১
ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি
লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
উত্তরাধিকার (الميراث):
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষের অংশ নারীর অংশ থেকে ভিন্ন; আর তার কয়েকটি কারণ রয়েছে:
১. উত্তারাধিকারের বিষয়টি ইসলামের সাধারণ নিয়ম-কানুনের অন্যতম একটি দিক; সুতরাং তা পুরুষ ও নারীর সাথে সম্পৃক্ত সার্বিক দায়দায়িত্ব ও বিধিবিধানেরই অনুগামী। এ বিধিবিধানে যে ভিন্নতা রয়েছে তার কারণ এই সাধারণ বিধান যে, সব ধরনের কর্মীদের মধ্যে সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার অগ্রহনযোগ্য। বরং তাদের জন্য অংশ বরাদ্দ হবে তাদের কর্মকাণ্ড ও দায়দায়িত্ব অনুযায়ী। তাই পুরুষগণ যদিও এক জাত, কিন্তু সরকারী ও বেসরকারী সকল আইন ও বিধানেই তাদের সবার বেতন ও পদ সমান হয় না। এই ধরনের ব্যবধান তৈরি হয় তাদের কর্মকাণ্ডের ধরন, তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করে। আর এইভাবে ছাড়া জীবনও চলতে পারে না; সমতা বা সমানাধিকারের নীতিতে এই ধরনের ব্যবধানের কোনো প্রভাবও বিবেচনা করা হয় না।
২. ইসলামী বিধানে পুরুষের উপর আরোপিত দায়-দায়িত্বের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করেই পুরুষের অংশ বেশি। কেননা, পুরুষকেই মোহর, [স্ত্রীর] থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ বিয়ের সকল ব্যয়ভার ও দায়িত্ব একাই বহন করতে হয়।
এই বিধানকে আরও ব্যাখ্যা করি: ধরে নিই যে, কোন ব্যক্তি মারা গেল এবং রেখে গেল এক ছেলে ও এক মেয়ে; এমতাবস্থায় ছেলে তার বোনের দ্বিগুণ অংশ পেয়েছিল। অতঃপর তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অংশ গ্রহণ করল এবং উভয়ে বিয়ে করল। এ ক্ষেত্রে ছেলে সারা জীবন তার স্ত্রীর মোহর ও থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে দায়বদ্ধ; অথচ তার বোনের বিয়ে হলে সে তার স্বামী থেকেও মোহর গ্রহণ করবে; কিন্তু তার বিয়েতে কিংবা তার সাংসারিক খরচের জন্য তার অংশ থেকে কোন কিছুই ব্যয় করার প্রয়োজন হবে না।
একইভাবে ভুলজনিত হত্যার রক্তপণ পরিশোধে হত্যাকারীকে সহযোগিতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন নিজ গোষ্ঠী ও আত্মীয়-স্বজনের পুরুষ ব্যক্তিগণ, নারীরা নয়।
এর থেকেই সুস্পষ্ট হয় যে, ইসলামী বিধি-বিধানে পুরুষগণকে কি পরিমাণ অর্থনৈতিক ব্যয়ভার বহন করতে হয়, যা নারীদেরকে বহন করতে হয় না। আর এ জন্য আমাদের জেনে রাখা আবশ্যক যে, ইসলামী শরী‘আত মানুষের মনগড়া ঐ অত্যাচারী শাসনতন্ত্র ও ও মতবাদ থেকে ভিন্ন, যা আজকের বিশ্বের অনেক ভূখণ্ডকে শাসন করছে; যেখানে পিতা তার কন্যার বয়স আঠারোতে পৌঁছলে তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যায় ও সম্পর্ক ছিন্ন করে, ফলে সেই কন্যা নিজের জীবন-জীবিকার সন্ধানে বের হয়ে পড়ে; অনেক ক্ষেত্রে তা তার ইয্যত ও সচ্চরিত্র বাবদ হয়ে থাকে।
কিন্তু ইসলামে, কন্যা বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তার পিতা অথবা শরীয়ত অনুযায়ী পিতার স্থলাভিষিক্ত অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
বিধিবিধান ও নৈতিকতার উপর ভিত্তি করে ইসলামের বিধানে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা সম্মান ও ইয্যতের বিনময়ে হয় না। কেননা, ইয্যত ও মর্যাদা বিনষ্ট হওয়া মানে গোটা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া। যুবক ও যুবতীরা তাদের যৌবনের বেপরোয়া চালচলনের সময়কালে সাময়িক স্বাদ গ্রহণ করে, কিন্তু তার পরিণাম তো ধ্বংস, পারিবারিক ভাঙ্গন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন এবং পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার মত বিপর্যয়। ইউরোপ ও ইউরোপের অনুসারী দেশগুলোর পথ-নারী এবং ম্যাগাজিন ও ফিল্মের তরুণী— সব তো এই ধ্বংসাত্মক নিয়মের কুফল।
৩. উত্তরাধিকারের মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হল বস্তুগত দিক। কারণ, তা বিবাহ ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এটা যেন একটা বিশুদ্ধ ফলাফল বের করার জন্য যোগের পর বিয়োগের কাজ। অর্থাৎ: উত্তরাধিকারের মধ্যে বৃদ্ধিটুকু প্রাধান্য দেওয়ার বিষয় নয়; বরং তা হল নিরেট বস্তুগত প্রতিদান।
আর মুসলিম নারীর অমুসলিমের সাথে বিয়ে-শাদীর অধিকার নিয়ে করা প্রশ্ন সম্বন্ধে কথা হল, এটা ইসলামী শরী‘আতের সামগ্রিক নিয়ম-নীতিরই অন্তর্ভুক্ত। আর আমরা যেমনটি সমানাধিকার প্রসঙ্গে আমাদের দেয়া জবাবে ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত আলোচনা করে বলেছিলাম যে, জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সমাজের সামরিক ব্যক্তিবর্গ ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গরে মতো কোন কোন গোষ্ঠীকে অপর গোষ্ঠীর সাথে বিয়ে-শাদী করতে বাধা প্রদান করা হয়। দুনিয়ার এই নিয়মে কিছু বৈষম্য আছে, যাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই এবং তা সমানাধিকারের সাধারণ নীতিকেও লঙ্ঘন করে না।
১. উত্তারাধিকারের বিষয়টি ইসলামের সাধারণ নিয়ম-কানুনের অন্যতম একটি দিক; সুতরাং তা পুরুষ ও নারীর সাথে সম্পৃক্ত সার্বিক দায়দায়িত্ব ও বিধিবিধানেরই অনুগামী। এ বিধিবিধানে যে ভিন্নতা রয়েছে তার কারণ এই সাধারণ বিধান যে, সব ধরনের কর্মীদের মধ্যে সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার অগ্রহনযোগ্য। বরং তাদের জন্য অংশ বরাদ্দ হবে তাদের কর্মকাণ্ড ও দায়দায়িত্ব অনুযায়ী। তাই পুরুষগণ যদিও এক জাত, কিন্তু সরকারী ও বেসরকারী সকল আইন ও বিধানেই তাদের সবার বেতন ও পদ সমান হয় না। এই ধরনের ব্যবধান তৈরি হয় তাদের কর্মকাণ্ডের ধরন, তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করে। আর এইভাবে ছাড়া জীবনও চলতে পারে না; সমতা বা সমানাধিকারের নীতিতে এই ধরনের ব্যবধানের কোনো প্রভাবও বিবেচনা করা হয় না।
২. ইসলামী বিধানে পুরুষের উপর আরোপিত দায়-দায়িত্বের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করেই পুরুষের অংশ বেশি। কেননা, পুরুষকেই মোহর, [স্ত্রীর] থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ বিয়ের সকল ব্যয়ভার ও দায়িত্ব একাই বহন করতে হয়।
এই বিধানকে আরও ব্যাখ্যা করি: ধরে নিই যে, কোন ব্যক্তি মারা গেল এবং রেখে গেল এক ছেলে ও এক মেয়ে; এমতাবস্থায় ছেলে তার বোনের দ্বিগুণ অংশ পেয়েছিল। অতঃপর তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অংশ গ্রহণ করল এবং উভয়ে বিয়ে করল। এ ক্ষেত্রে ছেলে সারা জীবন তার স্ত্রীর মোহর ও থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে দায়বদ্ধ; অথচ তার বোনের বিয়ে হলে সে তার স্বামী থেকেও মোহর গ্রহণ করবে; কিন্তু তার বিয়েতে কিংবা তার সাংসারিক খরচের জন্য তার অংশ থেকে কোন কিছুই ব্যয় করার প্রয়োজন হবে না।
একইভাবে ভুলজনিত হত্যার রক্তপণ পরিশোধে হত্যাকারীকে সহযোগিতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন নিজ গোষ্ঠী ও আত্মীয়-স্বজনের পুরুষ ব্যক্তিগণ, নারীরা নয়।
এর থেকেই সুস্পষ্ট হয় যে, ইসলামী বিধি-বিধানে পুরুষগণকে কি পরিমাণ অর্থনৈতিক ব্যয়ভার বহন করতে হয়, যা নারীদেরকে বহন করতে হয় না। আর এ জন্য আমাদের জেনে রাখা আবশ্যক যে, ইসলামী শরী‘আত মানুষের মনগড়া ঐ অত্যাচারী শাসনতন্ত্র ও ও মতবাদ থেকে ভিন্ন, যা আজকের বিশ্বের অনেক ভূখণ্ডকে শাসন করছে; যেখানে পিতা তার কন্যার বয়স আঠারোতে পৌঁছলে তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যায় ও সম্পর্ক ছিন্ন করে, ফলে সেই কন্যা নিজের জীবন-জীবিকার সন্ধানে বের হয়ে পড়ে; অনেক ক্ষেত্রে তা তার ইয্যত ও সচ্চরিত্র বাবদ হয়ে থাকে।
কিন্তু ইসলামে, কন্যা বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তার পিতা অথবা শরীয়ত অনুযায়ী পিতার স্থলাভিষিক্ত অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
বিধিবিধান ও নৈতিকতার উপর ভিত্তি করে ইসলামের বিধানে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা সম্মান ও ইয্যতের বিনময়ে হয় না। কেননা, ইয্যত ও মর্যাদা বিনষ্ট হওয়া মানে গোটা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া। যুবক ও যুবতীরা তাদের যৌবনের বেপরোয়া চালচলনের সময়কালে সাময়িক স্বাদ গ্রহণ করে, কিন্তু তার পরিণাম তো ধ্বংস, পারিবারিক ভাঙ্গন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন এবং পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার মত বিপর্যয়। ইউরোপ ও ইউরোপের অনুসারী দেশগুলোর পথ-নারী এবং ম্যাগাজিন ও ফিল্মের তরুণী— সব তো এই ধ্বংসাত্মক নিয়মের কুফল।
৩. উত্তরাধিকারের মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হল বস্তুগত দিক। কারণ, তা বিবাহ ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এটা যেন একটা বিশুদ্ধ ফলাফল বের করার জন্য যোগের পর বিয়োগের কাজ। অর্থাৎ: উত্তরাধিকারের মধ্যে বৃদ্ধিটুকু প্রাধান্য দেওয়ার বিষয় নয়; বরং তা হল নিরেট বস্তুগত প্রতিদান।
আর মুসলিম নারীর অমুসলিমের সাথে বিয়ে-শাদীর অধিকার নিয়ে করা প্রশ্ন সম্বন্ধে কথা হল, এটা ইসলামী শরী‘আতের সামগ্রিক নিয়ম-নীতিরই অন্তর্ভুক্ত। আর আমরা যেমনটি সমানাধিকার প্রসঙ্গে আমাদের দেয়া জবাবে ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত আলোচনা করে বলেছিলাম যে, জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সমাজের সামরিক ব্যক্তিবর্গ ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গরে মতো কোন কোন গোষ্ঠীকে অপর গোষ্ঠীর সাথে বিয়ে-শাদী করতে বাধা প্রদান করা হয়। দুনিয়ার এই নিয়মে কিছু বৈষম্য আছে, যাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই এবং তা সমানাধিকারের সাধারণ নীতিকেও লঙ্ঘন করে না।