১
ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা
লেখকঃ ড. আবদুল করিম জায়দান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৯
ভরণ-পোষণের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা লাভের অধিকার
ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকই খাদ্য পানিয় বস্ত্র-বাসস্থানের নিরাপত্তা লাভের অধিকারী। কোনো নাগরিকই এসব মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে না। যে লোক নিজের সামর্থ্যে স্বীয় প্রয়োজন পূরণে সামর্থ্য হবে নামাজ ও রাষ্ট্র তার সে প্রয়োজন পূরণের জন্যে দায়ী। এসব মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে কেউ বাধ্য হয় না ইসলামী রাষ্ট্রে।
ইসলামী রাষ্ট্রের এরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো এই য, ইসলামী সমাজই হলো পারস্পরিক সাহায্য ভিত্তিক সমাজ। সমাজের প্রত্যেকেই প্রত্যকের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। কেননা মুসলমানদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ হলোঃ
(আরবী)
“ তোমরা সবাই পরস্পরের সাহায্যে কাজে এগিয়ে নেক কাজ ও তাকওয়া সংক্রান্ত বিষয়াদিতে এবং গুনাহের কাজ ও আল্লাহদ্রোহিতায় কোনোরূপ সাহায্য করোনা কারোর। ”
আর অভাব গ্রস্ত ব্যক্তির অভাব মোচনের চেয়ে বড় নেক কাজ কি হতে পারে!পারস্পরিক সাহায্য সংক্রান্ত কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সচ্ছল অবস্থার লোকেরা অভাবগ্রস্ত ও গরীব লোকদের সাহায্য করবে। তাতে তাঁর মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হবে নবী করীম স: ইরশাদ করেছেন:
(আরবী)
“ যার খাবার বেশি আছে সে তাকে তা দেবে, যার খাবার নেই। আর যার পাথেয় বেশি আছে সে তা সেই পথিকে দিবে যার পথের সম্বল নেই। ” আনমাহাল, ইবনে হময ৬ষ্ছ খন্ড ১৫৬ পৃষ্ঠা।
অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে:
(আরবী)
“ যার কাছে দু’জনার খাবার আছে, সে যেন তিন জনকে খাওয়ায়। আর যার কাছে চার জনের খওয়ার আছে, সে যেন পাঁচ জন কিংবা ছয়জনকে খাওয়ায়। ” অনমহাল ২য় খন্ড ৫৭ পৃষ্ঠা।
বস্তুত রাষ্ট্র হলো সমাজ সমষ্ট্রির প্রতিভূ, সমাজের লোকদের প্রতিনিধি। কাজেই এই হাদিসের মূল প্রতিপাদ্য অনুযায়ী আমল করা সমাজ- সমষ্ট্রির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র- সরকারেরই দায়িত্ব। অতএব একথা প্রমাণিত যে ইসলামী রাষ্ট্র দেশের সমস্ত অভাব গ্রস্ত ও দরিদ্র জনগণের অভাব মেটানোর জন্যে দায়িত্বশীল। এ পর্যায়ে আরো একটি হাদিস উল্লেখ্য। তাতে সরকারের এ দায়িত্ব কথাই প্রমাণিত হয়। বলা হয়েছে:
(আরবী)
“ যে মু’মিন মরে যাবে ও ধন সম্পদ রেখে যাবে, তার নিকটাত্মীয়রাই তার ওয়ারিশ হবে। আর যে মু’মিন ণ রেখে বা অক্ষম সন্তান রেখে যাবে, তাদের দায়িত্ব আমার উপর বর্তাবে, আমিই তাদের অভিভাবক হবো। ” নবী কারীম সা: এ দায়িত্ব পালন করতেন ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান হিসাবে, রাষ্ট্রীয় বায়তুলমাল থেকে, নিজের সম্পত্তি থেকে নয়। কাজেই এ দায়িত্ব সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো।
সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
(আরবী)
“ তোমরা প্রত্যেকেই অপরের জন্যে দায়ী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অতএব জনগণের রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের জন্যে দায়ী, তাকে জনগণের জন্যে জবাবদিহি করতে হবে। ”
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী লিখেছেন: “ এ হাদিসে দায়িত্বশীল বলে এ কথা বুজানো হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তাঁর অধীন যাবতীয় বিষয়ে দেখাশুনা করা, তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা এবং দীন ও দুনিয়ার দিক দিয়ে তাদের পক্ষে কল্যাণ কর যাবতীয় বিষয়ে ইনসাফ করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। ” আর জনগণের বৈষয়িক কল্যাণ হচ্ছে তাদের যাবতীয় বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণ করে দেয়া, যদি তারা নিজেরা তা পূরণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এ প্রয়োজন পূরণ হলেই মুমিনদের আল্লাহর বন্দেগী সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনও সহজ হতে পারে। কেননা, একথা সর্বজনবিদিত যে, যারা তাদের বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণে অক্ষম, তারা সে চিন্তায় এমন কাতর হয়ে পড়ে যে, তারা আল্লাহর বন্দেগীর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় না।
