১
ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি
লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
তালাক
বর্তমান যুগে এমন কেউ নেই, যে তালাকের কার্যকারিতার ব্যাপারে বিতর্ক করে। যখন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সংশোধন, সংস্কার ও সমন্বয় করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টার পরেও তাদের পক্ষে একই ছাদের নীচে জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে— তখন এ বিধানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
আর ইসলাম গৌরব ও মহত্বের দাবিদার যে, তা তালাককে বিধিবদ্ধ করেছে এবং তার বিধানসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে; আর পৃথক পৃথকভাবে প্রদত্ত তিন তালাকের মাঝে স্ত্রীকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দিয়েছে; শরী‘আতের বিধানাবলিতে বর্ণিত হিসাব অনুযায়ী (তিন তালাকের) প্রত্যেক তালাকের মাঝে একটা নির্দিষ্ট সময়কাল ইদ্দত নির্ধারিত করেছে। মানবরচিত সব বিধান মানুষের স্বভাব, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক, পারিবাকিভাবে জীবনযাপন ও সামাজিক বন্ধনের প্রতি লক্ষ্য করে ইসলামের মতো প্রজ্ঞাপূর্ণ বিধান নিয়ে আসতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
আর আধুনিক সভ্যতার প্রত্যেক আইন-ই তালাকের কথা বলে এবং তালাকের বিধান গ্রহণ করে বিকৃত খ্রিষ্টাধর্ম বিধান সত্ত্বেও। খ্রিষ্টধর্মের মতে, বিয়ে এমন এক বন্ধন, যা আকাশে সম্পন্ন হয়। সে বন্ধনকে আকাশেই শুধু বিচ্ছিন্ন করা যাব।
আমরা অস্বীকার করি না যে, কোন কোন স্বামী তালাকের প্রয়োগে ভুল করে থাকে; বিশেষ করে যেখানে অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতাপ্রধান সমাজগুলোতে। প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঘটিত ভুলের দায়ভার মূল নিয়ম ও বিধানের উপর চাপিয়ে দেয়াটা অগ্রহণযোগ্য। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে, দুনিয়ায় এমন লোকও আছে, যাকে ডাক্তার নির্দিষ্ট পরিমাণ ঔষধ নির্দিষ্ট সময়ে সেবন করার জন্য বলে দেয়; কিন্তু সেই রোগী ব্যবস্থাপত্রের বিপরীত কাজ করে এবং ভুল করে; তখন কিন্তু তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে রোগীর উপরই বর্তায়, যদি সে রোগী বিবেকবান ও জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হয়।
তবে প্রশ্নপত্রে যে কথা বলা হয়েছে যে, স্বামী তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারে কোনো যথাযথ কারণ প্রদর্শন এবং ফলাফল ভোগ ব্যতীত— এ কথাটি সঠিক নয় এবং তা ইসলাম ও তার বিধিবিধানের কোথাও নেই। বরং স্ত্রী যখন তার স্বামীর নিকট থেকে দুর্ব্যবহার অথবা উপেক্ষার শিকার হয়, তবে সে তার স্বামীর সাথে সরাসরি প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে সন্ধির মাধ্যমে কিংবা দাম্পত্য জীবন ও সংসার বহাল রাখতে সহায়ক যেকোনো পদ্ধতিতে। যখন স্ত্রী এরূপ কোনো পথ খুঁজে না পাবে, তখন সে বিচারের আশ্রয় নেবে; বিচারকের নিকট যদি স্ত্রীর পক্ষে সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে তিনি বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার এবং স্বামী ও স্ত্রীর পরস্পর বিচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার হুকুম দেবেন, যদিও স্বামী তাতে রাজি না হয়।
আর ইসলাম গৌরব ও মহত্বের দাবিদার যে, তা তালাককে বিধিবদ্ধ করেছে এবং তার বিধানসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে; আর পৃথক পৃথকভাবে প্রদত্ত তিন তালাকের মাঝে স্ত্রীকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দিয়েছে; শরী‘আতের বিধানাবলিতে বর্ণিত হিসাব অনুযায়ী (তিন তালাকের) প্রত্যেক তালাকের মাঝে একটা নির্দিষ্ট সময়কাল ইদ্দত নির্ধারিত করেছে। মানবরচিত সব বিধান মানুষের স্বভাব, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক, পারিবাকিভাবে জীবনযাপন ও সামাজিক বন্ধনের প্রতি লক্ষ্য করে ইসলামের মতো প্রজ্ঞাপূর্ণ বিধান নিয়ে আসতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
আর আধুনিক সভ্যতার প্রত্যেক আইন-ই তালাকের কথা বলে এবং তালাকের বিধান গ্রহণ করে বিকৃত খ্রিষ্টাধর্ম বিধান সত্ত্বেও। খ্রিষ্টধর্মের মতে, বিয়ে এমন এক বন্ধন, যা আকাশে সম্পন্ন হয়। সে বন্ধনকে আকাশেই শুধু বিচ্ছিন্ন করা যাব।
আমরা অস্বীকার করি না যে, কোন কোন স্বামী তালাকের প্রয়োগে ভুল করে থাকে; বিশেষ করে যেখানে অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতাপ্রধান সমাজগুলোতে। প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঘটিত ভুলের দায়ভার মূল নিয়ম ও বিধানের উপর চাপিয়ে দেয়াটা অগ্রহণযোগ্য। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে, দুনিয়ায় এমন লোকও আছে, যাকে ডাক্তার নির্দিষ্ট পরিমাণ ঔষধ নির্দিষ্ট সময়ে সেবন করার জন্য বলে দেয়; কিন্তু সেই রোগী ব্যবস্থাপত্রের বিপরীত কাজ করে এবং ভুল করে; তখন কিন্তু তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে রোগীর উপরই বর্তায়, যদি সে রোগী বিবেকবান ও জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হয়।
তবে প্রশ্নপত্রে যে কথা বলা হয়েছে যে, স্বামী তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারে কোনো যথাযথ কারণ প্রদর্শন এবং ফলাফল ভোগ ব্যতীত— এ কথাটি সঠিক নয় এবং তা ইসলাম ও তার বিধিবিধানের কোথাও নেই। বরং স্ত্রী যখন তার স্বামীর নিকট থেকে দুর্ব্যবহার অথবা উপেক্ষার শিকার হয়, তবে সে তার স্বামীর সাথে সরাসরি প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে সন্ধির মাধ্যমে কিংবা দাম্পত্য জীবন ও সংসার বহাল রাখতে সহায়ক যেকোনো পদ্ধতিতে। যখন স্ত্রী এরূপ কোনো পথ খুঁজে না পাবে, তখন সে বিচারের আশ্রয় নেবে; বিচারকের নিকট যদি স্ত্রীর পক্ষে সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে তিনি বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার এবং স্বামী ও স্ত্রীর পরস্পর বিচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার হুকুম দেবেন, যদিও স্বামী তাতে রাজি না হয়।