hadith book logo

ইসলামে দাস বিধি

লেখকঃ আবদুল্লাহ নাসেহ ‘উলওয়ান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি:

আমরা পূর্বেই যখন দাসত্বের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনার উদ্যোগ নেই, তখন আলোচনা করেছি যে, ইসলামের আগমন ঘটেছে এমতাবস্থায় যে বিশ্বের সকল শাসন ব্যবস্থায় দাসত্ব প্রথা স্বীকৃত; বরং তা ছিল বহুল প্রচলিত অর্থনৈতিক মুদ্রাসদৃশ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রয়োজন ... যা কেউ অপছন্দ করত না এবং তা পরিবর্তন করার সম্ভাব্যতার ব্যাপারে চিন্তা করা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব ছিল না।

আর যে স্তরে এসে আজ দাসত্ব প্রথাকে বাতিল করা হলো, তার পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে কে জানে? সম্ভবত এমন একদিন আসবে, যেদিন দাস-দাসী বানানোর প্রথা বিশ্বে আবার ফিরে আসবে; বিশেষ করে যুদ্ধবন্দীদেরকে দাস-দাসী বানানোর প্রথা— আর দাসত্ব হয়ে যাবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রথা, বহুল প্রচলিত একটি অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং সামাজিকভাবে খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

সুতরাং উক্ত অবস্থায় এটা কোনোভাবেই বিবেকসম্মত হবে না যে, এর মোকাবিলায় ইসলাম হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। বরং অচিরেই ইসলামকেও অনুরূপ নীতিরর পুণঃপ্রচলন করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যা এই ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে দিবে অথবা বাতিল করে দিবে। আর এর জন্য অনেক দীর্ঘ ও লম্বা সময়ের প্রয়োজন হবে; আরও প্রয়োজন হবে জনগণ কর্তৃক ইসলামের প্রকৃত বাস্তবতা এবং সৃষ্টি, জীবন ও মানুষের ... ব্যাপারে তার সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন সম্পর্কে অনুধাবন করা; আরও জরুরি হলো দাস-দাসীগণ কর্তৃক মানবিক সম্মানের তাৎপর্য এবং মানবিক মর্যাদা ও সম্মানের অধিকার উপভোগ করা ... যাতে তারা এই উপভোগ ও উপলব্ধির পরে অপমান ও অসম্মান থেকে তাদের স্বাধীনতা দাবি করতে পারে এবং তারা আরও দাবি করতে পারে গোলামী থেকে তাদের মুক্তির ...।

বস্তুত বিংশ শতাব্দীতে দাসত্ব অন্য আরেক রং বা রূপ ধারণ করেছে, যার বিবরণ অচিরেই আসছে; সুতরাং (বর্তমানে) দাসত্ব মানে ভূখণ্ডের মলিকানা গ্রহণ, যুদ্ধবন্দীদেরকে দাস-দাসী বানানো এবং প্রভাবশালীগণ কর্তৃক দুর্বল শ্রেণীর লোকদেরকে গোলাম বানানো ... থেকে পরিবর্তন হয়ে গোটা জনগোষ্ঠীকে দাস-দাসী বানানোর দিকে পরিবর্তিত হয়েছে বলে বুঝায় ... যেমনটি বিদ্বেষী উপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলো এবং নাস্তিক্যবাদী সমাজতান্ত্রিক সকরকারগুলো করছে ... কারণ, তারা জনগণের মধ্যে ব্যাপক হৃদয়বিদারক ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করে, অতঃপর তারা তাদের ইচ্ছা-আকাঙ্খাকে হরণ করে এবং তাদেরকে তাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করে; আর তাদেরকে আগ্নেয়াস্ত্রের শক্তির বলে শাসন করে ... ফলে তারা কোনো মাথাকে উঁচু হয়ে দাঁড়ানোর এবং কোনো কণ্ঠকে কথা বলার সুযোগ দেয় না ... আর এসব জনগোষ্ঠীর নিকট যে সম্পদরাশি আছে এবং তারা কর্মক্ষেত্রে ও অর্থনীতির ময়দানে যে শ্রম বিনোয়াগ করে ... সেসব কিছু উপনিবেশবাদী অথবা সমাজতান্ত্রিক স্বৈরাচার সরকারগণের নিকট সমর্পন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে ... যাতে জাতিসমূহকে দাস-দাসী বানানো, জনগোষ্ঠীকে বশীভূত করা, স্বাধীনতাকে অপদস্থ করা এবং মানবিক সম্মান ও মর্যাদাকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে তারা তা ব্যয় করতে পারে।

আর এই অবস্থায় অসম্ভব নয় যে, উপনিবেশিক শাসকবর্গ অথবা সমাজতান্ত্রিক শাসকগণ তাদের দাসত্ব প্রথা চাপিয়ে দিবে ব্যক্তি, অথবা পরিবার, অথবা গ্রাম, অথবা কোনো পুরো জাতি বা গোষ্ঠীর উপর... যাতে সকলকে আধুনিক দাস-দাসীর হাটে সম্পদ বা স্বার্থের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে ... তাদেরকে বশীভূত ও গোলামে পরিণত করার জন্য !!

এ কারণেই ইসলাম অকাট্য ‘নস’ তথা বক্তব্যের মাধ্যমে দাসত্ব প্রথাকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করেনি [অর্থাৎ প্রয়োজনে যেন আবার তা ব্যবহার করতে পারে। যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরণের দাসত্ব পরিচালিত করবে ইসলামও যেনো তাদের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করতে পারে। [সম্পাদক]]।