hadith book logo

সালাতে বিনয়ী হওয়ার তেত্রিশ উপায়

লেখকঃ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২

৩৩- চতুষ্পদ জন্তুর সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা হতে বিরত থাকা

আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানকে বিশেষ সম্মান দেন এবং তাকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেন। সুতরাং একজন মানুষ স্বীয় আকৃতি বাদ দিয়ে কোন জন্তুর আকৃতি ধারণ করা খুবই অন্যায়। আমাদেরকে সালাতে জন্তুর আকৃতি ধারণ করা ও তাদের মত উঠ-বস করা হতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, এটি সালাতের মনোযোগী ও খুশু অবলম্বনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী; অথবা (নিষেধ করার কারণ হচ্ছে,) খারাপ আকৃতি ধারণ একজন মুসল্লির জন্য কখনো সমীচীন নয়। যেমন হাদিসে এসেছে,

( نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم في الصلاة عن ثلاث : عن نقر الغراب وافتراش السبع وأن يوطن الرجل المقام الواحد كإيطان البعير )

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে তিনটি জিনিষ থেকে নিষেধ করেন। কাকের ঠোকর, হিংস্র জন্তুর বসা ও উটের মত একজন ব্যক্তি কোনো একটি জায়গাকে নিজের জন্য নির্ধারণ করা”। [আহমদ: ৩/৪২৮।] অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি মসজিদের কোনো একটি বিশেষ স্থানকে সালাত আদায়ের জন্য নির্ধারণ করা। যেমন, উট, সে তার বসার জায়গাকে পরিবর্তন করে না; বরং একই স্থানকে নির্ধারণ করে থাকে। [দেখুন, ফতহুর রাব্বানী ৪/৯১।] অপর এক বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেন,

( نهاني عن نقرة كنقرة الديك ، وإقعاء كإقعاء الكلب، والتفات كالتفات الثعلب .)

“আমাকে নিষেধ করেছেন, মোরগের ঠোকরের মত ঠোকর দেয়া হতে, কুকুরের বসার মত পা তুলে বসা হতে এবং শিয়ালের মত এদিক সেদিক তাকানো হতে”। [ইমাম আহমাদ: ২/৩১১। সহীহ আত-তারগীব: হাদিস: ৫৫৬।]

এ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো আলোচনা করার সুযোগ হয়েছে তা ছিল ঐ সব উপায়-উপকরণ, যেগুলো সালাতে খুশু আনয়ন করে, যাতে খুশু অর্জন করা সহজ হয় এবং ঐ সব কারণ যেগুলো সালাতে মনোযোগ ও খুশু নষ্ট করে, যাতে সেগুলো হতে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়।

আলেমদের নিকট খুশুর মাসআলাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া ও মর্যাদা অনেক বেশি হওয়ার কারণে তারা নিচে উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।