১
হারাম শরীফের দেশ ফজিলত ও আহকাম
লেখকঃ দা‘ওয়াহ ও উসূলুদ্দীন ফ্যাকাল্টি, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
চতুর্থত : মুলতাযাম
‘আবদুর রহমান ইবনে সাফওয়ান বলেন :
فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ خَرَجَ مِنْ الْكَعْبَةِ هُوَ وَأَصْحَابُهُ وَقَدْ اسْتَلَمُوا الْبَيْتَ مِنْ الْبَابِ إِلَى الْحَطِيمِ وَقَدْ وَضَعُوا خُدُودَهُمْ عَلَى الْبَيْتِ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسْطَهُمْ .
‘‘তিনি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল (ﷺ) ও তাঁর সাথীদের কা‘বা গৃহ হতে বের হতে দেখলেন। অতঃপর তারা কা‘বা গৃহের দরজা থেকে নিয়ে হাতীম পর্যন্ত স্পর্শ করলেন এবং তাঁরা তাঁদের গাল বাইতুল্লাহর সাথে লাগিয়ে রাখলেন। রাসূল (ﷺ) তখন তাদের মাঝে ছিলেন।’’ [সুনানু আবূ দাঊদঃ ১৮৯৮। এই হাদীসের সনদে দুর্বলতা আছে। কিন্তু তার অনুরূপ একটি হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনে আম্র থেকে বর্ণিত। তিনি রুকন এবং দরজার মাঝখানে দাঁড়ালেন। তিনি তার বক্ষ, দু’ বাহু ও দু’ হাতের তালু সম্প্রসারিত করে কা‘বা গৃহের উপর রাখলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে এমনটি করতে দেখেছি। আবূ দাঊদঃ ১৮৯৯; ইবনে মাজাহঃ ১৯৬২। এই হাদীসের সনদ উত্তম।]
আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কা‘বা গৃহের দরজা এবং রুকনের মাঝামাঝি স্থানটি মুলতাযাম। [আবদুর রাজ্জাক সানআনী, আল্-মুসান্নাফঃ ৭৬/৫, এই হাদীসের সনদ সহীহ। আলবানী তাঁর সহীহ হাদীস সংকলনে এই হাদীসটি সন্নিবেশিত করেছেন। (১৭১/৫)]
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেন : কোন ব্যক্তি যদি হাজরে আসওয়াদ এবং কা‘বা গৃহের দরজার মাঝামাঝি মুল্তাযাম আসতে চায়, তার উচিত সে যেন তার বক্ষ, চেহারা, দুই বাহু ও দুই হাতের তালু মুলতাযামে রেখে দু‘আ করে এবং আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজন কামনা করে। আর এটা তাওয়াফুল বিদা’র পূর্বেও করা যায়। এ কাজটি বিদায়ি মুহূর্তে বা তার পূর্বে যে কোন সময় করা যায়। রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীরা মক্কা প্রবেশ করার সময় এ কাজটি করতেন।
আর সে ব্যক্তি চাইলে ইবনে আববাস (রাযি) থেকে বর্ণিত দু‘আও পড়তে পারে। সে দু‘আটি হচ্ছে : হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দাহ, তোমার বান্দার সন্তান এবং তোমার বাঁদির সন্তান। তুমি আমাকে এখানে তোমার বশীভূত সৃষ্টির উপর বহন করে নিয়ে এসেছ, এবং তুমি তোমার দেশে আমাকে ভ্রমণ করিয়েছ। অবশেষে তোমার নিয়ামতের বদৌলতে তুমি আমাকে তোমার ঘরে পৌঁছেছি এবং হজ করার তৌফিক এনায়েত করেছ।
তুমি যদি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে থাক, তাহলে আমার প্রতি আরো বেশি সন্তুষ্ট হও। অন্যথায় আমার বাড়ি তোমার ঘর (কা‘বা) থেকে দূরবর্তী হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাও। আমার দেশে ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে, যদি তুমি আমাকে অনুমতি দাও। তোমাকে এবং তোমার ঘরকে পরিবর্তন করছি না। আমি তোমার ও তোমার ঘর থেকে বিমুখও নই। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে শারীরিক আরোগ্য ও সুস্থতা দান কর। তুমি আমার দীনকে হিফাযাত কর। তুমি আমার পরিণতি সুন্দর কর। যতদিন এ পৃথিবীতে থাকার সুযোগ দেবে, ততদিন তোমার অনুগত হয়ে থাকার তৌফিক দান কর। তুমি আমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান কর, তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। [মাজমু’ ফাতাওয়া শায়খিল ইসলামঃ ১৪২/২৬, এ দু‘আটুকু ইমাম শাফিঈ (রহঃ) থেকেও বর্ণিত। বাইহাকী তাঁর সুনানে এই হাদীসটি সন্নিবেশিত করেছেন, ১৬৪/৫। তিনি বলেনঃ এটি ইমাম শাফিঈ’র বক্তব্য। এ দু‘আটি উত্তম।]
فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ خَرَجَ مِنْ الْكَعْبَةِ هُوَ وَأَصْحَابُهُ وَقَدْ اسْتَلَمُوا الْبَيْتَ مِنْ الْبَابِ إِلَى الْحَطِيمِ وَقَدْ وَضَعُوا خُدُودَهُمْ عَلَى الْبَيْتِ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسْطَهُمْ .
