১
ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি
লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
প্রকৃত স্বাধীনতা
যখন আমরা বলেছি যে, মানুষ আকিদা বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাধীন নয়; বরং তার বিশ্বাসকে এক আল্লাহকে রব ও মা‘বুদ হিসেবে দৃঢ় বিশ্বাসকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করাটা তার জন্য আবশ্যক, তার জন্য তিনি ভিন্ন অন্য কারও নিকট মস্তক অবনত করা বা আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে অন্য কারও আনুগত্য করা অবৈধ।
আমরা এই কথা এ জন্য বলেছি যে, এটাই এই জমিনে প্রকৃত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ও গ্যারান্টি দেয়। ... কেন?
কারণ, প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত মানবতা অনেক রাষ্ট্রে বিভিন্ন তাগুতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে; যে তাগুতগুলোর নিকট মানবতা মস্তকাবনত হয়েছে এবং এর গর্দানসমূহ তার নিকট নীচ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাধীনতার সকল অর্থ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট মস্তকাবনতকারী ঐসব ব্যক্তিদের মনের মধ্যে মানবতার সম্মানবোধের সকল চিহ্ন একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
তাই বিনয়-নম্রতা, ভয়ভীতি, ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ— সবকিছুই শুধু ঐ আল্লাহর জন্য হবে, যিনি চুড়ান্তভাবে সকল উত্তম গুণের অধিকারী; অতএব তিনি এককভাবে অভাবমুক্ত সর্বশক্তিমান ক্ষমতাবান প্রভাবশালী ন্যায়বিচারক। তিনি যুলুম করা থেকে পবিত্র; কারণ, যুলুম হল দুর্বলতা ও অক্ষমতার অন্যতম নিদর্শন। আর আল্লাহ তা‘আলা এই ধরনের সকল দুর্বলতা থেকে মুক্ত।
যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের অনুগত হয়, সে তার রব ব্যতীত অন্যের প্রতি যতটুকু অনুগত ও বশ্য, নিজের স্বাধীনতাকে ততটুকু সে হ্রাস করে।
আর তাগুত, যারা মানুষের সাধারণ স্বাধীনতা হরণ করেছে, তারা অগণিত। যেমন, জ্ঞানপাপী আলেমগণ, পণ্ডিতবর্গ, ধর্মযাজক, জ্যোতিষীবৃন্দ, শাসকশ্রেণী, দিরহাম, দিনার (টাকা-পয়সা) ইত্যাদি।
আর এসব দল ও গোষ্ঠীর নিকট বিষয়টি এতই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত তারা তাদের প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির সাথে মিলতাল করে রাসূলগণের উপর নাযিলকৃত কিতাবগুলোকে পরিবর্তন করে এবং এগুলোর মধ্যে কিতাবের অংশ নয় এমন বানোয়াট বক্তব্যের অনুপ্রবেশ ঘটায়। এই কার্যক্রম তাদেরকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করেছে যে, তারা নিজেদেরকে সওয়াব দান, শাস্তি প্রদান এবং পাপমোচন সনদ প্রদানের মাধ্যমে পাপ থেকে নিষ্কৃতিদান ও জান্নাতুল ফেরদৌসে যাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করার অধিকারী বানিয়ে নিয়েছে।
আর আমাদের সমকালীন সময়ে এর নমুনা হল বস্তুবাদী বাড়াবাড়ি, ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং প্রবৃত্তি, আসক্তি ও খেয়াল-খুশির দাসত্ব করা।
আর সেই কারণে আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং এক আল্লাহর আনুগত্যের দিকে আহ্বান করা মানেই প্রকৃত স্বাধীনতার সৌধ প্রতিষ্ঠা এবং যালিমগণ কর্তৃক মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া অমানবিক শর্তসমূহ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান। আর এরই মাধ্যমে মানুষের স্বাধীনতা ঐসব স্বৈরাচারী দম্ভীগণ কর্তৃক হরণ থেকে রক্ষা পাবে। ফলে মানুষ তার মাথাকে কোনভাবেই কোন মানুষের নিকটই (সে যা-ই হোক) অবনত বা নীচু করবে না। কারণ, তাহলে তা হবে বাতিলের কাছে মাথা অবনত করা এবং স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল।
আমরা এই কথা এ জন্য বলেছি যে, এটাই এই জমিনে প্রকৃত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ও গ্যারান্টি দেয়। ... কেন?
