১
নেশাজাত দ্রব্যের বিধান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
হাদীসের আলোকে ধূমপান
আল্লাহ তা‘আলা ধূমপায়ীদেরকে পছন্দ করেন না :
মুগীরা (রাঃ) কে প্রেরিত এক চিঠিতে মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন,
إِنَّ اللهَ كَرِهَ لَكُمْ ثَلَاثًا قِيْلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ
আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তিনটি বিষয়ে ঘৃণা করেন। আর তা হলো, (১) ভিত্তিহীন ও সনদবিহীন কথাবার্তা, (২) সম্পদ নষ্ট করা এবং (৩) অধিক হারে প্রশ্ন করা। [সহীহ বুখারী, হা/১৪৭৭; সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮২০৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৭১৯।]
আর ধূমপায়ীরা ধূমপানের পেছনে যে সম্পদ নষ্ট করে- এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কেননা এর দ্বারা কোন উপকার হয় না। বরং এর দ্বারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। সুতরাং যারা ধূমপান করে এভাবে সম্পদ নষ্ট করে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পছন্দ করেন না।
ধূমপায়ীরা প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেয় :
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া ইসলামে বৈধ নয়। অথচ ধূমপায়ী ব্যক্তি যারা ধূমপান করে না তাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা একটা বড় ধরনের অন্যায়।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلَا يُؤْذِيْ جَارَه
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। [সহীহ বুখারী, হা/৫১৮৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭২১৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫০৬।]
ধূমপানকারী তার ধূমপানের দ্বারা স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, সহযাত্রী, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও আশেপাশের লোকজনকে কষ্ট দিয়ে থাকে। অনেকে নীরবে কষ্ট সহ্য করে মনে মনে ধূমপানকারীকে অভিশাপ দেয়।
তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়েছে যে, ধূমপানকারীর প্রতিবেশীরা শারীরিকভাবে অনুরূপ ক্ষতিগ্রসত্ম হন, যেরূপ ধূমপানকারী হয়ে থাকে। কেননা ধূমপানের ধোঁয়া কেবল ধূমপানকারীকেই ক্ষতিগ্রসত্ম করে না, বরং সেই ধোঁয়া আশেপাশে যত জনের নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করবে ততজনই ধূমপানকারীর সমপরিমাণ ক্ষতিগ্রসত্ম হবে। একজন ধূমপায়ীর পরিবার-পরিজন, সমত্মান-সমত্মানাদি ও প্রতিবেশীরা ধূমপান না করেও ধূমপানজনিত সকল ধরনের রোগে আক্রামত্ম হতে পারেন।
অতএব যারা এভাবে নিজে ক্ষতিগ্রসত্ম হয় এবং প্রতিবেশীদেরকেও ক্ষতিগ্রসত্ম করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتَانًا وَّاِثْمًا مُّبِيْنًا﴾
আর যারা অপরাধবিহীন কোন মুমিন নর বা মুমিন নারীকে কষ্ট দেয়, তারা তো মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে থাকে। (সূরা আহযাব- ৫৮)
ধূমপায়ীরা নিজে ক্ষতিগ্রসত্ম হয় এবং অপরকেও ক্ষতিগ্রসত্ম করে :
ধূমপায়ী ধূমপান করে একদিকে সে নিজের ক্ষতি করে, অর্থের অপচয় করে, শরীরের ক্ষতি সাধন করে; অপরদিকে সে আশেপাশের লোকজনেরও ক্ষতি করে এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়। আর এ সকল কাজ ইসলামে নিষেধ। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَضٰى أَنْ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তুমি এমন কাজ সম্পাদন করবে, যা দ্বারা কারো ক্ষতি হবে না এবং কেউ ক্ষতির শিকারও হবে না। [ইবনে মাজাহ, হা/২৩৪০; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৪২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৮৬৭; দার কুতনী, হা/৪৫৩৯; বায়হাকী, হা/১১৬৫৭।]
অথচ ধূমপানের কারণে অপর ভাই কষ্ট পায়, ধূমপানের কারণে বায়ু দূষণ হয়, অন্যদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে। বিশেষ করে যখন জনসাধারণের সমাগম স্থানে ধূমপান করা হয়।
ধূমপায়ীরা ফেরেশতাদেরকে কষ্ট দেয় :
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذّٰى مِمَّا يَتَأَذّٰى مِنْهُ بَنُو اٰدَمَ
অর্থাৎ মানুষের জন্য যা কষ্টদায়ক, ফেরেশতাদের জন্যও তা কষ্টদায়ক। [সহীহ মুসলিম, হা/১২৮২; নাসাঈ, হা/৭০৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫১৯৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১৬৬৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৬৪৪।]
হালাল হওয়া সত্তেও নবী ﷺ পেয়াজ, রসুন ইত্যাদি দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন, যেন মুসল্লিরা কষ্ট না পায়, তাদের ইবাদাতে একাগ্রতা ও আল্লাহর সাথে মোনাজাতে যেন বিঘ্ন না ঘটে।
মসজিদ আল্লাহর ঘর, আল্লাহ তার ঘরের মর্যাদা বৃদ্ধি করা ও তাতে যিকির করার আদেশ করেছেন। তাতে প্রবেশ করার আগে তিনি আমাদেরকে সৌন্দর্য গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিমত্মু ধূমপান করে মসজিদে গেলে আল্লাহর বান্দারা কষ্ট পায় এবং ফেরেশতারাও কষ্ট পায়। কেউ যখন আল্লাহর সামনে ধূমপান করে সালাতে দাঁড়ায়, আর তার মুখ থেকে ধূমপানের দুর্গন্ধ বের হয়, তখন আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদার দাবী কোথায় রইল?
