১
কবরের প্রশ্ন ও প্রাসংগিক আলোচনা
লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
কবরের প্রথম প্রশ্নঃ তোমার রব কে?
মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে মৃত্যুর পরে কবরে/আলমে বারযাখে (অদৃশ্য জগতে) প্রথম যে প্রশ্ন করা হবে তা হলো, তোমার রব কে? বিষয়টি এমন নয় যে, দুনিয়ার জীবন থেকে বিষয়টি অন্যের মুখে শুনে শুনে জেনে গেলেই সে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারবে। প্রকৃতপক্ষে দুনিয়ার জীবনে যে ব্যক্তি কুরআন বুঝে বুঝে পড়ার মাধ্যমে নিজের রব সম্পর্কে জেনে নিয়ে রবের বিধান মেনে চলবেন তিনিই কেবল এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন। অন্যথায় কেউই এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না বরং বলবে, ‘‘হায়, হায়, আমি জানি না।’’ যারা দুনিয়ার জীবনে অসচেতন জীবন যাপন করবে, কে তাকে সৃষ্টি করলেন, কেন তাকে সৃষ্টি করলেন এ ব্যাপারে সচেতন না হয়ে উদাসিন জীবন যাপন করলেন, খাও-দাও-ফূর্তি করো মনোভাব নিয়ে নাটক, সিনেমা, গান বাজনা, যেনা-ব্যাভিচার, সুদ-ঘুষ নানাবিধ পাপের কাজে ডুবে থাকলেন, জীবনভর অন্যের বিধান মেনে চললেন, এমনকি অনেকেই তার অর্থ-শ্রম-মেধা, সময়, শক্তি ও ক্ষমতা সবকিছু মানব রচিত বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করলেন আর কুরআন-সুন্নাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই, জীবনে কুরআন-হাদীস পড়লেনও, জানলেনও না আর কবরে গিয়ে সুন্দরভাবে বলে দিলেন আমার রব হলেন আল্লাহ- তা হবার নয়। মূলত দুনিয়ার জীবনে যারা রবকে রবের মত করে জানলেন, রবকে রবের মত করে মানবেন তিনিই কেবল এর সঠিক জবাব দিতে পারবেন। তাই আমাদের প্রত্যেককে কুরআন বুঝে বুঝে পড়ার মাধ্যমে রব সম্পর্কে, তার বিধান সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করতে হবে। পবিত্র কুরআন শুরু হয়েছে সূরা ফাতিহা দিয়ে আর সূরা ফাতিহা শুরু হয়েছে মহান আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে যাকে বিশ্বজাহানের রব বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে। রুকু ও সিজদাতেও রবের পবিত্রতা ঘোষণা করতে হয়। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে বিভিন্ন নাবী-রসূলদের দোয়া তুলে ধরা হয়েছে এভাবে যে, ( رَبِّي ) হে আমার রব, ( رَبَّنَا ) হে আমাদের রব। আর মৃত্যুর পরেও কবরে/আলমে বারযাখে প্রথম প্রশ্ন হবে তোমার রব কে? এই প্রশ্নের জবাব আল্লাহ তা‘আলা নিজেই অনুগ্রহ করে ওহীর মাধ্যমে কুরআন পাঠিয়ে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন এবং মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়াতে সেই কুরআন পড়ে জেনে নিবেন যে, আমাদের রব হলেন আল্লাহ। যেমন পবিত্র কুরআন থেকে আমরা জানতে পেরেছিঃ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার যিনি বিশ্ব জাহানের রব। (সূরা ১/ফাতিহাঃ১)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّوْرَؕ ثُمَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُوْنَ
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার যিনি সৃষ্টি করেছেন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো। তারপর কাফিররা তাদের রবের সমতুল্য স্থির করে। (সূরা ৬/আনআমঃ১)
فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْاؕ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
অতএব যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল আর সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার যিনি বিশ্ব জাহানের রব। (সূরা ৬/আনআমঃ ৪৫)
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ -থ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ থ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ থ
তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, মহাসম্মানের মালিক আর রসূলদের প্রতি সালাম। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। (সূরা ৩৭/ সফ্ফাতঃ ১৮০-১৮২)
শুধু দুনিয়াতেই নয় বরং দুনিয়ার জীবনে যারা রবের প্রশংসা করবে, তার বিধান মেনে চলবে তারা আখিরাতে জান্নাতেও তাদের রবের প্রশংসা করবে।
دَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيْهَا سَلَامٌۚ وَّاٰخِرُ دَعْوَاهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
সেখানে (জান্নাতে) তাদের কথা হবে, হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র মহান এবং তাদের অভিবাদন হবে, সালাম। আর তাদের শেষ কথা হবে যে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজাহানের রব। (সূরা ১০/ইউনুসঃ ১০)
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْۤ اَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوْرٌ شَكُوْرٌ
আর তারা (জান্নাতবাসীরা) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী। (সূরা ৩৫/ফাতিরঃ ৩৪)
وَتَرَى الْمَلَآئِكَةَ حَآفِّيْنَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَقِيْلَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
আর তুমি মালায়িকাদেরকে আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করতে দেখতে পাবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচার করে দেয়া হবে এবং বলা হবে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।
(সূরা ৩৯/যুমারঃ ৭৫)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার যিনি বিশ্ব জাহানের রব। (সূরা ১/ফাতিহাঃ১)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّوْرَؕ ثُمَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُوْنَ
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার যিনি সৃষ্টি করেছেন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো। তারপর কাফিররা তাদের রবের সমতুল্য স্থির করে। (সূরা ৬/আনআমঃ১)
فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْاؕ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
অতএব যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল আর সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার যিনি বিশ্ব জাহানের রব। (সূরা ৬/আনআমঃ ৪৫)
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ -থ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ থ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ থ
তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, মহাসম্মানের মালিক আর রসূলদের প্রতি সালাম। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। (সূরা ৩৭/ সফ্ফাতঃ ১৮০-১৮২)
শুধু দুনিয়াতেই নয় বরং দুনিয়ার জীবনে যারা রবের প্রশংসা করবে, তার বিধান মেনে চলবে তারা আখিরাতে জান্নাতেও তাদের রবের প্রশংসা করবে।
دَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيْهَا سَلَامٌۚ وَّاٰخِرُ دَعْوَاهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
সেখানে (জান্নাতে) তাদের কথা হবে, হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র মহান এবং তাদের অভিবাদন হবে, সালাম। আর তাদের শেষ কথা হবে যে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজাহানের রব। (সূরা ১০/ইউনুসঃ ১০)
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْۤ اَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوْرٌ شَكُوْرٌ
আর তারা (জান্নাতবাসীরা) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী। (সূরা ৩৫/ফাতিরঃ ৩৪)
وَتَرَى الْمَلَآئِكَةَ حَآفِّيْنَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَقِيْلَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
আর তুমি মালায়িকাদেরকে আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করতে দেখতে পাবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচার করে দেয়া হবে এবং বলা হবে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।
(সূরা ৩৯/যুমারঃ ৭৫)