১
কবরের প্রশ্ন ও প্রাসংগিক আলোচনা
লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
গভীরভাবে ভাবার বিষয়
আমরা দুনিয়াতে কার বিধান মেনে চলেছি বা আমাদের রব কে? কবরে এটা প্রশ্ন করা স্বাভাবিক এবং কোন জীবন বিধান বা দ্বীন মেনে চলেছি বা আমাদের দ্বীন কি ছিল? এই প্রশ্ন করাও স্বাভাবিক কিন্তু তোমাদের মাঝে যাকে পাঠানো হয়েছিল তিনি কে বা তোমার নাবী কে? এই প্রশ্নের হাকীকত কি? আল্লাহ তা‘আলা মানুষের মধ্য থেকে মুহাম্মাদ ﷺ এর কাছে রিসালাতের দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি দ্বীন ইসলাম প্রচার করেছেন ও দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠাও করেছেন। সুতরাং তোমার দ্বীন কি ছিল? এই প্রশ্নইতো যথেষ্ঠ ছিল। এই প্রশ্নের হাকীকত হলো দ্বীন ইসলামকে আমরা কোন পদ্ধতিতে পালন করেছি, ইসলামের আমলগুলো কার পদ্ধতিতে সম্পাদন করেছি এটাই হলো তার হিকমত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْاٰخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيْرًا
অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও আখেরাতের দিবসের (কল্যাণ) কামনা করে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমানে স্মরণ করে। (সূরা ৩৩/আহযাবঃ ২১)
এই সূরার প্রেক্ষাপট এবং এই আয়াতের আগে পিছের আয়াত খেয়াল করলে অবশ্য বুঝা যায় যে, সূরাটি ও আয়াত জিহাদের ধৈর্যশীলতা ও পদ দৃঢ়তায় রসূল ﷺ এর আর্দশকে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নাবী ﷺ ক্ষুধার্ত থেকে জিহাদ করেছেন, এমনকি তাঁকে পেটে পাথর বাঁধতে হয়েছে। তাঁর চেহারা মুবারক জখম হয়েছে, তাঁর দাত ভেঙ্গে গেছে, তিনি নিজ হাতে পরিখা খনন করেছেন এবং প্রায় এক মাস শত্রু বাহিনীর অবরোধের মুখে সাহসিকতার সাথে মুকাবেলা করেছেন। উক্ত আয়াত যদিও আহযাব যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে যুদ্ধের সময় বিশেষভাবে রসূল ﷺ এর আদর্শকে সামনে রাখা ও তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মূলত এটি একটি ব্যাপক আদেশ। সামগ্রিকভাবে ইসলাম পালনের ক্ষেত্রেও এই আদেশ সমভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ নাবী ﷺ এর সকল কথা, কাজ, ঈমান-আমল, ইবাদত, যিকির, প্রার্থনা এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত হোক, জীবিকা সম্পর্কিত হোক বা রাজনীতি সম্পর্কিত হোক; এককথায় জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর নির্দেশ ও আদর্শ (সুন্নাহ) পালন করা একান্ত কর্তব্য। সূরা ৫৯/হাশরের ৭ নং আয়াত এবং সূরা ৩/আলি ইমরানের ৩১ নং আয়াতের দাবীও এটাই। এখানে আরও একটি কথা পরিস্কার করে বলা হয়েছে যা অনেকের বুঝতে পারেন না, তা হলো- রসূল ﷺ এর আদর্শে ঐ ব্যক্তি আদর্শবান হবেন, যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী (অর্থাৎ দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দেন) এবং যে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে থাকেন অর্থাৎ আল্লাহর বিধানকে স্মরণ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিমরা উক্ত দুই গুণ থেকে বঞ্চিত। যার ফলে তাদের অন্তরে রসূল ﷺ এর আদর্শের কোন গুরুত্ব নেই। সহীহ হাদীসের দলিল দিয়ে রসূল ﷺ সুন্নাহর কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পরেও মুখ ফিরিয়ে নেন। এদের মধ্যে যারা দুনিয়াদার বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের আদর্শ ও পথপ্রদর্শক হলো পাশ্চাত্যের নেতারা। আর যারা দ্বীনদার তাদের আদর্শ হলো তাদের পীর, বুযুর্গ, মুরববী, আলেম-ওলামা, ওস্তাদ ও আকাবির, দল, মত, ইজম, মাযহাব ইত্যাদি। রসূল ﷺ এর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসার কথা খুব করে মুখে দাবী করলেও কার্যতঃ তাকে নিজেদের আদর্শ, নেতা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে মানার ব্যাপারে অধিকাংশই নারাজ। অবশ্য রসূল ﷺ এর সুন্নতের কথা বলে বিদয়াতী আমলে অনেকেই নিষ্ঠাবান। সুতরাং সাবধান! সহীহ হাদীসের কিতাব পড়ে জেনে নিন কোনটা আসলে সুন্নত। মনে রাখবেন, বিদয়াতের কোন দলিল নেই। যা রসূল ﷺ নিজে করেননি, করতে বলেননি, যা কুরআন-হাদীসে নেই সেটাই বিদয়াত। সেটাই পরিত্যাজ। আমল করতে হবে আল্লাহ ও রসূল ﷺ এর আদেশ জেনে এবং রসূল ﷺ এর পদ্ধতিতে। এটাই কালিমাতুশ শাহাদাতের শেষ অংশের শিক্ষা যেখানে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছিঃ
أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُوْلُهٗ
আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়েদাহু, লা সারি কালাহু, ওয়া আসহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন ইলাহ নেই, তিনি এক ও একক এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রসূল।
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْاٰخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيْرًا
অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও আখেরাতের দিবসের (কল্যাণ) কামনা করে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমানে স্মরণ করে। (সূরা ৩৩/আহযাবঃ ২১)
এই সূরার প্রেক্ষাপট এবং এই আয়াতের আগে পিছের আয়াত খেয়াল করলে অবশ্য বুঝা যায় যে, সূরাটি ও আয়াত জিহাদের ধৈর্যশীলতা ও পদ দৃঢ়তায় রসূল ﷺ এর আর্দশকে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নাবী ﷺ ক্ষুধার্ত থেকে জিহাদ করেছেন, এমনকি তাঁকে পেটে পাথর বাঁধতে হয়েছে। তাঁর চেহারা মুবারক জখম হয়েছে, তাঁর দাত ভেঙ্গে গেছে, তিনি নিজ হাতে পরিখা খনন করেছেন এবং প্রায় এক মাস শত্রু বাহিনীর অবরোধের মুখে সাহসিকতার সাথে মুকাবেলা করেছেন। উক্ত আয়াত যদিও আহযাব যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে যুদ্ধের সময় বিশেষভাবে রসূল ﷺ এর আদর্শকে সামনে রাখা ও তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মূলত এটি একটি ব্যাপক আদেশ। সামগ্রিকভাবে ইসলাম পালনের ক্ষেত্রেও এই আদেশ সমভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ নাবী ﷺ এর সকল কথা, কাজ, ঈমান-আমল, ইবাদত, যিকির, প্রার্থনা এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত হোক, জীবিকা সম্পর্কিত হোক বা রাজনীতি সম্পর্কিত হোক; এককথায় জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর নির্দেশ ও আদর্শ (সুন্নাহ) পালন করা একান্ত কর্তব্য। সূরা ৫৯/হাশরের ৭ নং আয়াত এবং সূরা ৩/আলি ইমরানের ৩১ নং আয়াতের দাবীও এটাই। এখানে আরও একটি কথা পরিস্কার করে বলা হয়েছে যা অনেকের বুঝতে পারেন না, তা হলো- রসূল ﷺ এর আদর্শে ঐ ব্যক্তি আদর্শবান হবেন, যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী (অর্থাৎ দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দেন) এবং যে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে থাকেন অর্থাৎ আল্লাহর বিধানকে স্মরণ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিমরা উক্ত দুই গুণ থেকে বঞ্চিত। যার ফলে তাদের অন্তরে রসূল ﷺ এর আদর্শের কোন গুরুত্ব নেই। সহীহ হাদীসের দলিল দিয়ে রসূল ﷺ সুন্নাহর কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পরেও মুখ ফিরিয়ে নেন। এদের মধ্যে যারা দুনিয়াদার বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের আদর্শ ও পথপ্রদর্শক হলো পাশ্চাত্যের নেতারা। আর যারা দ্বীনদার তাদের আদর্শ হলো তাদের পীর, বুযুর্গ, মুরববী, আলেম-ওলামা, ওস্তাদ ও আকাবির, দল, মত, ইজম, মাযহাব ইত্যাদি। রসূল ﷺ এর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসার কথা খুব করে মুখে দাবী করলেও কার্যতঃ তাকে নিজেদের আদর্শ, নেতা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে মানার ব্যাপারে অধিকাংশই নারাজ। অবশ্য রসূল ﷺ এর সুন্নতের কথা বলে বিদয়াতী আমলে অনেকেই নিষ্ঠাবান। সুতরাং সাবধান! সহীহ হাদীসের কিতাব পড়ে জেনে নিন কোনটা আসলে সুন্নত। মনে রাখবেন, বিদয়াতের কোন দলিল নেই। যা রসূল ﷺ নিজে করেননি, করতে বলেননি, যা কুরআন-হাদীসে নেই সেটাই বিদয়াত। সেটাই পরিত্যাজ। আমল করতে হবে আল্লাহ ও রসূল ﷺ এর আদেশ জেনে এবং রসূল ﷺ এর পদ্ধতিতে। এটাই কালিমাতুশ শাহাদাতের শেষ অংশের শিক্ষা যেখানে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছিঃ
أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُوْلُهٗ
আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়েদাহু, লা সারি কালাহু, ওয়া আসহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন ইলাহ নেই, তিনি এক ও একক এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রসূল।