১
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহুবিবাহ
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মদ আলী সাবুনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
৩-আয়েশা বিনতে আবু বকর রা.
একমাত্র আয়েশা রা. কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুমারী অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন। তার জীবন সাথীদের মধ্যে তিনি ছাড়া অন্য কেউ অবিবাহিত ছিলেন না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সকল স্ত্রীর মাঝে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশী মেধাবী ও স্মৃতি শক্তির অধিকারিণী। অধিকাংশ পুরুষদের মাঝেও তিনি ছিলেন বেশী জ্ঞানী। কারণ অনেক বড় বড় সাহাবীও সমস্যাপূর্ণ বিভিন্ন হুকুম-আহকাম তার নিকট সমাধান চাইতেন এবং তিনি তা সমাধান করে দিতেন।
প্রখ্যাত সাহাবী আবু মুসা আশাআরী রা. বর্ণনা করেন,“আমরা আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ যে কোন সমস্যায় পড়লে তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করলেই নির্দেশনা বা সমাধান পেতাম।”
আবু যোহা বর্ণনা করেন মাসরুক থেকে। তিনি বলেন: “অনেক বড় বড় সাহাবীকে আয়েশা রা. এর নিকট ফারায়েয বা উত্তরাধিকারীদের মাঝে সম্পদ বণ্টনের বিধিবিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে দেখছি।”
উরওয়া বিন যুবাইর বলেন: “চিকিৎসা, ফিকাহ এবং কবিতা বিষয়ে আয়েশা রা. থেকে অধিক কোন জ্ঞানী মহিলাকে দেখি নি।”
বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। হাদীসের গ্রন্থগুলো তার বিশাল জ্ঞান-বুদ্ধির সাক্ষ্য দেয়।
সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা রা. এবং আবদুল্লাহ বিন উমর রা. ছাড়া আয়েশা রা. থেকে বেশী কোন পুরুষ বর্ণনাকারীর হাদীস বর্ণিত হয় নি।
অন্যান্য সকল সহধর্মিণীদের চেয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা রা. কে বেশী ভালবাসতেন কিন্তু দাম্পত্য জীবনে দিন বণ্টনের ক্ষেত্র সকলের মাঝে সমতা রক্ষা করতেন এবং বলতেন “হে আল্লাহ এ দিন বণ্টন আমার আওতাভুক্ত। সুতরাং যে বিষয়টি আমার আওতায় নেই (ভালবাসা ও মনের টান) সে বিষয়ে আপনি আমাকে ধরিয়েন না।”
যখন আয়াতে তাখয়ীর তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীগণ তার বিবাহ বন্ধনে থাকা না থাকার বিষয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম আয়েশা রা. কে দিয়ে শুরু করলেন।
বললেন: “তোমার নিকট আমি একটি বিষয় উল্লেখ করব সে বিষয়ে তুমি তোমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ ছাড়া তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিবে না।”
আয়েশা রা. বলেন: অথচ তিনি জানেন যে, আমার পিতা-মাতা আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিচ্ছেদ হওয়ার নির্দেশ দিবেন না।
যাহোক আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সামনে তেলাওয়াত করলেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا
“হে নবী, আপনার পত্নীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার বিলাসিতা কামনা কর তবে আস, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় নেই।” (সূরা আহযাব: ২৮)
তখন আয়েশা রা. বললেন: এ ব্যাপারেও কি পিতা-মাতার সাথে আমাকে পরামর্শ করতে হবে!! আমি নিশ্চয় আল্লাহ,রাসূল এবং পরকাল চাই।
আয়েশা রা. এর সম্মানিত পিতা আবু বকর সিদ্দীক রা. এর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়তা পার্থিব জীবনে আবু বকর রা. এর জন্য এক পরম প্রাপ্তি এবং প্রতিদান। অন্য দিকে এটি ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র সুন্নাহ,বিবাহ ও দাম্পত্য সংক্রান্ত ফযিলত ও শরীয়তের বিধিবিধান বিশেষ করে নারী সম্পর্কীয় বিষাদীর প্রচার-প্রসারে উৎকৃষ্টতম মাধ্যম। বিষয়টি আমরা ইতোপূর্বে শিক্ষা মূলক তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে আলোচনা করেছি।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সকল স্ত্রীর মাঝে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশী মেধাবী ও স্মৃতি শক্তির অধিকারিণী। অধিকাংশ পুরুষদের মাঝেও তিনি ছিলেন বেশী জ্ঞানী। কারণ অনেক বড় বড় সাহাবীও সমস্যাপূর্ণ বিভিন্ন হুকুম-আহকাম তার নিকট সমাধান চাইতেন এবং তিনি তা সমাধান করে দিতেন।
প্রখ্যাত সাহাবী আবু মুসা আশাআরী রা. বর্ণনা করেন,“আমরা আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ যে কোন সমস্যায় পড়লে তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করলেই নির্দেশনা বা সমাধান পেতাম।”
আবু যোহা বর্ণনা করেন মাসরুক থেকে। তিনি বলেন: “অনেক বড় বড় সাহাবীকে আয়েশা রা. এর নিকট ফারায়েয বা উত্তরাধিকারীদের মাঝে সম্পদ বণ্টনের বিধিবিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে দেখছি।”
উরওয়া বিন যুবাইর বলেন: “চিকিৎসা, ফিকাহ এবং কবিতা বিষয়ে আয়েশা রা. থেকে অধিক কোন জ্ঞানী মহিলাকে দেখি নি।”
বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। হাদীসের গ্রন্থগুলো তার বিশাল জ্ঞান-বুদ্ধির সাক্ষ্য দেয়।
সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা রা. এবং আবদুল্লাহ বিন উমর রা. ছাড়া আয়েশা রা. থেকে বেশী কোন পুরুষ বর্ণনাকারীর হাদীস বর্ণিত হয় নি।
অন্যান্য সকল সহধর্মিণীদের চেয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা রা. কে বেশী ভালবাসতেন কিন্তু দাম্পত্য জীবনে দিন বণ্টনের ক্ষেত্র সকলের মাঝে সমতা রক্ষা করতেন এবং বলতেন “হে আল্লাহ এ দিন বণ্টন আমার আওতাভুক্ত। সুতরাং যে বিষয়টি আমার আওতায় নেই (ভালবাসা ও মনের টান) সে বিষয়ে আপনি আমাকে ধরিয়েন না।”
যখন আয়াতে তাখয়ীর তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীগণ তার বিবাহ বন্ধনে থাকা না থাকার বিষয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম আয়েশা রা. কে দিয়ে শুরু করলেন।
বললেন: “তোমার নিকট আমি একটি বিষয় উল্লেখ করব সে বিষয়ে তুমি তোমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ ছাড়া তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিবে না।”
আয়েশা রা. বলেন: অথচ তিনি জানেন যে, আমার পিতা-মাতা আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিচ্ছেদ হওয়ার নির্দেশ দিবেন না।
যাহোক আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সামনে তেলাওয়াত করলেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا
“হে নবী, আপনার পত্নীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার বিলাসিতা কামনা কর তবে আস, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় নেই।” (সূরা আহযাব: ২৮)
তখন আয়েশা রা. বললেন: এ ব্যাপারেও কি পিতা-মাতার সাথে আমাকে পরামর্শ করতে হবে!! আমি নিশ্চয় আল্লাহ,রাসূল এবং পরকাল চাই।
আয়েশা রা. এর সম্মানিত পিতা আবু বকর সিদ্দীক রা. এর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়তা পার্থিব জীবনে আবু বকর রা. এর জন্য এক পরম প্রাপ্তি এবং প্রতিদান। অন্য দিকে এটি ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র সুন্নাহ,বিবাহ ও দাম্পত্য সংক্রান্ত ফযিলত ও শরীয়তের বিধিবিধান বিশেষ করে নারী সম্পর্কীয় বিষাদীর প্রচার-প্রসারে উৎকৃষ্টতম মাধ্যম। বিষয়টি আমরা ইতোপূর্বে শিক্ষা মূলক তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে আলোচনা করেছি।