‘‘তিনি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল (ﷺ) ও তাঁর সাথীদের কা‘বা গৃহ হতে বের হতে দেখলেন। অতঃপর তারা কা‘বা গৃহের দরজা থেকে নিয়ে হাতীম পর্যন্ত স্পর্শ করলেন এবং তাঁরা তাঁদের গাল বাইতুল্লাহর সাথে লাগিয়ে রাখলেন। রাসূল (ﷺ) তখন তাদের মাঝে ছিলেন।’’ [সুনানু আবূ দাঊদঃ ১৮৯৮। এই হাদীসের সনদে দুর্বলতা আছে। কিন্তু তার অনুরূপ একটি হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনে আম্র থেকে বর্ণিত। তিনি রুকন এবং দরজার মাঝখানে দাঁড়ালেন। তিনি তার বক্ষ, দু’ বাহু ও দু’ হাতের তালু সম্প্রসারিত করে কা‘বা গৃহের উপর রাখলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে এমনটি করতে দেখেছি। আবূ দাঊদঃ ১৮৯৯; ইবনে মাজাহঃ ১৯৬২। এই হাদীসের সনদ উত্তম।]
আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কা‘বা গৃহের দরজা এবং রুকনের মাঝামাঝি স্থানটি মুলতাযাম। [আবদুর রাজ্জাক সানআনী, আল্-মুসান্নাফঃ ৭৬/৫, এই হাদীসের সনদ সহীহ। আলবানী তাঁর সহীহ হাদীস সংকলনে এই হাদীসটি সন্নিবেশিত করেছেন। (১৭১/৫)]
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেন : কোন ব্যক্তি যদি হাজরে আসওয়াদ এবং কা‘বা গৃহের দরজার মাঝামাঝি মুল্তাযাম আসতে চায়, তার উচিত সে যেন তার বক্ষ, চেহারা, দুই বাহু ও দুই হাতের তালু মুলতাযামে রেখে দু‘আ করে এবং আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজন কামনা করে। আর এটা তাওয়াফুল বিদা’র পূর্বেও করা যায়। এ কাজটি বিদায়ি মুহূর্তে বা তার পূর্বে যে কোন সময় করা যায়। রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীরা মক্কা প্রবেশ করার সময় এ কাজটি করতেন।
আর সে ব্যক্তি চাইলে ইবনে আববাস (রাযি) থেকে বর্ণিত দু‘আও পড়তে পারে। সে দু‘আটি হচ্ছে : হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দাহ, তোমার বান্দার সন্তান এবং তোমার বাঁদির সন্তান। তুমি আমাকে এখানে তোমার বশীভূত সৃষ্টির উপর বহন করে নিয়ে এসেছ, এবং তুমি তোমার দেশে আমাকে ভ্রমণ করিয়েছ। অবশেষে তোমার নিয়ামতের বদৌলতে তুমি আমাকে তোমার ঘরে পৌঁছেছি এবং হজ করার তৌফিক এনায়েত করেছ।
তুমি যদি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে থাক, তাহলে আমার প্রতি আরো বেশি সন্তুষ্ট হও। অন্যথায় আমার বাড়ি তোমার ঘর (কা‘বা) থেকে দূরবর্তী হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাও। আমার দেশে ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে, যদি তুমি আমাকে অনুমতি দাও। তোমাকে এবং তোমার ঘরকে পরিবর্তন করছি না। আমি তোমার ও তোমার ঘর থেকে বিমুখও নই। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে শারীরিক আরোগ্য ও সুস্থতা দান কর। তুমি আমার দীনকে হিফাযাত কর। তুমি আমার পরিণতি সুন্দর কর। যতদিন এ পৃথিবীতে থাকার সুযোগ দেবে, ততদিন তোমার অনুগত হয়ে থাকার তৌফিক দান কর। তুমি আমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান কর, তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। [মাজমু’ ফাতাওয়া শায়খিল ইসলামঃ ১৪২/২৬, এ দু‘আটুকু ইমাম শাফিঈ (রহঃ) থেকেও বর্ণিত। বাইহাকী তাঁর সুনানে এই হাদীসটি সন্নিবেশিত করেছেন, ১৬৪/৫। তিনি বলেনঃ এটি ইমাম শাফিঈ’র বক্তব্য। এ দু‘আটি উত্তম।]