hadith book logo

কবরের প্রশ্ন ও প্রাসংগিক আলোচনা

লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

আল্লাহ যাদের কাছে সরাসরি রব হবার পরিচয় তুলে ধরেছেন

আল কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা কয়েকজনের কাছে সরাসরি নিজের রব হবার পরিচয় তুলে ধরেছেন এবং তাদের দৃষ্টান্ত ও উপমা আমাদের জন্য উপস্থাপন করেছেনঃ

اَلَمْ تَرَ اِلَى الَّذِيْ حَآجَّ اِبْرَاهِيْمَ فِيْ رَبِّه ۤ اَنْ اٰتَاهُ اللهُ الْمُلْكَۘ اِذْ قَالَ اِبْرَاهِيْمُ رَبِّيَ الَّذِيْ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ قَالَ اَنَا اُحْيِيْ وَاُمِيْتُ قَالَ اِبْرَاهِيْمُ فَاِنَّ اللهَ يَأْتِيْ بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِيْ كَفَرَؕ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ

তুমি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখনি, যে ইব্রাহীমের সাথে তার রবের ব্যাপারে বিতর্ক করেছে এজন্য যে, আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছেন? যখন ইব্রাহীম বলল, আমার রব তিনিই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সে বলল, আমিই জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই। (জেল থেকে একজন ফাঁসীর আসামীকে ছেড়ে দিল আর একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে ধরে এনে হত্যা করল)। ইব্রাহীম বলল, নিশ্চয় আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, অতএব তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর। তখন সে (নমরূদ) হতবুদ্ধি হয়ে গেল। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না/সঠিক পথে পরিচালিত করেন না। (সূরা ২/বাকারাঃ ২৫৮)

اَوْ كَالَّذِيْ مَرَّ عَلٰى قَرْيَةٍ وَّهِيَ خَاوِيَةٌ عَلٰى عُرُوْشِهَاۚ قَالَ اَنّٰى يُحْيِيْ هٰذِهِ اللهُ بَعْدَ مَوْتِهَاۚ فَاَمَاتَهُ اللهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَه ؕ قَالَ كَمْ لَبِثْتَؕ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا اَوْ بَعْضَ يَوْمٍؕ قَالَ بَلْ لَّبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانْظُرْ اِلٰى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْۚ وَانْظُرْ اِلٰى حِمَارِكَ۫ وَلِنَجْعَلَكَ اٰيَةً لِّلنَّاسِ وَانْظُرْ اِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوْهَا لَحْمًاؕ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَه قَالَ اَعْلَمُ اَنَّ اللهَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

অথবা সে ব্যক্তির মত, যে এমন এক নগরে উপস্থিত হয়েছিল যা বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। সে বলল, আল্লাহ এটাকে মৃত্যুর পর কিভাবে জীবিত করবেন! তখন আল্লাহ তাকে একশত বছর মৃত অবস্থায় রাখলেন, অতঃপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। বললেন, তুমি কতকাল অবস্থান করেছ? সে বলল, আমি একদিন অথবা দিনের কিছু সময় অবস্থান করেছি। তিনি বললেন, বরং তুমি একশ বছর অবস্থান করেছ। সুতরাং তুমি তোমার খাবার ও পানীয়ের দিকে তাকাও, সেটি পরিবর্তিত হয়নি এবং তুমি তোমার গাধাটির দিকে তাকাও, আর যাতে আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে পারি এবং তুমি হাড়গুলোর দিকে তাকাও, কিভাবে আমি তা সংযুক্ত করি, অতঃপর তাকে আবৃত করি গোস্ত দ্বারা। পরে যখন তার নিকট স্পষ্ট হলো, তখন সে বলল, আমি জানি, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (সূরা ২/বাকারাঃ ২৫৯)

وَاِذْ قَالَ اِبْرَاهِيْمُ رَبِّ اَرِنِيْ كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتٰىؕ قَالَ اَوَلَمْ تُؤْمِنْؕ قَالَ بَلٰى وَلٰكِنْ لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِيْؕ قَالَ فَخُذْ اَرْبَعَةً مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ اِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلٰى كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِيْنَكَ سَعْيًاؕ وَّاعْلَمْ اَنَّ اللهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ

আর যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার রব, আমাকে দেখান, কিভাবে আপনি মৃতদেরকে জীবিত করেন। তিনি বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? সে বলল, অবশ্যই কিন্তু আমার অন্তরের প্রশান্তির জন্য। তিনি বললেন, তাহলে তুমি চারটি পাখি নাও। তারপর সেগুলোকে পোষ মানাও, অতঃপর প্রতিটি পাহাড়ে সেগুলার টুকরো অংশ রেখে আস। তারপর সেগুলোকে ডাক, সেগুলো দৌড়ে আসবে তোমার নিকট। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা ২/বাকারাঃ ২৬০)