কারণ, প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত মানবতা অনেক রাষ্ট্রে বিভিন্ন তাগুতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে; যে তাগুতগুলোর নিকট মানবতা মস্তকাবনত হয়েছে এবং এর গর্দানসমূহ তার নিকট নীচ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাধীনতার সকল অর্থ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট মস্তকাবনতকারী ঐসব ব্যক্তিদের মনের মধ্যে মানবতার সম্মানবোধের সকল চিহ্ন একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
তাই বিনয়-নম্রতা, ভয়ভীতি, ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ— সবকিছুই শুধু ঐ আল্লাহর জন্য হবে, যিনি চুড়ান্তভাবে সকল উত্তম গুণের অধিকারী; অতএব তিনি এককভাবে অভাবমুক্ত সর্বশক্তিমান ক্ষমতাবান প্রভাবশালী ন্যায়বিচারক। তিনি যুলুম করা থেকে পবিত্র; কারণ, যুলুম হল দুর্বলতা ও অক্ষমতার অন্যতম নিদর্শন। আর আল্লাহ তা‘আলা এই ধরনের সকল দুর্বলতা থেকে মুক্ত।
যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের অনুগত হয়, সে তার রব ব্যতীত অন্যের প্রতি যতটুকু অনুগত ও বশ্য, নিজের স্বাধীনতাকে ততটুকু সে হ্রাস করে।
আর তাগুত, যারা মানুষের সাধারণ স্বাধীনতা হরণ করেছে, তারা অগণিত। যেমন, জ্ঞানপাপী আলেমগণ, পণ্ডিতবর্গ, ধর্মযাজক, জ্যোতিষীবৃন্দ, শাসকশ্রেণী, দিরহাম, দিনার (টাকা-পয়সা) ইত্যাদি।
আর এসব দল ও গোষ্ঠীর নিকট বিষয়টি এতই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত তারা তাদের প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির সাথে মিলতাল করে রাসূলগণের উপর নাযিলকৃত কিতাবগুলোকে পরিবর্তন করে এবং এগুলোর মধ্যে কিতাবের অংশ নয় এমন বানোয়াট বক্তব্যের অনুপ্রবেশ ঘটায়। এই কার্যক্রম তাদেরকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করেছে যে, তারা নিজেদেরকে সওয়াব দান, শাস্তি প্রদান এবং পাপমোচন সনদ প্রদানের মাধ্যমে পাপ থেকে নিষ্কৃতিদান ও জান্নাতুল ফেরদৌসে যাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করার অধিকারী বানিয়ে নিয়েছে।
আর আমাদের সমকালীন সময়ে এর নমুনা হল বস্তুবাদী বাড়াবাড়ি, ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং প্রবৃত্তি, আসক্তি ও খেয়াল-খুশির দাসত্ব করা।
আর সেই কারণে আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং এক আল্লাহর আনুগত্যের দিকে আহ্বান করা মানেই প্রকৃত স্বাধীনতার সৌধ প্রতিষ্ঠা এবং যালিমগণ কর্তৃক মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া অমানবিক শর্তসমূহ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান। আর এরই মাধ্যমে মানুষের স্বাধীনতা ঐসব স্বৈরাচারী দম্ভীগণ কর্তৃক হরণ থেকে রক্ষা পাবে। ফলে মানুষ তার মাথাকে কোনভাবেই কোন মানুষের নিকটই (সে যা-ই হোক) অবনত বা নীচু করবে না। কারণ, তাহলে তা হবে বাতিলের কাছে মাথা অবনত করা এবং স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল।