hadith book logo

কবরের প্রশ্ন ও প্রাসংগিক আলোচনা

লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব এবং আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই

কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে পূর্বের অধ্যায়গুলো থেকে আমরা জেনেছি যে, আমাদের রব হলেন আল্লাহ। তবে কবরে ‘‘তোমার রব কে?’’ এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়ার জন্য আরো যে বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে তা হলো, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক ও একক এবং তার কোন শরীক নেই। যেহেতু আল্লাহই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, নিয়ন্ত্রণকারী, বিধানদাতা। সুতরাং ইবাদত পাবার যোগ্যতম সত্ত্বাও একমাত্র তিনিই। তিনি ছাড়া যেহেতু আর কোন সৃষ্টিকর্তা নেই, রিজিকদাতা নেই, নিয়ন্ত্রণকারী নেই, বিধানদাতা নেই তাই তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ বা উপাস্য নেই। আর এই বিশাল সাম্রাজ্যের মধ্যে যেহেতু তার কোন শরীক বা অংশীদার নেই সেহেতু ইবাদত পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার কোন অংশীদার নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেনঃ

شَهِدَ اللهُ اَنَّه لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ وَالْمَلَآئِكَةُ وَاُولُو الْعِلْمِ قَآئِمًا ۢبِالْقِسْطِؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ

আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, আর মালাইকা ও জ্ঞানীগণও। (তিনি) ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত, তিনি ছাড়া (সত্য) কোন ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা ৩/আলি ইমরানঃ ১৮)

اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُۚ لَا تَأْخُذُه سِنَةٌ وَّلَا نَوْمٌؕ لَّه مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْاَرْضِؕ مَنْ ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِنْدَه اِلَّا بِاِذْنِه ؕ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْۚ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِه ۤ اِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضَۚ وَلَا يَئُوْدُه حِفْظُهُمَاۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ/উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী, তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা ষ্পর্শ করে না। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? সম্মুখের অথবা পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন। একমাত্র তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত, তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর আসন আসমান ও যমীন ব্যাপী হয়ে আছে এবং এতদুভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না আর তিনিই সর্বোচ্চ, মহীয়ান।

(সূরা ২/বাকারাঃ ২৫৫, আয়াতুল কুরসী)

اِنَّمَاۤ اِلٰهُكُمُ اللهُ الَّذِيْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَؕ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا

তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই। সকল বিষয়েই তার জ্ঞান পরিব্যাপ্ত। (সূরা ২০/তব হাঃ ৯৮)

وَلَا تَدْعُ مَعَ اللهِ اِلٰهًا اٰخَرَ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ اِلَّا وَجْهَهٗ لَهُ الْحُكْمُ وَاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ

আর আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডেকো না, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তাঁর চেহারা ছাড়া সবকিছুই ধ্বংসশীল, সিদ্ধান্ত তাঁরই এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। (সূরা ২৮/কাসাসঃ ৮৮)

قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। اَللهُ الصَّمَدُ আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। لَمْ يَلِدْ তিনি কাউকে জন্ম দেন নি وَلَمْ يُوْلَدْ এবং তিনি জন্ম নেন নি। وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ আর তাঁর সমকক্ষ/সমতুল্য কেউ নেই।

(সূরা ১১২/ইখলাস)

মূলত আন্তরিকভাবে নিষ্ঠার সাথে এই সাক্ষ্য দিয়েই ইসলামে প্রবেশ করতে হয়।

أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُوْلُهٗ

আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওহেদাহু, লা শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি এক-অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রসূল।

এই কালিমাকে অন্তরে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয়, মুখে স্বীকৃতি দিতে হয় এবং এর দাবী ও শর্ত অনুযায়ী রসূল ﷺ এর দেখানো পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদত করতে হয়। আর এটাই হলো ঈমান। এর একটাও যদি অনুপস্থিত থাকে তবে সে ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য গাজী মুহাম্মদ তানযিল ভাইয়ের সংকলিত ‘‘কালিমাতুশ শাহাদাহ’’ কিতাবটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ রইল।

সুতরাং ইবাদত করতে হবে একমাত্র আল্লাহর, চাইতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছে। মোট কথা আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে সুষ্পষ্ট জ্ঞান না থাকলে ও তাওহীদকে মেনে না নিলে সে কবরের প্রথম প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না। তাই আমাদেরকে আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কেও কুরআন-সুন্নাহ থেকে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে।