১
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহুবিবাহ
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মদ আলী সাবুনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
৪-হাফসা বিনতে ওমর রা.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাফসা বিনতে ওমর রা. কে বিধবা অবস্থায় বিবাহ করেন। তার পূর্ব স্বামীর নাম ছিল খুনাইস বিন হুযাফাহ আল আনসারী রা.। তিনি বদর যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। তিনি ছিলেন সে সকল বীর যোদ্ধাদের একজন যারা জিহাদ, বীরত্ব ও সাহসিকতায় ইতিহাসের পাতায় চির স্মরণীয় হয়ে আছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রাণ প্রিয় তনয়া রোকইয়া রা. এর মৃত্যুর পর উমর রা. তার মেয়ে হাফসা রা. কে বিবাহের জন্য উসমান রা. এর নিকট প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে হাফসা রা. কে বিয়ে করে তার পিতা ওমর রা. এর প্রতি অভূতপূর্ব দয়া এবং অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন। এর মাধ্যমে তিনি উমর রা.কে অধিষ্ঠিত করেছেন মর্যাদা এবং সম্মানের সুউচ্চ আসনে।
ইমাম বুখারী রহ. প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন, উমর রা. এর কন্যা হাফসা রা. এর স্বামী খুনাইস বিন হুযাফা রা. কে হারিয়ে (তিনি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং মদীনায় মৃত্যু বরণ করেন) বিধবা হয়ে গেলে উমর রা. উসমান রা. এর সাথে সাক্ষাত করে বললেন: আপনি চাইলে হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিব।
উসমান রা. বললেন: এ বিষয়ে আমি চিন্তা-ভাবনা করে দেখব।
কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর উসমান রা. বললেন: আমার সিদ্ধান্ত হল, আমি হাফসা রা. কে বিয়ে করব না।
উমর রা. বলেন: এরপর আমি আবু বকর রা. এর নিকট গিয়ে বললাম: আপনি চাইলে হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিতে চাই। কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন। এতে আমি উসমান রা. এর চেয়ে তার উপর বেশী মর্মাহত হলাম।
কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি তাঁর সাথে হাফসার বিয়ে দিলাম।
অত:পর আবু বকর রা. আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আপনি আমার নিকট হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু আমি কোন উত্তর না দেয়ায় মর্মাহত হয়েছেন তাই না?
বললাম: হ্যাঁ।
আবু বকর রা. বললেন: “আমি এ জন্যেই উত্তর দিতে পারি নি যে, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাফসা রা. এর কথা স্মরণ করেছেন। কিন্তু তার গোপন কথা প্রকাশ করতে চাই নি। তিনি যদি বিয়ে না করতেন তবে আমি গ্রহণ করে নিতাম।” (সহীহ বুখারী)
এটিই হল প্রকৃত বিচক্ষণতা ও সত্যিকার বীরত্ব যা উমর ফারুক রা. এর কাজের মধ্যে ফুটে উঠেছে। তিনি তার আত্মমর্যাদাকে রক্ষা করতে চান। তাই উপযুক্ত পাত্রের নিকট নিজের কন্যার বিয়ের প্রস্তাব পেশ করতে তার মাঝে এতটুকুও সংকোচ দেখা যায় নি। কারণ মর্যাদাপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার জন্য বিবাহই হল সর্বোত্তম মাধ্যম।
কিন্তু ইসলামের বিধিবিধান আর সৌন্দর্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আমাদের সমাজ কোথায় অবস্থান করছে?! বর্তমানে মানুষ প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী লোকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের আশায় তাদের কন্যাদেরকে অবিবাহিত অবস্থায় রেখে দিচ্ছে!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রাণ প্রিয় তনয়া রোকইয়া রা. এর মৃত্যুর পর উমর রা. তার মেয়ে হাফসা রা. কে বিবাহের জন্য উসমান রা. এর নিকট প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে হাফসা রা. কে বিয়ে করে তার পিতা ওমর রা. এর প্রতি অভূতপূর্ব দয়া এবং অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন। এর মাধ্যমে তিনি উমর রা.কে অধিষ্ঠিত করেছেন মর্যাদা এবং সম্মানের সুউচ্চ আসনে।
ইমাম বুখারী রহ. প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন, উমর রা. এর কন্যা হাফসা রা. এর স্বামী খুনাইস বিন হুযাফা রা. কে হারিয়ে (তিনি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং মদীনায় মৃত্যু বরণ করেন) বিধবা হয়ে গেলে উমর রা. উসমান রা. এর সাথে সাক্ষাত করে বললেন: আপনি চাইলে হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিব।
উসমান রা. বললেন: এ বিষয়ে আমি চিন্তা-ভাবনা করে দেখব।
কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর উসমান রা. বললেন: আমার সিদ্ধান্ত হল, আমি হাফসা রা. কে বিয়ে করব না।
উমর রা. বলেন: এরপর আমি আবু বকর রা. এর নিকট গিয়ে বললাম: আপনি চাইলে হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিতে চাই। কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন। এতে আমি উসমান রা. এর চেয়ে তার উপর বেশী মর্মাহত হলাম।
কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি তাঁর সাথে হাফসার বিয়ে দিলাম।
অত:পর আবু বকর রা. আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আপনি আমার নিকট হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু আমি কোন উত্তর না দেয়ায় মর্মাহত হয়েছেন তাই না?
বললাম: হ্যাঁ।
আবু বকর রা. বললেন: “আমি এ জন্যেই উত্তর দিতে পারি নি যে, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাফসা রা. এর কথা স্মরণ করেছেন। কিন্তু তার গোপন কথা প্রকাশ করতে চাই নি। তিনি যদি বিয়ে না করতেন তবে আমি গ্রহণ করে নিতাম।” (সহীহ বুখারী)
এটিই হল প্রকৃত বিচক্ষণতা ও সত্যিকার বীরত্ব যা উমর ফারুক রা. এর কাজের মধ্যে ফুটে উঠেছে। তিনি তার আত্মমর্যাদাকে রক্ষা করতে চান। তাই উপযুক্ত পাত্রের নিকট নিজের কন্যার বিয়ের প্রস্তাব পেশ করতে তার মাঝে এতটুকুও সংকোচ দেখা যায় নি। কারণ মর্যাদাপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার জন্য বিবাহই হল সর্বোত্তম মাধ্যম।
কিন্তু ইসলামের বিধিবিধান আর সৌন্দর্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আমাদের সমাজ কোথায় অবস্থান করছে?! বর্তমানে মানুষ প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী লোকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের আশায় তাদের কন্যাদেরকে অবিবাহিত অবস্থায় রেখে দিচ্ছে!