hadith book logo

সংক্ষিপ্ত হজ, উমরা ও যিয়ারত গাইড

লেখকঃ ড. মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক, মাওলানা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

ইহরাম অবস্থায় বর্জনীয়

ইহরাম অবস্থায় সকলপ্রকার ঝগড়া- বিবাদ থেকে বিরত থাকতে হবে। আল কোরআনে এসেছে,‘হজ হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসে। এ মাসগুলোয় যে ব্যক্তি নিজের ওপর হজ আরোপ করল সে যৌন-স্পর্শ, ঝগড়া-বিবাদ ও অন্যায় আচরণ থেকে দূরে থাকবে।’

শরীরের মাপে বা কোনো অঙ্গের মাপে সেলাই করা কাপড় পরিধান করা যাবে না। তবে এ নিষেধাজ্ঞা কেবল পুরুষের বেলায়। মহিলারা সেলাই-করা কাপড় পরতে পারবে, তবে হাত মোজা ব্যবহার করতে পারবে না।

শরীরের কোনো অংশের মাপে সেলাই করা না হলে তা গায়ে জড়ানো যাবে। যেমন চাদর-কম্বল ইত্যাদি যেগুলোতে সেলাই রয়েছে। টাকা পয়সা সংরক্ষণের জন্য কোমরের বেল্ট, অথবা ইহরামের কাপড়ে সেলাই করা কোনো পকেট করায় কোনো অসুবিধা নেই। ইহরাম অবস্থায় টুপি-পাগড়ি-রুমাল তথা মাথার সাথে লেগে থাকে এমন কোনো আবরণ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা যাবে না।

ইহরাম অবস্থায় শরীরে বা কাপড়ে আতর-সুগন্ধি লাগানো যাবে না। স্বামী-স্ত্রীর মিলন, প্রেমালাপ, অশ্লীল কথা-বার্তা, প্রেমালিঙ্গন, চুম্বন, কামভাব নিয়ে একে অন্যকে স্পর্শ ইত্যাদিও করা যাবে না।

এক হাদীসে এসেছে : মুহরিম ব্যক্তি বিবাহ করে না, তাকে বিবাহ দেওয়াও হয় না, ও সে বিবাহের প্রস্তাবও দেয় না- সে হিসেবে ইমাম শাফী, ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ -রাহিমাহুমুল্লাহ- ইহরাম অবস্থায় বিবাহ-শাদী এমনকী বিয়ের প্রস্তাব দেয়াও অবৈধ বলেছেন। তবে হানাফী মাযহাবে বিবাহের প্রস্তাব ও আকদ উভয়টারই অনুমতি আছে।

ইহরাম অবস্থায় স্থলজ জীবজন্তু শিকার করা অবৈধ।

ইহরাম অবস্থায় চেহারা ঢেকে রাখা নিষেধ। তবে যদি ধুলোর তুফান শুরু হয় অথবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে চেহারা ঢেকে রাখলে কোনো অসুবিধা হবে না।