hadith book logo

সংক্ষিপ্ত হজ, উমরা ও যিয়ারত গাইড

লেখকঃ ড. মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক, মাওলানা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

উমরার তাওয়াফ শুরু

গায়ের চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নীচে রেখে ডান কাঁধ খালি রাখুন। চাদরের উভয় মাথা বাম কাঁধের ওপর রেখে দিন, অর্থাৎ ইযতেবা করুন। মনে-মনে তাওয়াফের নিয়ত করুন। হাজরে আসওয়াদ সোজা মুখোমুখী দাঁড়ান। ভিড় না থাকলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করে তাওয়াফ আরম্ভ করুন। হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের পদ্ধতি হল এই - হাজরে আসওয়াদের ওপর দু’হাত রাখুন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে আলতোভাবে চুম্বন করুন। আল্লাহর জন্য হাজরে আসওয়াদের উপর সিজদাও করুন। চুম্বন করা দুষ্কর হলে, ডান হাত দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করুন এবং হাতের যে অংশ দিয়ে স্পর্শ করেছেন সে অংশ চুম্বন করুন। বর্তমানে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন ও স্পর্শ উভয়টাই অত্যন্ত কঠিন ও অনেকের পক্ষেই দুঃসাধ্য। সে হিসেবে দূরে দাঁড়িয়ে ডান হাত উঁচু করে, بِسْمِ اللهِ اَللهُ أكْبَرُ ‘বিসমিল্লহি আল্লাহু আকবার’ বলে, হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করুন। যেহেতু হাত দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা সম্ভব হয়নি তাই হাতে চুম্বনও করতে হবে না। পূর্বে হাজরে আসওয়াদ বরাবর একটি খয়েরি রেখা ছিল বর্তমানে তা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই হাজরে আসওয়াদ সোজা মসজিদুল হারামের দেয়ালে থাকা সবুজ বাতি দেখে হাজরে আসওয়াদ বরাবর এসেছেন কি-না তা নির্ণয় করুন।

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন, স্পর্শ অথবা ইশারা করার পর কাবা শরীফ হাতের বাঁয়ে রেখে তাওয়াফ শুরু করুন। পুরুষদের ক্ষেত্রে কাবা শরীফের কাছ দিয়ে তাওয়াফ করতে পারলে ভাল। রামলবিশিষ্ট তাওয়াফ হলে প্রথম তিন চক্করে রামল করুন। ছোট কদমে কাঁধ হেলিয়ে বীর বিক্রমে চলুন। অবশিষ্ট চার চক্করে চলার গতি স্বাভাবিক রাখুন। প্রত্যেক তাওয়াফে ভিন্ন ভিন্ন জিকির">দোয়া পড়তে হবে এ ব্যাপারে হাদীসে কিছু পাওয়া যায় না। যখন যে ধরনের আবেগ আসে সে ধরনের দোয়া করুন। আল্লাহর প্রশংসা করুন। রাসূলুল্লাহ স. এর ওপর দরুদ পড়ুন। যে ভাষা আপনি ভাল করে বোঝেন ও আপনার মনের আকুতি সুন্দরভাবে প্রকাশ পায় সে ভাষাতেই দোয়া করুন। রুকনে ইয়ামানি অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদের আগের কোণের কাছে এলে তা স্পর্শ করুন। রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করার পর হাত চুম্বন করতে হয় না। সরাসরি রুকনে ইয়ামানিকে চুম্বন করাও শরিয়তসম্মত নয়। রুকনে ইয়ামানিথেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সা. পড়তেন,

رَبَّّنَا آتِنَا فِي الد ُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النّارِ

‘হে আমাদের প্রতিপালক আপনি আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন ও পরকালেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।’

সাঈ যাতে যথার্থভাবে আদায় হয় সেজন্য নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় রাখুন -

সাঈ করার নিয়ত বা প্রতিজ্ঞা করা।

হাজরে আসওয়াদ ইস্তেলাম (চুম্বন, স্পর্শ বা ইশারা) করে সাঈর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া।

অজু অবস্থায় সাঈ করা।

তাওয়াফ শেষ করার সাথে সাথে সাঈ করা।

সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে আরোহণ করে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে, হাত উঠিয়ে, দীর্ঘক্ষণ দোয়া করা।

পুরুষদের জন্য সবুজ বাতির মধ্যবর্তী স্থানে একটু দৌড়ে অতিক্রম করা।

সবুজ বাতির মধ্যবর্তী স্থানে

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إنَّكَ أنْتَ الأعَزٌ الأكْرَمُ .

দুআটি পড়া।

সাত চক্কর পূর্ণ করা।

সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী পূর্ণ দূরত্ব অতিক্রম করা।

সাফা মারওয়া বরাবর মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করা। মাসআ অর্থাৎ সাঈ করার সুনির্ধারিত স্থানের বাইরে দিয়ে চক্কর লাগালে সাঈ হবে না।

দুই চক্করের মাঝে বেশি বিলম্ব না করা।

উপরোল্লেখিত পয়েন্টগুলো অনুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার সাঈ শত ভাগ শুদ্ধ হবে। এর কোনোটায় ত্রুটি থেকে গেলে বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিন।