hadith book logo

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহুবিবাহ

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মদ আলী সাবুনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

৫-যয়নব বিনতে খুযাইমা রা.

হাফসা রা. এর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নব রা. কে বিয়ে করেন। তিনি সাহসী বীর শাহীদুল ইসলাম বা ইসলামের শহীদ প্রখ্যাত সাহাবী উবায়দা ইবনুল হারেস রা. এর পত্নী ছিলেন। এই মহান বীর বদরের প্রথম মল্লযুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। স্বামীর শাহাদাতের সময় যয়নব রা. আহতদের পরিচর্যা এবং ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ লাগানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু স্বামীর শাহাদাত বরণের সংবাদ তাকে তাঁর দায়িত্ব পালন হতে বিরত রাখে নি।

অবশেষে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সাথে সংঘটিত ইসলামের এই প্রথম যুদ্ধে মুসলিমদেরকে বিজয় দান করেছিলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তার অসীম ধৈর্য ও দৃঢ় জেহাদি মনোবলের কথা জানতে পারলেন তখন তিনি স্বয়ং তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন এবং বিবাহ করে তার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেন। এর মাধ্যমে তিনি স্বামী হারানোর শোকে বেদনাহত হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ করলেন।

শায়খ মুহাম্মদ মাহমুদ সাওয়াফ তার রচিত ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র জীবন সঙ্গিনীগণ’ শীর্ষক এক মূল্যবান পুস্তিকায় যয়নব রা. এর স্বামীর শাহাদাতের ঘটনা এবং তাতে যে সব মূল্যাবান শিক্ষণীয় দিক রয়েছে সেগুলো উল্লেখ করার পর বলেছেন:

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যয়নব রা. কে বিবাহ করেন তখন তার (যয়নব রা.) বয়স ছিল ৬০ বছর। বিবাহের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে মাত্র দু বছর জীবন যাপন করেছেন। দু বছর পরই তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি কুড়িয়ে এবং নিজেও আল্লাহর সন্তোষ ভাজন হয়ে পরাপারে পাড়ি জমান।”

সুতরাং এই পবিত্র বিবাহ এবং এর পেছনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুমহান উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভণ্ড মিথ্যাবাদীদের বক্তব্য কী? এখানে অপবাদ আরোপ কারীরা তাদের মিথ্যা অভিযোগের কিছু খুঁজে পাবে কি? এখানে কি নারী লালসার কোন লক্ষণ আছে? এটি কি এটি দয়ার মূর্ত প্রতীক, মানবতা বোধের অগ্রদূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহৎ উদ্দেশ্য, পবিত্রতা, দয়া, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ নয়?

সুতরাং ধোঁকাবাজ ভণ্ড মিথ্যুকদের উচিৎ আল্লাহকে ভয় করা এবং জ্ঞানের আমানত রক্ষা করা। অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য জ্ঞানের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করা সমীচীন নয়। এরা মূলত: শ্রেষ্ঠতম মহামানব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে এবং তার মান-সম্মানকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করেছে!!