hadith book logo

ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা

লেখকঃ ড. আবদুল করিম জায়দান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯

ব্যক্তি স্বাধীনতা

ব্যক্তি স্বাধীনতার সংজ্ঞা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যক্তিস্বাধীনতা বলতে বুঝায়, রাষ্ট্রর নাগরিকদের স্বাধীন, অবাধ চলাফেরা ও যাতায়াতের অধিকার, শত্রুতা শত্রুতা থেকে আত্মরক্ষা করার অধিকার; এ অধিকার যে তার মালিকানাধীন সম্পদ ও সম্পত্তি অকারনে কেউ হরণ করে নেবে না কেউ তার উপর অকারণে অত্যাচার যুলুম করবে না। কেউ তাকে বিনা অপরাধে আটক করবে না দেশের বৈধ আইন মোতাবেকই সে জীবন যাপন করতে পারবে এবং তার সাথে আইন –সম্মত ভাবেই আচরণ করা হবে সে নিজের ইচ্ছায় দেশের বাইরে ও যেতে পারবে, আবার সময় মতো নিজের ঘরে ও আসতে পারবে।

শরীয়তে ব্যক্তি স্বাধীনতা: বস্তুত ইসলামী শরীয়তে এ অর্থে ব্যক্তিগত অধিকার পুরোমাত্রায় স্বীকৃত। বরং ইসলামী রাষ্ট্রে কার্যত ব্যক্তিদেরকে এর চেয়ে ও প্রশস্ততর অধিকার দেয়া হয়েছে। জনগণের উপর কোনোরূপ বাড়াবাড়ি করা যুলুম। আর যুলুম ইসলামে চিরদিনের তরে হারাম। এখানে রাষ্ট্র ব্যক্তির যাবতীয় অধিকার রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ব্যক্তি জীবন, দেহ ইজ্জত আব্রু ও সম্পদ –সম্পত্তি সংরক্ষিত রাখার জন্যে রাষ্ট্র সতত তৎপর হয়ে থাকবে। ইসলামী শরীয়ত একথাই ঘোষণা করছে স্পষ্ট ভাষায়। এ জন্য যুলুমকারীকে শাস্তি ও দন্ড দিতে রাষ্ট্র একান্ত ভাবে বাধ্য। শরীয়তে এ শাস্তির ব্যবস্থা ও রয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তিকে কোনোরূপ শাস্তি ভোগের সম্মুখীন হতে হয় তখন যখন শরীয়তের আইনের প্রকাশ্য বিচারে তার অপরাধ সপ্রমানিত হবে এবং শাস্তি ঠিক ততটুকু দেয়া হবে যতটুকু শাস্তি তার অপরাধের জন্য শরীয়তে বিধিবদ্ধ রয়েছে। এখানে একজনের অপরাধের জন্য অন্য জনকে শাস্তি ভোগ করত হয় না। যার অপরাধ তাকেই শাস্তি ভোগ করতে হবে কুরআন মজীদে বলা হয়েছে:

(আরবী)

একজনের বোঝা অপরজন কখনো বহন করবেনা। সুরা বনী ইসরাইল: ১৫

নিজের ঘরের বাইরে, নিজ দেশের যেখানে সেখানে এবং দেশের বাইরে ভিন্ন দেশে যাতায়াত করার অধিকার ও প্রত্যেক ব্যক্তির মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। শুধু তাই নয়, শরীয়তে এজন্য রীতিমত উৎসাহ প্রধান করা হয়েছে। কুরআন মজীদে প্রশ্ন তোলা হয়েছেঃ

(আরবী)

লোকেরা কি যমীনের যত্রতত্র ঘুরে বেড়াবে না এবং তাদের পূর্ববর্তী লোকদের কি পরিণতি হয়েছে তা স্বচক্ষে দেখবে না?—সুরা ইউসূফঃ১০৯

ব্যবসায়ের জন্য বিদেশে ভ্রমণ করার ও নির্দেশ রয়েছে। কুরআন মজীদে বলা হয়েছেঃ

(আরবী)

তোমরা যমীনের পরতে পরতে চলাফেরা কর এবং তার ফলে উপার্জিত রিযিক আহার করো। শেষ পর্যন্ত তারই কাছে ফিরে যেতে হবে তোমাদের সকলকে। সূরা আল মূলকঃ১৫

অবশ্য কোন কারণে কো ব্যক্তিকে যদি বাইরে যেতে না দেয়াই আইনসম্মত বিবেচিত হয়, তাহলে সে লোকের যাতায়াতের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার অধিকার রাষ্ট্রর রয়েছে। হযরত উমর ফারুক রা: তার খেলাফত আমলে বড় বড় সাহাবীদের মদীনার বাইরে যেতে নিষেধ করেছিলেন, যেন রাষ্ট্রীয় জটিল ব্যাপারে সময় মতো তাদের সাথে পরামর্শ করা যায়। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের কারণে যখন এ নিয়ন্ত্রণ আরোপ সংগত, তখন জাতীয় কল্যাণের দৃষ্টিতে ও তা অবশ্যই সংগত হবে।