hadith book logo

নেশাজাত দ্রব্যের বিধান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ধূমপান

সুস্থতা মানুষের জীবনে অমূল্য সম্পদ। সুস্থতাই মানুষের ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান জীবন বিধ্বংসী অনেক রোগের জন্ম দেয়। এর মধ্যে কতক রোগের পরিণতি হলো মৃত্যু। যেমন-

১. শ্বাসকষ্ট : ধূমপানের ফলে ফুসফুসে ক্যান্সার, গলনালির ক্যান্সার, ফুসফুস ফোলা ও শ্বাসকষ্ট হয়।

২. হৃদরোগ : ধূমপানের ফলে হার্ট এটাক ও হঠাৎ অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে।

৩. বদ হজম : ধূমপানের ফলে ঠোঁট, মুখ ও খাদ্যনালির মধ্যে ক্যান্সার দেখা দেয়, পেটে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

৪. মূত্রনালি : ধূমপানের ফলে মূত্রনালি বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৫. স্নায়ুযন্ত্র : ধূমপানের ফলে মাথা ব্যাথা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়।

ধূমপায়ীর সুস্থতা দেখে অনেক মানুষ ধোঁকায় পতিত হয়। তারা মনে করে যে, ধূমপান শরীরে কোন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু দেরিতে হলেও শরীর ধূমপান দ্বারা আক্রান্ত হবেই। কারণ তাতে বিষ রয়েছে।

সিরিয়ার চিকিৎসক ‘ডা. কিনাআন আল-জাবি’ ঘোষণা করেছেন, ক্যান্সারের উপর আমার চিকিৎসার ২৫ বছর গত হয়েছে। আমার নিকট গলনালির ক্যান্সার আক্রান্ত এমন কোন রোগী আসেনি যে ধূমপায়ী ছিল না।

ধূমপান মানুষের মেধাকে বিনষ্ট করে দেয় :

মানুষের বিবেক ও মেধা আল্লাহর দেয়া বড় নিয়ামত। এ নিয়ামতের কারণে আল্লাহ আপনাকে অন্য মাখলুকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অথচ আপনি ধূমপান করে বিবেক বিনষ্ট করছেন, তার প্রখরতা নিস্তেজ করে দিচ্ছেন। কারণ ধূমপানের কারণে বিবেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মেধা দুর্বল হয় ও দেহ-মনে পতনের আলামত দেখা যায়, ধূমপায়ী ও অধূমপায়ী ছাত্রদের মাঝে তুলনা করলে বিষয়টি সহজেই অনুমেয়।

আমেরিকার একদল বিশেষজ্ঞ- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মাঝে এক পরিসংখ্যান করে দেখেছেন যে, ধূমপায়ী ছাত্রদের স্মৃতিশক্তি ও বুঝার ক্ষমতা অধূমপায়ী ছাত্রদের তুলনায় অনেক কম। বরং অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের তুলনায় ধূমপানের প্রভাব মস্তিস্কে খুব দ্রুত বিস্তার করে। সিগারেট জ্বালিয়ে ধূমপান আরম্ভ করার এক মিনিটের কম সময়ে তার ক্রিয়া মগজে পৌঁছে যায়।

ধূমপান মানুষের দাঁতের ক্ষতি করে :

দাঁত মুখের সৌন্দর্য। অথচ ধূমপানের ফলে দাঁতের মাড়ি, মুখ, জিহবা, ঠোঁট ও দাঁত কালো, ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গন্ধময় হয়।