১
হারাম শরীফের দেশ ফজিলত ও আহকাম
লেখকঃ দা‘ওয়াহ ও উসূলুদ্দীন ফ্যাকাল্টি, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
৩. মক্কা ও মক্কা বাসীর জন্য ইবরাহীম খালীল (আঃ)-এর দু‘আ :
আমাদের প্রভু আল্লাহ (তাআলা) তাঁর মহান কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইবরাহীম খালীলুর রহমান (আঃ) তাঁর সন্তান ইসমা‘ঈল ও নিজ স্ত্রী হাজার (আঃ)-কে বসবাস করিয়ে দেয়ার পর শহরটির অধিবাসীদের জন্য দু‘আ করেন। তিনি শহরটিকে নিরাপদ শহরে পরিণত কর এবং নিজ সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা হতে হিফাযত করার দু‘আ করেন। তিনি মুসলমানদের হৃদয়কে তাদের প্রতি এবং তাদের শহরের প্রতি অনুরাগী করে দেয়ার জন্য দু‘আ করেন। ফল-ফলাদি দ্বারা তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করার দু‘আ করেন এবং তাদের মধ্য হতে তাদের জন্য একজন নবী প্রেরণের দু‘আ করেন। এ ছিল নবীদের পিতা ইবরাহীম খালি লুর রহমান (আঃ)-এর মুবারক দু‘আসমূহ। আল্লাহ এর সবগুলোই তাঁর মহান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন—
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آَمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ ﴿35﴾ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿36﴾ رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ ﴿37﴾
‘‘এবং (স্মরণ করুন) যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, হে আমার প্রভু! এ শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন। হে আমার প্রতিপালক! এ সকল মূর্তি তো বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত হবে। কিন্তু আমার অবাধ্য হলে তুমি তো মহা ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করালাম অনুর্বর ভূমিতে তোমার পবিত্র ঘরের নিকট, হে আমাদের প্রতিপালক! এজন্য যে তারা যে সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন। এবং ফলাদি দ্বারা তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’’ [সূরা ইবরাহীমঃ ৩৫-৩৭।]
আল্লাহ () আরো এরশাদ করেন :
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿129﴾
‘‘হে আমাদের প্রভু! তাদের মধ্য হতে তাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করুন যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শেখাবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। আপনি তো মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।’’ [সূরা বাকারাঃ ১২৯।]
আল্লাহ (তাআলা) এ দু‘আ কবুল করেন। অনুর্বর ভূমির এ জনপদের অধিবাসীকে তিনি ফল দ্বারা রিজিক দান করেন। এগুলো আমদানি করা হয় সকল উঁচু নিচু প্রান্তর হতে। এমনকি শীতের ফল পাওয়া যায় গ্রীষ্মের মওসুমে, আর গ্রীষ্মের ফল পাওয়া যায় শীতের মওসুমে। দু‘আ কবুলকারী আল্লাহ মহা পবিত্র। সকল প্রশংসা মহানদাতা আল্লাহর জন্য।
এ বালাদে হারামের অধিবাসীদের উপর আল্লাহ ()-র নেয়ামত প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে ধন্য করার উল্লেখ মূলত: তাদেরকে এ নিয়ামাতরাজির ফজিলত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং তাঁর ঘর ও হারামের সাথে বেয়াদবি করা হতে সতর্ক করার জন্যই করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ (তাআলা) এরশাদ করেন :
أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آَمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقًا مِنْ لَدُنَّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿57﴾
আমি কি তাদেরকে এক নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানি হয় আমার দেয়া রিজিক স্বরূপ? কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।’’ [সূরা কাসাসঃ ৫৭।]
মুসলমানদের হৃদয়কে তাদের প্রতি এবং এ শহরের প্রতি অনুরাগী করে দেয়ার জন্য ইবরাহীম খলিল দু‘আ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর এ দু‘আ কবুল করেছেন। তিনি এ ঘরকে মানবজাতির মিলন কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। অর্থাৎ বিশ্বের সকল প্রান্ত হতে বছরব্যাপী মানুষের আগমন ঘটে এ শহরে। তারা এ শহর থেকে কেবল তাদের প্রয়োজন মিটায় না, বরং যতই এ শহরে তাদের আগমন ঘটে ততই এ শহরের প্রতি তাদের আকর্ষণ আরো বেড়ে যায়। কেননা আল্লাহ (তাআলা) ঈমানদারদের অন্তরে এ শহরের মহববত এবং এখানে আগমনের এক অনুরাগ দিয়েছেন। [ইবনেুল কাইয়েম, যাদুল মা‘আদ ১/৫১।]
ইবনে আববাস, মুজাহিদ ও সা‘ঈদ ইবনে জুবাইর বলেন, আল্লাহ (তাআলা) যদি আয়াতে ‘মানুষের অন্তর’ বলতেন তাহলে পারসিক, রোমীয়, ইয়াহুদী, খৃষ্টানসহ সকল ধরনের মানুষেরা এ শহরে ভিড় জমাতো। কিন্তু আল্লাহ (তাআলা) বলেছেন, ‘কিছু মানুষের অন্তর’, তাই (এ শহর) মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। [তাফসীরে ইবনে জারীর ১৪/১৫৫, তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৫৪৯।]
