hadith book logo

কবরের প্রশ্ন ও প্রাসংগিক আলোচনা

লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

আমরা কেন দলে দলে বিভক্ত? দলে দলে বিভক্ত হওয়ার পরিণতি

আমাদের রব এক, দ্বীন এক, রসূল এক, কিতাব এক, কিবলা এক, আমাদের পরিচয় ও ইবাদতের পদ্ধতি কেন ভিন্ন হবে? আমাদের পরিচয় ও ইবাদতের পদ্ধতি এক হতেই হবে। কেননা তার উৎস এক আর আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও এক (আল্লাহর সন্তুষ্টি, জাহান্নামের ভয়াবহ আযাব থেকে মুক্তি এবং অফুরন্ত নিয়ামত ভরা জান্নাত)। ২০১৬ সালের জিলহজ্জ মাসের প্রথম জুমার খুতবায় বায়তুল্লাহর (কাবার) খতিব উত্তেজিত অবস্থায় অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় (ওয়াহেদ রব, ওয়াহেদ দ্বীন, ওয়াহেদ রসূল, ওয়াহেদ কিতাব, ওয়াহেদ কিবলা) একথাগুলো বার বার বলছিলেন যা আজও আমার কানে ভাসে। আমরা এক আল্লাহর বান্দা, এক রসূলের উম্মত, একই শরীয়তের অনুসারী, তাহলে আমরা কেন দলে দলে বিভক্ত? এর পরিণতিই বা কি? এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা‘আলা নিজেই বলেন,

وَمَا كَانَ النَّاسُ اِلَّاۤ اُمَّةً وَّاحِدَةً فَاخْتَلَفُوْاؕ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ فِيْمَا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ

আর মানুষ তো এক উম্মতই ছিল, পরে তারা বিভক্ত হয়ে পড়ল, আর তোমার রবের পক্ষ থেকে একটি কথা ঘোষিত না হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করে। (সূরা ১০/ইউনুসঃ ১৯)

وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِيْۤ اِسْرَآئِيْلَ مُبَوَّاَ صِدْقٍ وَّرَزَقْنَاهُمْ مِّنَ الطَّيِّبَاتِۚ فَمَا اخْتَلَفُوْا حَتّٰى جَآءَهُمُ الْعِلْمُؕ اِنَّ رَبَّكَ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيْمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ

আর অবশ্যই আমি বানী ইসরাঈলকে উত্তম বাসভূমিতে আবাস দিলাম এবং তাদেরকে উত্তম রিযিক দিলাম। অতঃপর তারা মতবিরোধ করেনি, যতক্ষণ না তাদের নিকট জ্ঞান এল। নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে ফয়সালা করবেন যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করত। (সূরা ১০/ইউনুসঃ ৯৩)

اِنَّمَا جُعِلَ السَّبْتُ عَلَى الَّذِيْنَ اخْتَلَفُوْا فِيْهِؕ وَاِنَّ رَبَّكَ لَيَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيْمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ

শনিবার তো তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে যারা তাতে মতবিরোধ করেছে। আর নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন, যাতে তারা মতভেদ করত। (সূরা ১৬/নাহলঃ ১২৪)

اِنَّ هٰذِه ۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةًؗ وَّاَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْنِ (৯২) وَتَقَطَّعُوْاۤ اَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْؕ كُلٌّ اِلَيْنَا رَاجِعُوْنَ (৯৩) فَمَنْ يَّعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِه ۚ وَاِنَّا لَهٗ كَاتِبُوْنَ

নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি তো একই জাতি। আর আমিই তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমার ইবাদত কর। কিন্তু তারা নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সকলেই আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে। সুতরাং যে মুমিন অবস্থায় সৎকাজ করে তার প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা হবে না। আর আমি তো তা লিখে রাখি। (সূরা ২১/আম্বিয়াঃ ৯২-৯৪)

وَاِنَّ هٰذِه ۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّاَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُوْنِ (৫২) فَتَقَطَّعُوْاۤ اَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًاؕ كُلُّ حِزْبٍ ۢبِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُوْنَ

আর নিশ্চয় তোমাদের এই জাতিতো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর। কিন্তু লোকেরা তাদের মাঝে তাদের দ্বীনকে বহুভাগে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই উৎফুল্ল। (সূরা ২৩/মুমিনুনঃ ৫২-৫৩)

اِنَّ اللهَ هُوَ رَبِّيْ وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيْمٌ (৬৪) فَاخْتَلَفَ الْاَحْزَابُ مِنْ ۢبَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِّلَّذِيْنَ ظَلَمُوْا مِنْ عَذَابِ يَوْمٍ اَلِيْمٍ

নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই আমার রব ও তোমাদের রব। অতএব, তাঁর ইবাদত কর, এটিই সরল পথ। অতঃপর তাদের মধ্যকার কতগুলি দল মতভেদ করেছিল। সুতরাং যালিমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের দুর্ভোগ!

(সূরা ৪৩/যুখরুফঃ ৬৪-৬৫)

দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়ার কি পরিণতি হতে পারে নিজেই ভেবে দেখুন। নেককাজের দশগুণ পুরস্কার, পাপের সমানুপাতিক শাস্তি, কুরআন ও সহীহ হাদীস তথা ওহীর মাধ্যমে সরল পথে হিদায়াত, ইব্রাহীম (আঃ) নিষ্ঠার প্রশংসা ও আদর্শ এবং জীবনের সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার, শিরকমুক্ত বিশুদ্ধ তাওহীদকে আঁকড়ে ধরার ও খালেস ইবাদতের আহবান এবং মুসলিম হবার জন্য যে নির্দেশ মহান আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন তা এই কয়টি আয়াত থেকে যদি বুঝতে না পারেন তবে হয়ত আপনাকে আফসোসই করতে হবে। আয়াতকয়টি কয়েকবার পড়ুন, অর্থগুলো নিয়ে কয়েকবার ভাবুন, তাফসীরে আহসানুল বায়ান ও তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা পড়ুন, আল্লাহ আপনাদের নিষ্ঠার উপর ভিত্তি করে চিন্তার দিগন্ত খুলে দিতেও পারেন ইন-শা-আল্লাহ।

সুতরাং আমাদেরকে এক হতেই হবে। কিন্তু কিভাবে? আমরা সবাই সমস্ত দল, মত, পথ পরিত্যাগ করে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মানলেই এবং ওহীর ভিত্তিতে প্রাপ্ত সীরাতে মুস্তাকিম বা সরল পথে চললেই আমাদের পরিচয় ও ইবাদতের পদ্ধতি এক হবে। আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন ও সহীহ হাদীস থেকে রব, দ্বীন, রসূল, কিতাব ও পরিচয় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করে সরল পথে চলার এবং সমস্ত শিরক-বিদআত পরিত্যাগ করে রসূল ﷺ এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ইবাদত করার জন্য তৌফিক দান করুন, আমিন!