hadith book logo

কবরের প্রশ্ন ও প্রাসংগিক আলোচনা

লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

ইসলাম সম্পর্কে কয়েকটি সহীহ হাদীস

১. ইবনে উমর (রদিঃ) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রসূল ﷺ ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি- (১) আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রসূল - এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, (২) সালাত কায়িম করা, (৩) যাকাত আদায় করা, (৪) হাজ্জ্ব সম্পাদন করা এবং (৫) রমযানে সিয়াম রাখা। (বুখারীঃ ৭, ৪৫১৬; মুসলিমঃ ১৬)

২. আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রদিঃ) বর্ণনা করেছেন, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল ﷺ -কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে।

(বুখারীঃ ১২, মুসলিমঃ ৪২)

৩. আবু হুরাইরা (রদিঃ) থেকে বর্ণিত, রসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তখন সে যে আমলে সালেহ (নেক আমল) করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত (পুণ্য) লেখা হয়। আর সে যে পাপ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই পাপ লেখা হয়।

(বুখারীঃ ৪০, মুসলিমঃ ১২৯)

৪. আনাস (রদিঃ) বর্ণনা করেছেন, নাবী ﷺ বলেছেন, তোমরা সহজ পন্থা অবলম্বন কর, কঠিন পন্থা অবলম্বন করো না, মানুষকে সুসংবাদ দাও, ভাগিয়ে দিও না। (বুখারীঃ ৬৯, মুসলিমঃ ১৭৩৪)

৫. হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মুয়াবিয়া (রদিঃ)-কে খুৎবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নাবী ﷺ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ইলম দান করেন। আমি তো বিতরণকারী মাত্র, আল্লাহই (জ্ঞান) দাতা। সর্বদাই এ উম্মাত কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর হুকুমের উপর কায়িম থাকবে, বিরোধীতাকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

(বুখারীঃ ৭১, মুসলিমঃ ১০৩৭)

৬. আনাস (রদিঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের কিছু আলামত হলঃ ইল্ম (শরীয়তের জ্ঞান) হ্রাস পাবে, অজ্ঞতা প্রসারতা লাভ করবে, মদপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং যেনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করবে। (বুখারীঃ ৮০, মুসলিমঃ ২৬৭১)

৭. জারীর (রদিঃ) বর্ণনা করেছেন, বিদায় হজ্জের সময় নাবী ﷺ তাকে বললেন, তুমি লোকদেরকে চুপ করিয়ে দাও, তারপর তিনি বললেন, আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কাটাকাটি করে কাফিরদের (এর মত) হয়ে যেও না। (বুখারীঃ ১২৩, ৪৪০৫, মুসলিমঃ ৬৫)

৮. ইব্রাহীম তাইমী (রঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একবার আলী ইবনু আবু তালিব (রদিঃ) আমাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, যে ব্যক্তি মনে করে যে, এ পুস্তিকা ও আল্লাহর কিতাব ব্যতীত আমাদের কাছে এমন কিছু আছে যাকে আমরা অধ্যয়ন করি সে মিথ্যা বলছে। সে সময় তার তরবারির খাপের মধ্যে একখানা পুস্তক ঝুলানো ছিল। এ পুস্তিকায় উটের দাঁতের বিবরণ ছিল এবং যখমের দিয়াত (ক্ষতিপূরণ) সম্পর্কে বিধান ছিল। এতে আরও উল্লেখ ছিল যে, নাবী ﷺ বলেছেন, মাদীনার ‘আয়র’ থেকে ‘সাওর’ পর্বত পর্যন্ত এলাকা হারাম। যে ব্যক্তি এ এলাকায় বিদআত করবে অথবা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহর লা’নাত, তাঁর মালাইকাদের ও সমগ্র মানবজাতির লা’নাত বর্ষিত হবে। কিয়ামাত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল (ইবাদত) কবুল করবেন না। সকল মুসলিমের দায়িত্ব এক-অভিন্ন। একজন সাধারণ মুসলিমও এ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে। যে ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবী করবে অথবা যে ক্রীতদাস তার মনিবকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অভিভাবক বানায় তার উপর আল্লাহর লা’নাত, তাঁর মালাইকাদের ও সমগ্র মানবজাতির লা’নাত বর্ষিত হবে। কিয়ামাত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। (মুসলিমঃ ৩৬৫২)। সুতরাং বিদআত থেকে সাবধান, কেননা ইসলাম পরিপূর্ণ, ইসলামে বিদআতের কোন সুযোগ নেই আর বিদআত কোন ছোট-খাট গুনাহ নয়। বিদআত করলে সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে। কুরআন-হাদীস থেকে জেনে রসূল ﷺ এর পদ্ধতিতে ইবাদত করুন।

দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে আরো বিস্তারিতভাবে জানার জন্য কুরআন ও সহীহ হাদীসের কিতাবগুলো সাধ্যমত বুঝে বুঝে পড়ার পাশাপাশি ইমাম পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত- ইসলাম কী?, কুফর কী?, কালিমাতুশ শাহাদাহ, আকীদাহ, শিরক, বিদআত - এই কিতাবগুলিসহ অন্যান্য কিতাবগুলো পাঠ করুন।