hadith book logo

ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি

লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫

সমতা বা সমানাধিকার বিষয়ক প্রশ্নসমূহ

দাসপ্রথার নিন্দা বা দাসপ্রথার বিলুপ্তি না করে দাসের উপর স্বাধীন মানুষের প্রাধান্য দেয়ার পক্ষ সমর্থনের অর্থ কী?

কেন বলা হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে সমান করে সৃষ্টি করেছেন; যেখানে ধর্মীয় কারণে অসমতাকে গ্রহণ করা হয়? যেমনিভাবে মুসলিমকে অমুসলিমের উপর প্রাধান্য দেয়ার কথা প্রকাশ করা হয়, যদিও শেষোক্ত ব্যক্তিটি আহলে কিতাব হয়, কিংবা সে অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী হয়, অথবা অবিশ্বাসী তথা নাস্তিক হয়?

আর ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে আমরা আইনী ও সামাজিক ক্ষেত্রেও এই ধরনের অসমতা পাই।

আর আমরাও প্রশ্ন করি, একই ধরনের অধিকার নিয়ে মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইয়াহূদী এবং অবশিষ্ট বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতির সাথে বসবাস করার সাথে ইসলামী আকীদা ও বিশ্বাসের কোন বিরোধ আছে কি? বিশেষ করে মুসলিম ও অমুসলিমের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য করা ছাড়াই শরী‘আতের আইন বাস্তবায়নের বিষয়টিতে?

আর এক শ্রেণীর লোককে অপর শ্রেণীর উপর প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টি গ্রহণ করা হবে কেন? আর এটা এমন একটা বিষয়, যার ভিতরে আমারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দেখতে পাই:

১. একাধিক স্বামী গ্রহণ নিষিদ্ধ; অথচ একাধিক স্ত্রী গ্রহণ বৈধ।

২. স্বামী তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারে কোনো যথাযথ কারণ প্রদর্শন এবং ফলাফল ভোগ ব্যতীত; যেখানে নারীর পক্ষে অনেক কষ্টে এবং শুধুমাত্র আইনী প্রক্রিয়াতেই কেবল তালাক পেতে পারে।

৩. সন্তানদের উপর অভিভাবকত্বের অধিকার পিতার জন্য স্বীকৃত, যদিও শিশুরা তার মায়ের লালন-পালনে থাকে।

৪. উত্তরাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা দেখতে পাই যে, নারীর অংশ অধিকাংশ সময় পুরুষের অংশের অর্ধেকের চেয়েও কম হয়ে থাকে।

পরিশেষে, আমরা আল্লাহর ক্ষেত্রে যৌক্তিক সম্পর্ক কোথায় পাব, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের সকলকে ভালবাসেন; একই সাথে আমরা আল-কুরআনের বক্তব্যের মধ্যে পাচ্ছি যে, আল-কুরআন কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করতে উৎসাহিত করছে?

আর যে ইসলামী রাষ্ট্রের মধ্যে শরী‘আতের নিয়ম-কানুনসমূহ বাস্তবায়ন করা হয়... সেখানে কি (ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক ইত্যাদি সকল প্রকারের) বহুত্বের অস্তিত্বকে কি স্বাধীনতা ও সমতার নিশ্চয়তা প্রদানপূর্বক আল্লাহর অনুগ্রহ বলে বিবেচনা করা হবে, নাকি স্বৈরাচারী কায়দায় সকলের উপর শরী‘আত চাপিয়ে দেয়া হয়, যেমনটি আমরা বর্তমান সময়ে অনেক ইসলামী রাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ করছি?