hadith book logo

কবরের প্রশ্ন ও প্রাসংগিক আলোচনা

লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

কবরের তৃতীয় প্রশ্ন? তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে যাকে পাঠানো হয়েছিল, তিনি কে?

কবরে/আলমে বারযাখে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তৃতীয় যে প্রশ্নটি করা হবে তা হলো ‘‘তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে যাকে পাঠানো হয়েছিল তিনি কে?’’ অন্য বর্ণনায় আছে, ‘‘তোমার নাবী কে?’’ মুক্তি পেতে হলে ব্যক্তিকে বলতে হবে, ‘‘আমার নাবী হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমরা আগেই জেনেছি যে, যে ব্যক্তি কুরআন থেকে তার নাবী সম্পর্কে ভালভাবে জেনে না নিবে সে এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না বরং বলবে ‘‘হায়, হায়, আমি জানি না’’। তাই আমরা আমাদের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত মহান আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র কুরআন থেকে যাকে আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করেছিলেন সেই প্রিয় নাবী ও প্রিয় রসূল ﷺ সম্পর্কে জানব ইন-শা-আল্লাহ। মুহাম্মাদ ﷺ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوْلٌۚ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُؕ اَفَاِنْ مَّاتَ اَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْؕ وَمَنْ يَّنْقَلِبْ عَلٰى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَّضُرَّ اللهَ شَيْئًاؕ وَّسَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِيْنَ

আর মুহাম্মাদ একজন রসূল ব্যতীত কিছু নন, নিশ্চয় তার পূর্বে অনেক রসূল গত হয়ে গেছে; যদি সে মারা যায় অথবা নিহত হয় তবে কি তোমরা তোমাদের পিছনে (জাহেলিয়াতে) ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি পিছনে ফিরে যাবে (ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে) সে কখনো আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না আর আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে পুরস্কৃত করবেন।

(সূরা ৩/আলি ইমরানঃ ১৪৪)

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ وَلٰكِنْ رَّسُوْلَ اللهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّيْنَ وَكَانَ اللهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمًا

মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রসূল ও সর্বশেষ নাবী; আর আল্লাহ হলেন সকল বিষয়ে অবগত।

(সূরা ৩৩/আহযাবঃ ৪০)

مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ وَالَّذِيْنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَّبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللهِ وَرِضْوَانًا سِيْمَاهُمْ فِيْ وُجُوْهِهِمْ مِّنْ اَثَرِ السُّجُوْدِ ذٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْاِنْجِيْلِ كَزَرْعٍ اَخْرَجَ شَطْاَهٗ فَاٰزَرَهٗ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوٰى عَلٰى سُوْقِه يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيْظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَّغْفِرَةً وَّاَجْرًا عَظِيْمًا

মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকুকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজীলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মত, যে তার কঁচিপাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কান্ডের উপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও নেককাজ করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। (সূরা ৪৮/ফাতহঃ ২৯)

اَلَّذِيْنَ يَتَّبِعُوْنَ الرَّسُوْلَ النَّبِيَّ الْاُمِّيَّ الَّذِيْ يَجِدُوْنَهٗ مَكْتُوْبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْاِنْجِيْلِؗ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ اِصْرَهُمْ وَالْاَغْلَالَ الَّتِيْ كَانَتْ عَلَيْهِمْؕ فَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِه وَعَزَّرُوْهُ وَنَصَرُوْهُ وَاتَّبَعُوا النُّوْرَ الَّذِيْۤ اُنْزِلَ مَعَهٗۤ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

যারা অনুসরণ করে সেই রসূলের যিনি উম্মী (নিরক্ষর) নাবী, যার গুণাবলী তারা নিজেদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; সে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎ/মন্দ কাজের নিষেধ করে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করে আর অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করে আর তাদের থেকে সেই বোঝা ও শৃংখল- যা তাদের উপরে ছিল (পূর্ববর্তী শরিয়তের কঠোরতা) তা অপসারন করে। সুতরাং যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং তার সাথে যে নূর (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে তার অনুসরণ করে তারাই সফলকাম। (সূরা ৭/আরাফঃ ১৫৭)

قُلْ يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ اِنِّيْ رَسُوْلُ اللهِ اِلَيْكُمْ جَمِيْعَا الَّذِيْ لَهٗ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ فَاٰمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ النَّبِيِّ الْاُمِّيِّ الَّذِيْ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَكَلِمَاتِه وَاتَّبِعُوْهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ

বল, হে লোকসকল, আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রসূল, যার জন্য রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব, তিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু দেন। অতএব, তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত উম্মী নাবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হিদায়াত লাভ করবে। (সূরা ৭/আরাফঃ ১৫৮)

قُلْ لَّاۤ اَمْلِكُ لِنَفْسِيْ نَفْعًا وَّلَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللهُؕ وَلَوْ كُنْتُ اَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِۚ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوْٓءُۚ اِنْ اَنَا اِلَّا نَذِيْرٌ وَّبَشِيْرٌ لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ

বল, আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমিতো শুধু একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য। (সূরা ৭/আরাফঃ ১৮৮)