদের তাওরাত থেকে দলীল পেশ করে বলে: নূহের ছেলে হাম [হাম হল কেনানের পিতা।] তার পিতাকে ক্রোধান্বিত করেছিল; কেননা নূহ কোন একদিন নেশা করেছিল, অতঃপর সে ঘুমন্ত অবস্থায় উলঙ্গ হয়ে গেল, অতঃপর হাম এই অবস্থায় তাকে দেখে ফেলল, অতঃপর ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে যখন নূহ এই ব্যাপারটি জানতে পারল, তখন সে রেগে গেল এবং তার বংশধরকে অভিশাপ দিল যারা কেনানের বংশধর বলে পরিচিত। আর তিনি বলেন (যেমনটি তাওরাতের সৃষ্টি পর্বের ৯: ২৫-২৬ -এ উল্লেখ আছে): “‘কানান অভিশপ্ত হোক! সে নিজের ভাইদের দাসানুদাস হবে।’ আরও সে বলল: ‘ধন্য হোক শেমের পরমেশ্বর! কানান তার দাস হোক!’” আর একই অধ্যায়ে বলা হয়েছে (৯:২৭) : “পরমেশ্বর যাফেথকে বিস্তৃত করুন, শেমের তাবুতে বাস করুক। আর কানান তার দাস হোক!”
বৃটেনের রাণী প্রথম এলিজাবেথ এই ভাষ্যের সূত্র ধরেই দাস-ব্যবসাকে বৈধ মনে করেন এবং এ ক্ষেত্রে অনেক ‘অবদান’ রাখেন। বিষয়টি অচিরেই স্পষ্ট হবে।
আর ইসরাঈল সম্প্রদায়, তাদের বাইবেলের পুরাতন নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত কিছু শিক্ষা সাপেক্ষে তাদের কাউকে দাস-দাসী বানানোর বৈধতা রয়েছে। আর তারা ব্যতীত অন্যরা হল নীচু বা অধঃপতিত জাতি, তাদেরকে বন্দী ও জোর-জবরদস্তী করে দাস-দাসী বানানো সম্ভব; কেননা তারা এমন বংশধর যাদের কপালে আদিকাল থেকে লাঞ্ছনা ও অপমান লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাওরাতের প্রস্থান পর্বে (২১: ২-১১) এসেছে:
“যখন তুমি কোন ‘ইবরানী (হিব্রু জাতির) গোলাম ক্রয় করবে, তখন সে ছয় বছর খেদমত করবে এবং সপ্তম বছরে সে বিনা খরচে স্বাধীন হয়ে বেরিয়ে যাবে। সে যদি একা প্রবেশ করে, তবে সে একাই বের হয়ে যাবে; আর সে যদি কোন স্ত্রীর স্বামী হয়, তবে তার সাথে তার স্ত্রীও বের হয়ে যাবে; যদি তার মনিব তাকে কোন স্ত্রী দান করে এবং তার থেকে তার সন্তান-সন্ততির জন্ম হয়, তবে স্ত্রী ও তার সন্তানগুলো মনিবের হয়ে যাবে এবং সে একা বের হয়ে যাবে; কিন্তু গোলাম যখন বলবে: আমি আমার মনিব, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদেরকে ভালবাসি, আমি তাদেরকে ছেড়ে স্বাধীন হয়ে বের হয়ে যাব না— তখন তার মনিব তাকে ঈশ্বরের নিকট পেশ করবে এবং সে দরজা বা দরজার চৌকাঠের কাছে তাকে নিয়ে তুরপুন দিয়ে তার কান ছিদ্র করে দেবে, তাতে সে সারা জীবন তার মালিকের গোলাম হয়ে থাকবে। আর যখন কোন ব্যক্তি তার কন্যাকে দাসী হিসেবে বিক্রয় করবে, তবে সে গোলামদের মত স্বাধীন হয়ে বের হতে পারবে না; কিন্তু যে মনিব তাকে নিজের জন্য পছন্দ করে নিয়েছে সে যদি তার উপর খুশী হতে না পারে তবে তাকে টাকার বদলে ছেড়ে দিতে হবে। অন্য জাতির কোন লোকের কাছে তাকে বিক্রি করা চলবে না; কারণ তার প্রতি মনিব তার কর্তব্য করে নি। আর যদি মনিব তার ছেলের জন্য তাকে প্রস্তাব দিয়ে থাকে, তবে সে তার কন্যাদের অধিকার অনুযায়ী তার সাথে ব্যবহার করবে। যদি সে তার নিজের জন্য অন্য কোন দাসীকে গ্রহণ করে, তবে সে তার ভরণ-পোষণ ও আচার-ব্যবহারে কোনরূপ ঘাটতি করবে না। যদি সে তার সাথে এই তিন পদ্ধতির কোন এক পদ্ধতি অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে বিনামূল্যে কোন বিনিময় ছাড়াই তাকে চলে যেতে দিতে হবে।
যদি ‘ইবরানী (হিব্রু জাতি) ভিন্ন অন্যদেরকে দাস-দাসী বানানো হয় তবে তা হবে বন্দী করে ও জোর খাটিয়ে। কারণ, তারা বিশ্বাস করে যে, মর্যাদার দিক থেকে তাদের জাতি অন্যান্য জাতির চেয়ে অনেক উপরে। তারা দাসত্ব প্রতিষ্ঠার এই পদ্ধতির ব্যাপারে তাদের তাওরাত থেকে দলীল পেশ করে বলে: নূহের ছেলে হাম [হাম হল কেনানের পিতা।] তার পিতাকে ক্রোধান্বিত করেছিল; কেননা নূহ কোন একদিন নেশা করেছিল, অতঃপর সে ঘুমন্ত অবস্থায় উলঙ্গ হয়ে গেল, অতঃপর হাম এই অবস্থায় তাকে দেখে ফেলল, অতঃপর ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে যখন নূহ এই ব্যাপারটি জানতে পারল, তখন সে রেগে গেল এবং তার বংশধরকে অভিশাপ দিল যারা কেনানের বংশধর বলে পরিচিত। আর তিনি বলেন (যেমনটি তাওরাতের সৃষ্টি পর্বের ৯: ২৫-২৬ -এ উল্লেখ আছে): “‘কানান অভিশপ্ত হোক! সে নিজের ভাইদের দাসানুদাস হবে।’ আরও সে বলল: ‘ধন্য হোক শেমের পরমেশ্বর! কানান তার দাস হোক!’” আর একই অধ্যায়ে বলা হয়েছে (৯:২৭) : “পরমেশ্বর যাফেথকে বিস্তৃত করুন, শেমের তাবুতে বাস করুক। আর কানান তার দাস হোক!”
বৃটেনের রাণী প্রথম এলিজাবেথ এই ভাষ্যের সূত্র ধরেই দাস-ব্যবসাকে বৈধ মনে করেন এবং এ ক্ষেত্রে অনেক ‘অবদান’ রাখেন। বিষয়টি অচিরেই স্পষ্ট হবে।