১
হারাম শরীফের দেশ ফজিলত ও আহকাম
লেখকঃ দা‘ওয়াহ ও উসূলুদ্দীন ফ্যাকাল্টি, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২
পঞ্চমত: আল্- হিজর
হিজর হচ্ছে কা‘বার উত্তরদিকে অবস্থিত অর্ধেক বৃত্তাকার অংশটুকু। এটা কা‘বা ঘরের অংশ। অর্থাভাবে কা‘বার পুনর্নিমাণের সময় কুরাইশরা ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ভিত্তির উপর নির্মাণ করতে সক্ষম হয়নি। তারা ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ভিত্তির স্থানগুলোতে পাথর স্থাপন করল। এজন্য এর নামকরণ হিজর করা হয়েছে। হিজর মানে পাথর স্থাপন করা। ইমাম মুসলিম আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন :
إِنَّ قَوْمَكِ اسْتَقْصَرُوا مِنْ بُنْيَانِ الْبَيْتِ وَلَوْلاَ حَدَاثَةُ عَهْدِهِمْ بِالشِّرْكِ أَعَدْتُ مَا تَرَكُوا مِنْهُ فَإِنْ بَدَا لِقَوْمِكِ مِنْ بَعْدِي أَنْ يَبْنُوهُ فَهَلُمِّي لِأُرِيَكِ مَا تَرَكُوا مِنْهُ فَأَرَاهَا قَرِيبًا مِنْ سَبْعَةِ أَذْرُعٍ .
‘‘তোমার সমাজের লোকেরা কা‘বা গৃহ পুনর্নিমাণের সময় একে ছোট করে ফেলেছে। তারা যদি অতি সম্প্রতি শিরক ত্যাগ করে মুসলিম না হতেন তবে যে অংশটুকু তারা বাহিরে রেখেছে সে টুকু আমি কা‘বা গৃহের ভিতরে ফেরত নিয়ে আসতাম অর্থাৎ কা‘বা গৃহকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতাম। হে আয়েশা! চল, তোমাকে ঐ স্থানটুকু দেখিয়ে দেই যেটুকু কুরায়শরা কা‘বাগৃহ পুনর্নিমাণের সময় বাহিরে রেখেছে। এ বলে তিনি বাহিরে থাকা সাত হাত পরিমাণ স্থান দেখিয়ে দিলেন। তোমার সমাজের লোকেরা আমার মৃত্যুর পর যদি পুনরায় একে নির্মাণ করতে চায়, তখন তুমি তাদেরকে এটা দেখিয়ে দেবে।’’ [সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ হাজ্জ, অনুচ্ছেদঃ পুনর্মিলনের সময় কা‘বাকে ছোট করা। হাঃ নং- ৯৬৮।]
রাসূল (ﷺ) যে পরিমাণ স্থান বাহিরে ছিল বলে নির্ধারণ করেছেন সে টুকুই কা‘বার অংশ। বর্তমানে উত্তর দিকের দেয়ালের ভিতরে যতটুকু স্থান ঢোকানো হয়েছে, তা সঠিক পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি। যে এখানে সালাত আদায় করতে চায়, তার উচিত হাদিসে বর্ণিত সঠিক স্থানটুকু তালাশ করে বের করা।
হিজরি সালাত আদায় করা কা‘বার অভ্যন্তরে সালাত আদায়ের সমান। কারণ এটা কা‘বাগৃহেরই অংশ। আবদুর রাজ্জাক আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন :
كُنْتُ أُحِبُّ أَنْ أَدْخُلَ الْبَيْتَ فَأُصَلِّيَ فِيهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدِي فَأَدْخَلَنِي فِي الْحِجْرِ فَقَالَ لِي صَلِّي فِي الْحِجْرِ إِذَا أَرَدْتِ دُخُولَ الْبَيْتِ فَإِنَّمَا هُوَ قِطْعَةٌ مِنْ الْبَيْتِ وَلَكِنَّ قَوْمَكِ اسْتَقْصَرُوا حِينَ بَنَوْا الْكَعْبَةَ فَأَخْرَجُوهُ مِنْ الْبَيْتِ .
‘‘আমি কা‘বা গৃহে প্রবেশ করে সালাত আদায় করতে আগ্রহ প্রকাশ করতাম। তখন রাসূল (ﷺ) আমরা হাত ধরে হিজ্রে প্রবেশ করিয়ে দিলেন এবং বললেন : তুমি চাইলে হিজ্রে সালাত আদায় করতে পার। কারণ এটা কা‘বারই অংশ। কিন্তু তোমার সমাজের লোকেরা কা‘বার পুনর্নিমাণের সময় এটাকে ছোট করে ফেলেছে এবং হিজ্রকে কা‘বার বাইরে রেখে দিয়েছে।’’ [মুসনাদ আহমাদঃ ৯২/৬, সহীহ ইবনে খুযাইমাঃ হাঃ নং- ৩০১৮, ত্বাহাবী, শরহু মা‘আনিল আসারঃ ৩৯২/১, হাদীসটির সৌন্দর্য সাধনের যোগ্য।]
ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, কা‘বা ঘরের তওয়াফকারী অবশ্যই হিজ্রের বাইরে দিয়ে তওয়াফ করবে। কারণ এটা কা‘বারই অংশ। ব্যাপক হারে প্রচারিত ভুলেরই একটি হচ্ছে এটাকে ‘‘হিজ্র ইসমাইল’’ করে নামকরণ করা। এ নামকরণটি সঠিক নয়। এর চেয়ে জঘন্যতম হচ্ছে যে, কিছু সাধারণ মানুষ মনে করে যে, ইসমাইল (আঃ) অথবা অন্যান্য নবীদেরকে এখানে দাফন করা হয়েছে।
إِنَّ قَوْمَكِ اسْتَقْصَرُوا مِنْ بُنْيَانِ الْبَيْتِ وَلَوْلاَ حَدَاثَةُ عَهْدِهِمْ بِالشِّرْكِ أَعَدْتُ مَا تَرَكُوا مِنْهُ فَإِنْ بَدَا لِقَوْمِكِ مِنْ بَعْدِي أَنْ يَبْنُوهُ فَهَلُمِّي لِأُرِيَكِ مَا تَرَكُوا مِنْهُ فَأَرَاهَا قَرِيبًا مِنْ سَبْعَةِ أَذْرُعٍ .