ইসলামী রাষ্ট্রের এরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো এই য, ইসলামী সমাজই হলো পারস্পরিক সাহায্য ভিত্তিক সমাজ। সমাজের প্রত্যেকেই প্রত্যকের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। কেননা মুসলমানদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ হলোঃ
(আরবী)
“ তোমরা সবাই পরস্পরের সাহায্যে কাজে এগিয়ে নেক কাজ ও তাকওয়া সংক্রান্ত বিষয়াদিতে এবং গুনাহের কাজ ও আল্লাহদ্রোহিতায় কোনোরূপ সাহায্য করোনা কারোর। ”
আর অভাব গ্রস্ত ব্যক্তির অভাব মোচনের চেয়ে বড় নেক কাজ কি হতে পারে!পারস্পরিক সাহায্য সংক্রান্ত কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সচ্ছল অবস্থার লোকেরা অভাবগ্রস্ত ও গরীব লোকদের সাহায্য করবে। তাতে তাঁর মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হবে নবী করীম স: ইরশাদ করেছেন:
(আরবী)
“ যার খাবার বেশি আছে সে তাকে তা দেবে, যার খাবার নেই। আর যার পাথেয় বেশি আছে সে তা সেই পথিকে দিবে যার পথের সম্বল নেই। ” আনমাহাল, ইবনে হময ৬ষ্ছ খন্ড ১৫৬ পৃষ্ঠা।
অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে:
(আরবী)
“ যার কাছে দু’জনার খাবার আছে, সে যেন তিন জনকে খাওয়ায়। আর যার কাছে চার জনের খওয়ার আছে, সে যেন পাঁচ জন কিংবা ছয়জনকে খাওয়ায়। ” অনমহাল ২য় খন্ড ৫৭ পৃষ্ঠা।
বস্তুত রাষ্ট্র হলো সমাজ সমষ্ট্রির প্রতিভূ, সমাজের লোকদের প্রতিনিধি। কাজেই এই হাদিসের মূল প্রতিপাদ্য অনুযায়ী আমল করা সমাজ- সমষ্ট্রির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র- সরকারেরই দায়িত্ব। অতএব একথা প্রমাণিত যে ইসলামী রাষ্ট্র দেশের সমস্ত অভাব গ্রস্ত ও দরিদ্র জনগণের অভাব মেটানোর জন্যে দায়িত্বশীল। এ পর্যায়ে আরো একটি হাদিস উল্লেখ্য। তাতে সরকারের এ দায়িত্ব কথাই প্রমাণিত হয়। বলা হয়েছে:
(আরবী)
“ যে মু’মিন মরে যাবে ও ধন সম্পদ রেখে যাবে, তার নিকটাত্মীয়রাই তার ওয়ারিশ হবে। আর যে মু’মিন ণ রেখে বা অক্ষম সন্তান রেখে যাবে, তাদের দায়িত্ব আমার উপর বর্তাবে, আমিই তাদের অভিভাবক হবো। ” নবী কারীম সা: এ দায়িত্ব পালন করতেন ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান হিসাবে, রাষ্ট্রীয় বায়তুলমাল থেকে, নিজের সম্পত্তি থেকে নয়। কাজেই এ দায়িত্ব সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো।
সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
(আরবী)
“ তোমরা প্রত্যেকেই অপরের জন্যে দায়ী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অতএব জনগণের রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের জন্যে দায়ী, তাকে জনগণের জন্যে জবাবদিহি করতে হবে। ”
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী লিখেছেন: “ এ হাদিসে দায়িত্বশীল বলে এ কথা বুজানো হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তাঁর অধীন যাবতীয় বিষয়ে দেখাশুনা করা, তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা এবং দীন ও দুনিয়ার দিক দিয়ে তাদের পক্ষে কল্যাণ কর যাবতীয় বিষয়ে ইনসাফ করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। ” আর জনগণের বৈষয়িক কল্যাণ হচ্ছে তাদের যাবতীয় বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণ করে দেয়া, যদি তারা নিজেরা তা পূরণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এ প্রয়োজন পূরণ হলেই মুমিনদের আল্লাহর বন্দেগী সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনও সহজ হতে পারে। কেননা, একথা সর্বজনবিদিত যে, যারা তাদের বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণে অক্ষম, তারা সে চিন্তায় এমন কাতর হয়ে পড়ে যে, তারা আল্লাহর বন্দেগীর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় না।