সূরা নং ৩, সূরা আলি ইমরান এর ৩৫-৪০ আয়াতে আল্লাহ বলেন,

اِذْ قَالَتِ امْرَاَتُ عِمْرَانَ رَبِّ اِنِّيْ نَذَرْتُ لَكَ مَا فِيْ بَطْنِيْ مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّيْۤۚ اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে, নিশ্চয় আমি তা খালেসভাবে আপনার জন্য মানত করলাম। অতএব, আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।

فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ اِنِّيْ وَضَعْتُهَاۤ اُنْثٰىۚ وَاللهُ اَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْؕ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْاُنْثٰىۚ وَاِنِّيْ سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَاِنِّيْۤ اُعِيْذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

অতঃপর যখন সে তা প্রসব করল, বলল, হে আমার রব, নিশ্চয় আমি কন্যা প্রসব করেছি, আর আল্লাহ জানেন সে যা প্রসব করেছে, আর পূত্র সন্তান কন্যা সন্তানের মত নয় এবং নিশ্চয় আমি তার নাম রেখেছি মারিয়াম। আর নিশ্চয় আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُوْلٍ حَسَنٍ وَّاَنْۢبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَّكَفَّلَهَا زَكَرِيَّاؕ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًاۚ قَالَ يَا مَرْيَمُ اَنّٰى لَكِ هٰذَاؕ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللهِؕ اِنَّ اللهَ يَرْزُقُ مَنْ يَّشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

অতঃপর তার রব তাকে উত্তমরূপে কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমভাবে গড়ে তুললেন। আর তাকে যাকারিয়ার দায়িত্বে দিলেন। যখনই যাকারিয়া তার কাছে তার কক্ষে প্রবেশ করত, তখনই তার নিকট খাদ্যসামগ্রী পেত। সে বলত, হে মারিয়াম, কোথা থেকে তোমার জন্য এটি? সে বলত, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে রিযিক দান করেন।

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّه ۚ قَالَ رَبِّ هَبْ لِيْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةًۚ اِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ

সেখানে যাকারিয়া তার রবের কাছে প্রার্থনা করেছিল, সে বলল, ‘‘হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন, নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’’

فَنَادَتْهُ الْمَلَآئِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُّصَلِّيْ فِي الْمِحْرَابِ اَنَّ اللهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيٰى مُصَدِّقًا ۢبِكَلِمَةٍ مِّنَ اللهِ وَسَيِّدًا وَّحَصُوْرًا وَّنَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِيْنَ

অতঃপর মালাইকা তাকে ডেকে বলল, সে যখন কক্ষে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা ও নারী সম্ভোগমুক্ত এবং নেককারদের মধ্য থেকে একজন নাবী।

قَالَ رَبِّ اَنّٰى يَكُوْنُ لِيْ غُلَامٌ وَّقَدْ بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ وَامْرَاَتِيْ عَاقِرٌؕ قَالَ كَذٰلِكَ اللهُ يَفْعَلُ مَا يَشَآءُ

সে বলল, হে আমার রব, আমার পুত্র হবে কিভাবে? আমার তো বার্ধক্য এসে গেছে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। তিনি বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তাই করেন।

সূরা নং ৩, সূরা আলি ইমরান এর ৪৫-৪৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন,

اِذْ قَالَتِ الْمَلَآئِكَةُ يَا مَرْيَمُ اِنَّ اللهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيْحُ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيْهًا فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِيْنَ

স্মরণ কর, যখন মালাইকা বলল, হে মারিয়াম, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ ঈসা ইবনে মারিয়াম, যে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত ও নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত।

وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَّمِنَ الصَّالِحِيْنَ

আর সে মানুষের সাথে কথা বলবে দোলনায় (থাকা অবস্থায়) ও পরিণত বয়সে এবং সে নেককারদের অন্তর্ভূক্ত।

قَالَتْ رَبِّ اَنّٰى يَكُوْنُ لِيْ وَلَدٌ وَّلَمْ يَمْسَسْنِيْ بَشَرٌ ؕ قَالَ كَذٰلِكِ اللهُ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُؕ اِذَاۤ قَضٰۤى اَمْرًا فَاِنَّمَا يَقُوْلُ لَه كُنْ فَيَكُوْنُ

সে বলল, হে আমার রব, কিভাবে আমার সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আল্লাহ বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে শুধু বলেন, হও। ফলে তা হয়ে যায়।

ইব্রাহীম (আঃ) কিভাবে রবকে খুঁজে পেলেন তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে সূরা আনআম এর ৭১-৮০ আয়াতে এবং ইব্রাহীম (আঃ) কিভাবে রবকে আঁকড়ে ধরলেন তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে হয়েছে সূরা আনআম এর ১৬১-১৬৫ আয়াতে। আরো দেখুন সূরা শুআরা ২৩-২৮ আয়াত। আল কুরআনের আরো বহু আয়াতে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।