hadith book logo

ইসলামে দাস বিধি

লেখকঃ আবদুল্লাহ নাসেহ ‘উলওয়ান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

সন্তানের মা (উম্মুল অলাদ) হওয়ার কারণে মুক্তি দান:

অনুরূপভাবে এটাও দাস-দাসী মুক্ত করার উপায়সমূহের মধ্য থেকে অন্যতম একটি উপায় এবং নারী জাতিকে সম্মান দানের ব্যাপারে ইসলামের কৃতিত্বপূর্ণ কাজসমূহের মধ্যে অন্যতম মহান কীর্তি।

আর এটা দাস-দাসী মুক্ত করার উপায়সমূহের মধ্য থেকে অন্যতম একটি উপায়; কারণ, দাসী যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তির মালিকানাধীন থাকে, তখন সেই মুসলিম ব্যক্তির জন্য তার সাথে স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করার মত মেলামেশা করা বৈধ আছে; ফলে যখন দাসী তার (মনিবের) জন্য সন্তান প্রসব করবে এবং সেও সন্তানকে তার সন্তান বলে স্বীকৃতি দেবে, তখন সে শরী‘য়তের দৃষ্টিতে ‘উম্মুল অলাদ’ (সন্তানের মা) হয়ে যাবে; আর এই অবস্থায় মনিবের উপর তাকে বিক্রি করা হারাম হয়ে যাবে; আর যখন সে তার জীবদ্দশায় তাকে আযাদ না করে মৃত্যুবরণ করবে, তখন তার মৃত্যুর পর সে সরাসরি স্বাধীন হয়ে যাবে।

আর পূর্ববর্তী যুগসমূহের মধ্যে কত দাসীই না এই পদ্ধতিতে (দাসত্ব থেকে) মুক্তি লাভ করেছে? ! আর কত নারী দাসীই না স্বাধীনতা অর্জনের মত নি‘য়ামত দ্বারা ধন্য হয়েছে, যখন তারা ‘উম্মুল অলাদ’ বা সন্তানের মা হয়েছে? !

অনুরূপভাবে এটা নারী জাতিকে সম্মান দানের ব্যাপারে ইসলামের কৃতিত্বপূর্ণ কাজসমূহের মধ্যে অন্যতম মহান কীর্তি; কারণ, নারী যখন অমুসলিম রাষ্ট্রে যুদ্ধের সময় বিপক্ষ শক্তির মালিকানায় চলে আসে, তখন তার সম্মান লুটের মালের মত ব্যভিচারের পন্থায় প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য বৈধ হয়ে যায়, বরং সে হয়ে যায় সম্মান হারা, সস্তা পণ্য ও অধিকার বঞ্চিত ...।

আর তাকে ইসলামী শাসনব্যবস্থার ছায়াতলে দাসী বানানোর দ্বারা ইসলামের পূর্বে সে যেসব অপমান, অপদস্থ ও অসম্মানের শিকার হয়েছে, তা পরিবর্তন হয়ে গেছে ... সুতরাং ইসলাম তার অধিকার সংরক্ষণ করেছে এবং তার মান-সম্মান ও মর্যাদাকে রক্ষা করেছে।

সে শুধু তার মালিকের বৈধ মালিকানায় থাকেবে, তার মনিব ব্যতীত অন্য কারও জন্য তার সাথে বসবাস করা এবং তার সাথে স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করার মত মেলামেশা করা বৈধ হবে না; তবে সে (মনিব) যখন তাকে বিয়ে করার অনুমতি প্রদান করে এবং তারপর সে বিয়ে করে, তখন তার মনিবের জন্য তার নিকটবর্তী হওয়া এবং তার সাথে নির্জনে বসবাস করা বৈধ হবে না।

আর তাকে স্বাধীনতা অর্জন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, ইচ্ছা করলে সে ‘মুকাতাবা’ তথা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবে।

আর সে তার মনিবের মৃত্যুর পর স্বাধীন হয়ে যাবে যখন সে ‘উম্মুল অলাদ’ তথা সন্তানের মা হবে এবং তার সাথে তার সন্তানও মুক্ত হয়ে যাবে।

তাছাড়া আবশ্যকীয়ভাবে সে মনিবের নিকট থেকে উত্তম আচরণ ও সম্মানজনক ব্যবহার পাবে, যেমনিভাবে এই ব্যাপারে ইসলামী শরী‘য়ত নির্দেশ প্রদান করেছে।

আর এই অর্থ ও তাৎপর্যের মাধ্যমেই নারী তার অস্তিত্ব ও স্বকীয়তার ঘোষণা প্রদান করবে, অনুভব করবে তার সত্ত্বাগত উপস্থিতি এবং ইসলামের নিয়মনীতির ছায়াতলে সে সম্মান ও মর্যাদাবান হিসেবে গৌরব প্রকাশ করবে।