hadith book logo

সংক্ষিপ্ত হজ, উমরা ও যিয়ারত গাইড

লেখকঃ ড. মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক, মাওলানা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫

মুযদালিফায় করণীয়

মুযদালিফায় পৌঁছার পর প্রথম কাজ হল মাগরিব ও এশা একসাথে আদায় করা। মাগরিব ও এশা উভয়টা এক আযান ও দুই একামতে আদায় করতে হবে। আযান দেয়ার পর একামত দিয়ে প্রথমে মাগরিবের তিন রাকা’ত সালাত আদায় করতে হবে। এরপর সুন্নত নফল না পড়েই এশার উদ্দেশ্যে একামত দিয়ে এশার দু’রাকা’ত কসর সালাত আদায় করতে হবে। ফরয আদায়ের পর বেতরের সালাত ও আদায় করতে হবে। মুযদালিফায় সালাত আদায়ের এটাই বিশুদ্ধ তরিকা। খেয়াল রাখতে হবে যে মুযদালিফায় পৌঁছার পর যদি এশার সালাতের সময় না হয় তবে অপেক্ষা করতে হবে। কেননা, এক বর্ণনা অনুসারে, মুযদালিফার রাতে মাগরীবের সময় পরিবর্তন করে এশার ওয়াক্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাগরীবের সালাতের পর কোনো সুন্নত বা যিকর নেই। তবে এশার পর বেতরের তিন রাকাত সালাত আদায় করতে হবে। সালাত আদায়ের পর অন্য কোনো কাজ নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ স. বিদায় হজের সময় সুবহে সাদিক পর্যন্ত শুয়ে আরাম করেছেন।

তবে এক ফাঁকে কঙ্কর কুড়িয়ে নিতে পারেন। কেননা মিনায় গিয়ে কঙ্কর খুঁজে পাওয়া রীতিমতো কষ্টের ব্যাপার। তবে মুযদালিফা থেকেই কঙ্কর নিতে হবে এ ধারণা ঠিক নয়। মটরশুঁটি আকারের কঙ্কর নেবেন যা আঙুল দিয়ে নিক্ষেপ করা যায়। ৭০ টি কঙ্কর কুড়াবেন। কঙ্কর পানি দিয়ে ধুতে হবে এমন কোনো বিধান নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ স. কঙ্কর ধুয়েছেন বলে কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না।

মুযদালিফায় থাকাবস্থায় সুবহে সাদিক উদিত হলে আওয়াল ওয়াক্তে ফজরের সালাত আদায় করে কেবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দোয়ায় মাশগুল হবেন। রাসূলুল্লাহ স. অবশ্য ফজরের সালাত আদায়ের পর ‘কুযাহ’ পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে উপস্থিত হতেন ও উকুফ করতেন। এ স্থানটি বর্তমানে মাশআরুল হারাম মসজিদের সম্মুখ ভাগে অবস্থিত। এ মসজিদটি মুযদালিফার ৫ নং রোডের পাশে অবস্থিত, এবং ১২ হাজার মুসল্লি ধারণ ক্ষমতা রাখে। মসজিদটির পশ্চাদ্ভাগে ৩২ মিটার উঁচু দু’টি মিনারা রয়েছে অনেক দূর থেকেই যা স্পষ্ট দেখা যায়। এ মসজিদের এখানে রাসূলুল্লাহ স. উকুফ করেছেন এবং বলেছেন আমি এখানে উকুফ করলাম তবে মুযদালিফা পুরোটাই উকুফের স্থান। সম্ভব হলে উক্ত মসজিদের কাছে গিয়ে উকুফ করা ভাল।

উক্ত মসজিদের কাছে গিয়েই হোক বা যেখানে অবস্থান করছেন সেখানেই হোক ফজরের সালাত আদায়ের পর হাত উঠিয়ে দোয়ায় মাশগুল হবেন ও খুব ফর্সা হওয়া পর্যন্ত দোয়া ও যিকর চালিয়ে যাবেন। এরপর সূর্যোদয়ের আগেই মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।