১
সংক্ষিপ্ত হজ, উমরা ও যিয়ারত গাইড
লেখকঃ ড. মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক, মাওলানা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
সাঈ শুরু :
সাঈ করতে যাচ্ছেন এই মর্মে প্রতিজ্ঞা করুন। সাঈর পূর্বে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন-স্পর্শ করুন। চুম্বন-স্পর্শ সম্ভব না হলে, এ ক্ষেত্রে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করার কোনো বিধান নেই। এরপর সাফা পাহাড়ের দিকে আগান। সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী হলে, রাসূলুল্লাহ স.এর অনুসরণে বলুন -
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ أبْدَءُ بِماَ بَدَءَ اللهُ بِهِ
‘নিশ্চয়ই সাফা মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। আমি শুরু করছি আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন।’
এরপর সাফা পাহাড়ে ওঠে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দাঁড়াবেন। মোনাজাত করার জন্য দুই হাত কাঁধ বরাবর ওঠাবেন। এবং নীচের জিকির">দোয়াটি দিয়ে মোনাজাত শুরু করবেন। রাসূলুল্লাহ স. সাফা পাহাড়ে ওঠে যেসব দোয়া পড়েছিলেন তন্মধ্যে এটি অন্যতম।
لَا إلَهَ إلّاَ اللهُ اَلله أكْبَرُ، لَا إلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَ يُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلَّ شَيءٍ قَدِيْرٌ، لَا إلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ أنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَعَبْدَهُ وَهَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ .
‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, এবং আল্লাহ মহান। আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসাও তাঁর। তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, ও সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক। তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, ও তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রুদেরকে পরাজিত করেছেন।’
এ দোয়াটি তিনবার পড়ুন। এরপর অন্যান্য দোয়া, যা আপনার মুখস্থ আছে তা পড়ুন। আরবী ভালভাবে না বুঝলে বাংলা ভাষায় আল্লাহর প্রশংসা করুন ও আপনার বৈধ ইচ্ছাগুলো তার দরবারে পেশ করুন। মাতা-পিতা আত্মীয় স্বজন সকলের জন্য দোয়া করুন।
দোয়া শেষ হলে মারওয়ার দিকে রওয়ানা হন। যেসব দোয়া আপনার মনে আসে পড়ুন। সাফা থেকে নেমে কিছু দূর এগুলেই ওপরে ও ডানে-বামে সবুজ বাতি জ্বালানো দেখবেন। এই জায়গাটুকু, পুরুষ হাজীগণ, দৌড়ানোর মত করে দ্রুত গতিতে হেঁটে চলুন। পরবর্তী সবুজ বাতির আলামত এলে চলার গতি স্বাভাবিক করুন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় চলার গতি স্বাভাবিক থাকবে । সবুজ দুই আলামতের মাঝে চলার সময় নীচের দোয়াটি পড়ুন-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إنَّكَ أنْتَ الأعَزٌ الأكْرَمُ .
‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সমধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।’
মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছার পরে, সাফায় পৌঁছার পূর্বে যে আয়াতটি পড়েছিলেন, তা পড়তে হবে না। মারওয়ায় উঠে সাফার মতো পবিত্র কাবার দিকে মুখ করে একই কায়দায় হাত উঠিয়ে মোনাজাত করুন। মারওয়া থেকে সাফায় আসার পথে সবুজ বাতির এখান থেকে আবার দ্রুত গতিতে চলুন। দ্বিতীয় সবুজ আলামতের এখানে এলে চলার গতি স্বাভাবিক করুন। সাফায় এসে কাবা শরীফের দিকে মুখ করে আবার মোনাজাত ধরুন। সাফা মারওয়া উভয়টা দোয়া কবুলের জায়গা । কাজেই তাড়াতাড়ি সাঈ সেরে নিয়ে বাসায় চলে যাওয়ার চিন্তা করবেন না। ধীরে সুস্থে রাসূলুল্লাহ স. যেখানে যা করেছেন সেখানে সেটা সেভাবেই করার চেষ্টা করুন। কতটুকু করলে ফরয আদায় হয়ে যাবে, এই চিন্তা মাথায় আনবেন না। বরং এটা টার্গেট বানাবেন যে রাসূলুল্লাহ স. কোথায় কোন কাজ কীভাবে ও কত সময় করেছেন, আমিও ঠিক সেভাবেই করব।
একই নিয়মে সাঈর বাকি চক্করগুলোও আদায় করুন। সাঈ করার সময় সালাত দাঁড়িয়ে গেলে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করুন। সাঈ করার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লে বসে আরাম করে নিন। এতে সাঈর কোনো ক্ষতি হবে না।
আপনার শেষ সাঈ - অর্থাৎ সপ্তম সাঈ - মারওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। শেষ হওয়ার পর মাথা মুন্ডন বা চুল খাটো করতে যাবেন। মারওয়ার পাশেই চুল কাটার সেলুন রয়েছে।
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ أبْدَءُ بِماَ بَدَءَ اللهُ بِهِ
‘নিশ্চয়ই সাফা মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। আমি শুরু করছি আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন।’
এরপর সাফা পাহাড়ে ওঠে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দাঁড়াবেন। মোনাজাত করার জন্য দুই হাত কাঁধ বরাবর ওঠাবেন। এবং নীচের জিকির">দোয়াটি দিয়ে মোনাজাত শুরু করবেন। রাসূলুল্লাহ স. সাফা পাহাড়ে ওঠে যেসব দোয়া পড়েছিলেন তন্মধ্যে এটি অন্যতম।
لَا إلَهَ إلّاَ اللهُ اَلله أكْبَرُ، لَا إلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَ يُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلَّ شَيءٍ قَدِيْرٌ، لَا إلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ أنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَعَبْدَهُ وَهَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ .
‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, এবং আল্লাহ মহান। আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসাও তাঁর। তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, ও সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক। তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, ও তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রুদেরকে পরাজিত করেছেন।’
এ দোয়াটি তিনবার পড়ুন। এরপর অন্যান্য দোয়া, যা আপনার মুখস্থ আছে তা পড়ুন। আরবী ভালভাবে না বুঝলে বাংলা ভাষায় আল্লাহর প্রশংসা করুন ও আপনার বৈধ ইচ্ছাগুলো তার দরবারে পেশ করুন। মাতা-পিতা আত্মীয় স্বজন সকলের জন্য দোয়া করুন।
দোয়া শেষ হলে মারওয়ার দিকে রওয়ানা হন। যেসব দোয়া আপনার মনে আসে পড়ুন। সাফা থেকে নেমে কিছু দূর এগুলেই ওপরে ও ডানে-বামে সবুজ বাতি জ্বালানো দেখবেন। এই জায়গাটুকু, পুরুষ হাজীগণ, দৌড়ানোর মত করে দ্রুত গতিতে হেঁটে চলুন। পরবর্তী সবুজ বাতির আলামত এলে চলার গতি স্বাভাবিক করুন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় চলার গতি স্বাভাবিক থাকবে । সবুজ দুই আলামতের মাঝে চলার সময় নীচের দোয়াটি পড়ুন-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إنَّكَ أنْتَ الأعَزٌ الأكْرَمُ .
‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সমধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।’
মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছার পরে, সাফায় পৌঁছার পূর্বে যে আয়াতটি পড়েছিলেন, তা পড়তে হবে না। মারওয়ায় উঠে সাফার মতো পবিত্র কাবার দিকে মুখ করে একই কায়দায় হাত উঠিয়ে মোনাজাত করুন। মারওয়া থেকে সাফায় আসার পথে সবুজ বাতির এখান থেকে আবার দ্রুত গতিতে চলুন। দ্বিতীয় সবুজ আলামতের এখানে এলে চলার গতি স্বাভাবিক করুন। সাফায় এসে কাবা শরীফের দিকে মুখ করে আবার মোনাজাত ধরুন। সাফা মারওয়া উভয়টা দোয়া কবুলের জায়গা । কাজেই তাড়াতাড়ি সাঈ সেরে নিয়ে বাসায় চলে যাওয়ার চিন্তা করবেন না। ধীরে সুস্থে রাসূলুল্লাহ স. যেখানে যা করেছেন সেখানে সেটা সেভাবেই করার চেষ্টা করুন। কতটুকু করলে ফরয আদায় হয়ে যাবে, এই চিন্তা মাথায় আনবেন না। বরং এটা টার্গেট বানাবেন যে রাসূলুল্লাহ স. কোথায় কোন কাজ কীভাবে ও কত সময় করেছেন, আমিও ঠিক সেভাবেই করব।
একই নিয়মে সাঈর বাকি চক্করগুলোও আদায় করুন। সাঈ করার সময় সালাত দাঁড়িয়ে গেলে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করুন। সাঈ করার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লে বসে আরাম করে নিন। এতে সাঈর কোনো ক্ষতি হবে না।
আপনার শেষ সাঈ - অর্থাৎ সপ্তম সাঈ - মারওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। শেষ হওয়ার পর মাথা মুন্ডন বা চুল খাটো করতে যাবেন। মারওয়ার পাশেই চুল কাটার সেলুন রয়েছে।