‘‘তোমার সমাজের লোকেরা কা‘বা গৃহ পুনর্নিমাণের সময় একে ছোট করে ফেলেছে। তারা যদি অতি সম্প্রতি শিরক ত্যাগ করে মুসলিম না হতেন তবে যে অংশটুকু তারা বাহিরে রেখেছে সে টুকু আমি কা‘বা গৃহের ভিতরে ফেরত নিয়ে আসতাম অর্থাৎ কা‘বা গৃহকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতাম। হে আয়েশা! চল, তোমাকে ঐ স্থানটুকু দেখিয়ে দেই যেটুকু কুরায়শরা কা‘বাগৃহ পুনর্নিমাণের সময় বাহিরে রেখেছে। এ বলে তিনি বাহিরে থাকা সাত হাত পরিমাণ স্থান দেখিয়ে দিলেন। তোমার সমাজের লোকেরা আমার মৃত্যুর পর যদি পুনরায় একে নির্মাণ করতে চায়, তখন তুমি তাদেরকে এটা দেখিয়ে দেবে।’’ [সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ হাজ্জ, অনুচ্ছেদঃ পুনর্মিলনের সময় কা‘বাকে ছোট করা। হাঃ নং- ৯৬৮।]
রাসূল (ﷺ) যে পরিমাণ স্থান বাহিরে ছিল বলে নির্ধারণ করেছেন সে টুকুই কা‘বার অংশ। বর্তমানে উত্তর দিকের দেয়ালের ভিতরে যতটুকু স্থান ঢোকানো হয়েছে, তা সঠিক পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি। যে এখানে সালাত আদায় করতে চায়, তার উচিত হাদিসে বর্ণিত সঠিক স্থানটুকু তালাশ করে বের করা।
হিজরি সালাত আদায় করা কা‘বার অভ্যন্তরে সালাত আদায়ের সমান। কারণ এটা কা‘বাগৃহেরই অংশ। আবদুর রাজ্জাক আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন :
كُنْتُ أُحِبُّ أَنْ أَدْخُلَ الْبَيْتَ فَأُصَلِّيَ فِيهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدِي فَأَدْخَلَنِي فِي الْحِجْرِ فَقَالَ لِي صَلِّي فِي الْحِجْرِ إِذَا أَرَدْتِ دُخُولَ الْبَيْتِ فَإِنَّمَا هُوَ قِطْعَةٌ مِنْ الْبَيْتِ وَلَكِنَّ قَوْمَكِ اسْتَقْصَرُوا حِينَ بَنَوْا الْكَعْبَةَ فَأَخْرَجُوهُ مِنْ الْبَيْتِ .
‘‘আমি কা‘বা গৃহে প্রবেশ করে সালাত আদায় করতে আগ্রহ প্রকাশ করতাম। তখন রাসূল (ﷺ) আমরা হাত ধরে হিজ্রে প্রবেশ করিয়ে দিলেন এবং বললেন : তুমি চাইলে হিজ্রে সালাত আদায় করতে পার। কারণ এটা কা‘বারই অংশ। কিন্তু তোমার সমাজের লোকেরা কা‘বার পুনর্নিমাণের সময় এটাকে ছোট করে ফেলেছে এবং হিজ্রকে কা‘বার বাইরে রেখে দিয়েছে।’’ [মুসনাদ আহমাদঃ ৯২/৬, সহীহ ইবনে খুযাইমাঃ হাঃ নং- ৩০১৮, ত্বাহাবী, শরহু মা‘আনিল আসারঃ ৩৯২/১, হাদীসটির সৌন্দর্য সাধনের যোগ্য।]
ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, কা‘বা ঘরের তওয়াফকারী অবশ্যই হিজ্রের বাইরে দিয়ে তওয়াফ করবে। কারণ এটা কা‘বারই অংশ। ব্যাপক হারে প্রচারিত ভুলেরই একটি হচ্ছে এটাকে ‘‘হিজ্র ইসমাইল’’ করে নামকরণ করা। এ নামকরণটি সঠিক নয়। এর চেয়ে জঘন্যতম হচ্ছে যে, কিছু সাধারণ মানুষ মনে করে যে, ইসমাইল (আঃ) অথবা অন্যান্য নবীদেরকে এখানে দাফন করা হয়েছে।