এ উম্মতের জন্য ইবরাহীম খালি লুর রহমান একজন রাসূল প্রেরণের যে দু‘আ করেছিলেন, সে দু‘আ আল্লাহ (তাআলা)-র পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উম্মিদের মাঝে রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষেই কবুল হয়েছে। এভাবে তিনি প্রেরিত হয়েছেন মানব ও জিন জাতির জন্য। ‘ইরবাদ ইবনে সারিয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেছেন : আমি আল্লাহর নিকট অবশ্যই ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ (সর্বশেষ নবী) হিসেবে ছিলাম, তখন আদম (আঃ) নিজ কাদা মাটিতে গড়াগড়ি খাচিছলেন। আমি অবশ্যই এ সম্পর্কে তোমাদেরকে সংবাদ দেব। এ ছিল আমার পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর দু‘আ আমার সম্পর্কে ‘ঈসার সুসংবাদ এবং আমার মায়ের স্বপ্ন যা তিনি দেখেছিলেন।
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آَمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ ﴿35﴾ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿36﴾ رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ ﴿37﴾
‘‘এবং (স্মরণ করুন) যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, হে আমার প্রভু! এ শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন। হে আমার প্রতিপালক! এ সকল মূর্তি তো বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত হবে। কিন্তু আমার অবাধ্য হলে তুমি তো মহা ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করালাম অনুর্বর ভূমিতে তোমার পবিত্র ঘরের নিকট, হে আমাদের প্রতিপালক! এজন্য যে তারা যে সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন। এবং ফলাদি দ্বারা তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’’ [সূরা ইবরাহীমঃ ৩৫-৩৭।]
আল্লাহ () আরো এরশাদ করেন :
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿129﴾
‘‘হে আমাদের প্রভু! তাদের মধ্য হতে তাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করুন যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শেখাবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। আপনি তো মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।’’ [সূরা বাকারাঃ ১২৯।]
আল্লাহ (তাআলা) এ দু‘আ কবুল করেন। অনুর্বর ভূমির এ জনপদের অধিবাসীকে তিনি ফল দ্বারা রিজিক দান করেন। এগুলো আমদানি করা হয় সকল উঁচু নিচু প্রান্তর হতে। এমনকি শীতের ফল পাওয়া যায় গ্রীষ্মের মওসুমে, আর গ্রীষ্মের ফল পাওয়া যায় শীতের মওসুমে। দু‘আ কবুলকারী আল্লাহ মহা পবিত্র। সকল প্রশংসা মহানদাতা আল্লাহর জন্য।
এ বালাদে হারামের অধিবাসীদের উপর আল্লাহ ()-র নেয়ামত প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে ধন্য করার উল্লেখ মূলত: তাদেরকে এ নিয়ামাতরাজির ফজিলত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং তাঁর ঘর ও হারামের সাথে বেয়াদবি করা হতে সতর্ক করার জন্যই করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ (তাআলা) এরশাদ করেন :
أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آَمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقًا مِنْ لَدُنَّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿57﴾
আমি কি তাদেরকে এক নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানি হয় আমার দেয়া রিজিক স্বরূপ? কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।’’ [সূরা কাসাসঃ ৫৭।]
মুসলমানদের হৃদয়কে তাদের প্রতি এবং এ শহরের প্রতি অনুরাগী করে দেয়ার জন্য ইবরাহীম খলিল দু‘আ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর এ দু‘আ কবুল করেছেন। তিনি এ ঘরকে মানবজাতির মিলন কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। অর্থাৎ বিশ্বের সকল প্রান্ত হতে বছরব্যাপী মানুষের আগমন ঘটে এ শহরে। তারা এ শহর থেকে কেবল তাদের প্রয়োজন মিটায় না, বরং যতই এ শহরে তাদের আগমন ঘটে ততই এ শহরের প্রতি তাদের আকর্ষণ আরো বেড়ে যায়। কেননা আল্লাহ (তাআলা) ঈমানদারদের অন্তরে এ শহরের মহববত এবং এখানে আগমনের এক অনুরাগ দিয়েছেন। [ইবনেুল কাইয়েম, যাদুল মা‘আদ ১/৫১।]
ইবনে আববাস, মুজাহিদ ও সা‘ঈদ ইবনে জুবাইর বলেন, আল্লাহ (তাআলা) যদি আয়াতে ‘মানুষের অন্তর’ বলতেন তাহলে পারসিক, রোমীয়, ইয়াহুদী, খৃষ্টানসহ সকল ধরনের মানুষেরা এ শহরে ভিড় জমাতো। কিন্তু আল্লাহ (তাআলা) বলেছেন, ‘কিছু মানুষের অন্তর’, তাই (এ শহর) মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। [তাফসীরে ইবনে জারীর ১৪/১৫৫, তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৫৪৯।]
এ উম্মতের জন্য ইবরাহীম খালি লুর রহমান একজন রাসূল প্রেরণের যে দু‘আ করেছিলেন, সে দু‘আ আল্লাহ (তাআলা)-র পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উম্মিদের মাঝে রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষেই কবুল হয়েছে। এভাবে তিনি প্রেরিত হয়েছেন মানব ও জিন জাতির জন্য। ‘ইরবাদ ইবনে সারিয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেছেন : আমি আল্লাহর নিকট অবশ্যই ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ (সর্বশেষ নবী) হিসেবে ছিলাম, তখন আদম (আঃ) নিজ কাদা মাটিতে গড়াগড়ি খাচিছলেন। আমি অবশ্যই এ সম্পর্কে তোমাদেরকে সংবাদ দেব। এ ছিল আমার পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর দু‘আ আমার সম্পর্কে ‘ঈসার সুসংবাদ এবং আমার মায়ের স্বপ্ন যা তিনি দেখেছিলেন।