মুগীরা (রাঃ) কে প্রেরিত এক চিঠিতে মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন,
إِنَّ اللهَ كَرِهَ لَكُمْ ثَلَاثًا قِيْلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ
আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তিনটি বিষয়ে ঘৃণা করেন। আর তা হলো, (১) ভিত্তিহীন ও সনদবিহীন কথাবার্তা, (২) সম্পদ নষ্ট করা এবং (৩) অধিক হারে প্রশ্ন করা। [সহীহ বুখারী, হা/১৪৭৭; সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮২০৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৭১৯।]
আর ধূমপায়ীরা ধূমপানের পেছনে যে সম্পদ নষ্ট করে- এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কেননা এর দ্বারা কোন উপকার হয় না। বরং এর দ্বারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। সুতরাং যারা ধূমপান করে এভাবে সম্পদ নষ্ট করে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পছন্দ করেন না।
ধূমপায়ীরা প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেয় :
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া ইসলামে বৈধ নয়। অথচ ধূমপায়ী ব্যক্তি যারা ধূমপান করে না তাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা একটা বড় ধরনের অন্যায়।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلَا يُؤْذِيْ جَارَه
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। [সহীহ বুখারী, হা/৫১৮৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭২১৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫০৬।]
ধূমপানকারী তার ধূমপানের দ্বারা স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, সহযাত্রী, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও আশেপাশের লোকজনকে কষ্ট দিয়ে থাকে। অনেকে নীরবে কষ্ট সহ্য করে মনে মনে ধূমপানকারীকে অভিশাপ দেয়।
তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়েছে যে, ধূমপানকারীর প্রতিবেশীরা শারীরিকভাবে অনুরূপ ক্ষতিগ্রসত্ম হন, যেরূপ ধূমপানকারী হয়ে থাকে। কেননা ধূমপানের ধোঁয়া কেবল ধূমপানকারীকেই ক্ষতিগ্রসত্ম করে না, বরং সেই ধোঁয়া আশেপাশে যত জনের নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করবে ততজনই ধূমপানকারীর সমপরিমাণ ক্ষতিগ্রসত্ম হবে। একজন ধূমপায়ীর পরিবার-পরিজন, সমত্মান-সমত্মানাদি ও প্রতিবেশীরা ধূমপান না করেও ধূমপানজনিত সকল ধরনের রোগে আক্রামত্ম হতে পারেন।
অতএব যারা এভাবে নিজে ক্ষতিগ্রসত্ম হয় এবং প্রতিবেশীদেরকেও ক্ষতিগ্রসত্ম করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتَانًا وَّاِثْمًا مُّبِيْنًا﴾
আর যারা অপরাধবিহীন কোন মুমিন নর বা মুমিন নারীকে কষ্ট দেয়, তারা তো মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে থাকে। (সূরা আহযাব- ৫৮)
ধূমপায়ীরা নিজে ক্ষতিগ্রসত্ম হয় এবং অপরকেও ক্ষতিগ্রসত্ম করে :
ধূমপায়ী ধূমপান করে একদিকে সে নিজের ক্ষতি করে, অর্থের অপচয় করে, শরীরের ক্ষতি সাধন করে; অপরদিকে সে আশেপাশের লোকজনেরও ক্ষতি করে এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়। আর এ সকল কাজ ইসলামে নিষেধ। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَضٰى أَنْ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তুমি এমন কাজ সম্পাদন করবে, যা দ্বারা কারো ক্ষতি হবে না এবং কেউ ক্ষতির শিকারও হবে না। [ইবনে মাজাহ, হা/২৩৪০; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৪২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৮৬৭; দার কুতনী, হা/৪৫৩৯; বায়হাকী, হা/১১৬৫৭।]
অথচ ধূমপানের কারণে অপর ভাই কষ্ট পায়, ধূমপানের কারণে বায়ু দূষণ হয়, অন্যদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে। বিশেষ করে যখন জনসাধারণের সমাগম স্থানে ধূমপান করা হয়।
ধূমপায়ীরা ফেরেশতাদেরকে কষ্ট দেয় :
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذّٰى مِمَّا يَتَأَذّٰى مِنْهُ بَنُو اٰدَمَ
অর্থাৎ মানুষের জন্য যা কষ্টদায়ক, ফেরেশতাদের জন্যও তা কষ্টদায়ক। [সহীহ মুসলিম, হা/১২৮২; নাসাঈ, হা/৭০৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫১৯৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১৬৬৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৬৪৪।]
হালাল হওয়া সত্তেও নবী ﷺ পেয়াজ, রসুন ইত্যাদি দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন, যেন মুসল্লিরা কষ্ট না পায়, তাদের ইবাদাতে একাগ্রতা ও আল্লাহর সাথে মোনাজাতে যেন বিঘ্ন না ঘটে।
মসজিদ আল্লাহর ঘর, আল্লাহ তার ঘরের মর্যাদা বৃদ্ধি করা ও তাতে যিকির করার আদেশ করেছেন। তাতে প্রবেশ করার আগে তিনি আমাদেরকে সৌন্দর্য গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিমত্মু ধূমপান করে মসজিদে গেলে আল্লাহর বান্দারা কষ্ট পায় এবং ফেরেশতারাও কষ্ট পায়। কেউ যখন আল্লাহর সামনে ধূমপান করে সালাতে দাঁড়ায়, আর তার মুখ থেকে ধূমপানের দুর্গন্ধ বের হয়, তখন আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদার দাবী কোথায় রইল?