১
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহুবিবাহ
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মদ আলী সাবুনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩০
যায়েদ রা. এর সাথে যয়নব রা. এর বিবাহ বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ:
যায়েদ বিন হারেসা রা. এর সাথে যয়নব রা. এর বিবাহ কালীন পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং ইতিহাসের দিকে গভীর ভাবে দৃষ্টিপাত করলে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে, যায়েদ রা. এবং যয়নব রা. এর মাঝে যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল তা হয়েছিল মূলত: সামাজিক অবস্থার ভিন্নতার দারুণ। কারণ যয়নব রা. ছিলেন সম্ভ্রান্ত বংশের পক্ষান্তরে যায়েদ রা. কদিন আগেও ছিলেন কৃতদাস।
আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যায়েদ রা. এর সাথে বিবাহের মাধ্যমে যয়নব রা. কে পরীক্ষা করা যাতে বংশ আভিজাত্যের গোঁড়ামি এবং জাহেলী সম্ভ্রম-অহমিকার ভীত ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ ইসলাম কেবল তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি)কে মর্যাদার মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নব রা. এর নিকট যায়েদ রা. এর বিবাহের প্রস্তাব পেশ করলেন তখন যয়নব রা. বংশগত আভিজাত্যের প্রশ্নে এ বিবাহে অস্বীকৃত জনালেন। তখন আল্লাহ তাআলা কুরআনের এ আয়াত নাজিল করলেন,
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّـهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ ۗ وَمَن يَعْصِ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا
“আল্লাহ এবং তার রাসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশের অবকাশ নেই। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” (আহযাব: ৩৬)
অতঃপর যয়নব রা. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশে বাহ্যিক ভাবে যায়েদ রা. কে মেনে নিলেও মনঃকষ্ট ও সংকীর্ণতার দরুন মন থেকে তাকে গ্রহণ করতে পারেন নি।
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নব রা. কে বাল্যকাল থেকেই চিনেন। কারণ তিনি তার ফুফাতো বোন। তিনি তাকে বিয়ে করতে চাইলে কে নিষেধ করত?
তাহলে এটা কী করে সম্ভব যে, একজন মানুষ কোন কুমারী মেয়েকে অপর পুরুষের নিকট বিয়ে দেয়ার পর পুনরায় সেই বিবাহিত মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয়?!
সত্যি এ লোকগুলো বিবেকহীন। তারা ছুটছে অজ্ঞতার পেছনে।
তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে যত রটনা করছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা,ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তি মূলক।
লক্ষ্য করুন,এরা কী বলছে? তারা বলছে, মুহাম্মদ যে বিষয়টি মনের গভীরে লুকিয়ে রেখেছিল তা হল যয়নব রা. এর প্রতি ভালবাসা। যার কারণে তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিন্দিত ও তিরস্কৃত হয়েছে!
এটি কি বোধগম্য অপবাদ! কোন মানুষ কি এ কারণে তিরস্কৃত হয় যে, সে তার প্রতিবেশী নারীকে ভালবাসার কথা প্রকাশ করে নি?
سُبْحَانَكَ هَـٰذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ
“হে আল্লাহ,তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। এটা মস্ত বড় অপবাদ।” (সূরা নূর: ১৬)
এ সংক্রান্ত আয়াতটি অত্যন্ত দ্যার্থহীন ও সুস্পষ্ট। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল যা গোপন রেখেছে তা আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দিবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّـهُ مُبْدِيهِ “তুমি তোমার মনে এমন বিষয় গোপন রাখছিলে যা আল্লাহ প্রকাশ করে দিবেন।” (সূরা আহযাব: ৩৭)
আল্লাহ কী প্রকাশ করেছেন? যয়নব রা. এর প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রেমাসক্তি? না, কখনই না। বরং পোষ্যপুত্র সংক্রান্ত ভ্রান্ত রেওয়াজ উৎখাতের উদ্দেশ্যে যয়নব রা.কে বিবাহের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নে তার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি মুনাফিকদের সমালোচনার আশঙ্কা করতেন যে, তারা বলে বেড়াবে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পুত্রবধূকে বিবাহ করেছে।
এ কারণে আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মনের মধ্যে লুকায়িত এ জিনিসটি (মুনাফিকদের সমালোচনার আশঙ্কা) প্রকাশ করে দিয়ে বলেন:
فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا
“অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে।” (সূরা আহযাব: ৩৭)
এভাবেই স্পষ্ট এবং অকাট্য প্রমাণাদি দ্বারা মিথ্যুকদের সকল ভ্রান্ত ধারণা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায় এবং সকল স্বার্থান্বেষী প্রতারকদের আরোপিত অপবাদকে ম্লান করে দিয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চারিত্রিক নির্মলতা ও পবিত্রতা প্রমাণিত হয়।
আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যায়েদ রা. এর সাথে বিবাহের মাধ্যমে যয়নব রা. কে পরীক্ষা করা যাতে বংশ আভিজাত্যের গোঁড়ামি এবং জাহেলী সম্ভ্রম-অহমিকার ভীত ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ ইসলাম কেবল তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি)কে মর্যাদার মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নব রা. এর নিকট যায়েদ রা. এর বিবাহের প্রস্তাব পেশ করলেন তখন যয়নব রা. বংশগত আভিজাত্যের প্রশ্নে এ বিবাহে অস্বীকৃত জনালেন। তখন আল্লাহ তাআলা কুরআনের এ আয়াত নাজিল করলেন,
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّـهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ ۗ وَمَن يَعْصِ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا
“আল্লাহ এবং তার রাসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশের অবকাশ নেই। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” (আহযাব: ৩৬)
অতঃপর যয়নব রা. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশে বাহ্যিক ভাবে যায়েদ রা. কে মেনে নিলেও মনঃকষ্ট ও সংকীর্ণতার দরুন মন থেকে তাকে গ্রহণ করতে পারেন নি।
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নব রা. কে বাল্যকাল থেকেই চিনেন। কারণ তিনি তার ফুফাতো বোন। তিনি তাকে বিয়ে করতে চাইলে কে নিষেধ করত?
তাহলে এটা কী করে সম্ভব যে, একজন মানুষ কোন কুমারী মেয়েকে অপর পুরুষের নিকট বিয়ে দেয়ার পর পুনরায় সেই বিবাহিত মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয়?!
সত্যি এ লোকগুলো বিবেকহীন। তারা ছুটছে অজ্ঞতার পেছনে।
তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে যত রটনা করছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা,ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তি মূলক।
লক্ষ্য করুন,এরা কী বলছে? তারা বলছে, মুহাম্মদ যে বিষয়টি মনের গভীরে লুকিয়ে রেখেছিল তা হল যয়নব রা. এর প্রতি ভালবাসা। যার কারণে তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিন্দিত ও তিরস্কৃত হয়েছে!
এটি কি বোধগম্য অপবাদ! কোন মানুষ কি এ কারণে তিরস্কৃত হয় যে, সে তার প্রতিবেশী নারীকে ভালবাসার কথা প্রকাশ করে নি?
سُبْحَانَكَ هَـٰذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ
“হে আল্লাহ,তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। এটা মস্ত বড় অপবাদ।” (সূরা নূর: ১৬)
এ সংক্রান্ত আয়াতটি অত্যন্ত দ্যার্থহীন ও সুস্পষ্ট। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল যা গোপন রেখেছে তা আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দিবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّـهُ مُبْدِيهِ “তুমি তোমার মনে এমন বিষয় গোপন রাখছিলে যা আল্লাহ প্রকাশ করে দিবেন।” (সূরা আহযাব: ৩৭)
আল্লাহ কী প্রকাশ করেছেন? যয়নব রা. এর প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রেমাসক্তি? না, কখনই না। বরং পোষ্যপুত্র সংক্রান্ত ভ্রান্ত রেওয়াজ উৎখাতের উদ্দেশ্যে যয়নব রা.কে বিবাহের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নে তার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি মুনাফিকদের সমালোচনার আশঙ্কা করতেন যে, তারা বলে বেড়াবে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পুত্রবধূকে বিবাহ করেছে।
এ কারণে আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মনের মধ্যে লুকায়িত এ জিনিসটি (মুনাফিকদের সমালোচনার আশঙ্কা) প্রকাশ করে দিয়ে বলেন:
فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا
“অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে।” (সূরা আহযাব: ৩৭)
এভাবেই স্পষ্ট এবং অকাট্য প্রমাণাদি দ্বারা মিথ্যুকদের সকল ভ্রান্ত ধারণা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায় এবং সকল স্বার্থান্বেষী প্রতারকদের আরোপিত অপবাদকে ম্লান করে দিয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চারিত্রিক নির্মলতা ও পবিত্রতা প্রমাণিত হয়।