১
ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা
লেখকঃ ড. আবদুল করিম জায়দান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৬
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তির মত পোষণ ও প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ অধিকার হরণ করার এবং এ থেকে জনগনকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। বস্তুত ব্যক্তির চিন্তা ও মানসিক প্রতিভার স্ফুরণের জন্যে ব্যক্তির মতের স্বাধীনতা থাকা একান্তই অপরিহার্য। এ না থাকলে মুসলমানরা তাদের দ্বীনি দায়িত্ব কর্তব্য ও পালন করতে পারে না। ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ তো মুসলিম মাত্ররই কর্তব্য। আর চিন্তা ও মতের স্বাধীনতা থাকলেই এ কাজ বাস্তবায়িত হতে পারে। কুরআন মাজীদে এ জিনিষের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এবং এ কাজকে মানুষের ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
“ কালের শপথ মানুষ মাত্রই ধ্বংসের মুখে উপস্থিত। তবে যারা ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে এবং সত্য ও ধৈর্যাবলম্বনের জন্যে উপদেশ দেবে-তারা এ থেকে বাচতে পারবে। ” সূরা আল আসরঃ১-৩
বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
“ মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন স্ত্রী পরস্পর বন্ধু। তারা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ ব্রতে ব্রতী হয়ে থাকে। ”-সুরা আত তওবাঃ৭১
আর এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছেঃ
(আরবী)
“ তোমাদের মধ্যে থেকে একটি সুসংহত বাহিনী এমন বের করতে হবে, যারা কল্যাণের দিকে আহবান জানাবে, ন্যায়ের আদেশ করবে ও অন্যায়ের প্রতিরোধ করবে। ” সূরা আল ইমরাণঃ১৪
হাদিসে রাসূলে করীম স: এর স্পষ্ট ঘোষণা ও উদ্বৃত্ত হয়েছে এ পর্যায়েঃ
(আরবী)
“ তোমাদের মাঝে যে লোক কোন অন্যায় দেখতে পাবে সে যেন তা তার শক্তি দিয়ে প্রতিহত করে, শক্তি না থাকলে মুখে যেন তার বিরুদ্ধে কথা বলে। আর মুখে বলার মতো অবস্থা না হলে অনন্ত মনে মনেও যেন তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। যদি ও এ অত্যন্ত দুর্বল ঈমানের পরিচয়।
শাসন কর্তৃপক্ষের ওপর তীব্র-তীক্ষ্ণ সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং তাদের কোনো ত্রুটি গোচরীভূত হলে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা প্রত্যেকটি নাগরিকেরই কর্তব্য। আর এসব কাজ সম্ভব হতে পারে ঠিক তখন যদি ব্যক্তির মত পোষণ ও প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা স্বীকৃত থাকে।
পারস্পরিক পরামর্শ বিধান এ কাজে যে মতবিরোধ হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাতে ও চিন্তা ও মতের স্বাধীনতা অপরিহার্য, বরং তা না থাকলে পারস্পরিক পরামর্শের ইসলামী বিধান কার্যকরই হতে পারে না।
“এ সব কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তিদের নিজস্ব চিন্তা ও মতের স্বাধীনতাকে পূর্ণ গুরুত্ব সহকারে রক্ষা করা হয়। ব্যক্তির অনুরূপ পরিবেশ দিয়ে লালন ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এবং শাসন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জনগনকে সব সময়ই উৎসাহ দান করে থাকে। কেউ যদি এ অধিকার ভোগ না করে তাহলে বরং তাদের কড়া শাসন করা হয়। এ পর্যায়ে ঐতিহাসিক ঘটনার কোন শেষ নেই। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা: কে লক্ষ্য করে একব্যক্তি বললো ‘ হে ওমর তুমি আল্লাহকে ভয় কর। তখন ওমর রা: বললেন, হ্যাঁ, আমাকে তাই বলবে। না বললে বরং তোমরা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারবেনা। আর আমরাও কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারবো না, যদি তা না শুনি।”
তবে ব্যক্তি স্বাধীন মত পোষণ ও প্রকাশের শুধু সুযোগ থাকাই যথেষ্ট নয় বরং এ জন্যে তাদের মাঝে প্রবল মনোবল, সৎ সাহস, ও বীরত্ব বর্তমান থাকা আবশ্যক। শাসকদের ব্যাপারে তাদের সম্পূর্ণ নির্ভীক হতে হবে, তবেই তারা এ সুযোগের পুরোমাত্রায় সদ্ব্যবহার করতে পারবে। কেননা ভয়, ত্রাস ও শঙ্কা মানুষকে তার স্বাধীন মত প্রকাশ থেকে বিরত রাখে, সুযোগ হলেও কোনো কথাই বলতে দেয়া হয় না। আর কোনো জাতি যদি এমনি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে তা হলে সে জাতির ধ্বংস অনিবার্য। সে জাতি আল্লাহর রহমত থেকেও বঞ্চিত হয়। এ জন্য নবী করিম সা: ইরশাদ করেছেনঃ
(আরবী)
“ তুমি যখন আমার উম্মতকে দেখবে যে, সে যালেমকে যালেম বলতে ভয় পায়, তখন তুমি তার কাছ থেকে বিদায় নিবে। ”
আর মুসলমানদের মনোবল, সাহস, হিম্মত ও বীরত্বের মূল উৎস হচ্ছে তাদের তাওহীদি আকিদা। এ আকিদা যদি তাদের মনে বদ্ধমূল হয় এবং তারা গভীর ভাবে এর তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে, তাহলে তাদের মনে জাগবে সাহস ও বীরত্ব। মুসলমানদের এ কথাই বুঝতে হবে যে, ক্ষতি এবং উপকার সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে নিবন্ধ, অন্য সবই আল্লাহর দাসানুদাস মাত্র, রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য সরকারী কর্মচারী সকলে আল্লাহরই সৃষ্ট, আল্লাহর কাছে তাদের ও হিসাব দিতে হবে। তাহলেই তারা স্পষ্ট ভাষায় নিজেদের মত প্রকাশ করার সাহস পাবে এবং এ ব্যাপারে তরা কাউকে ভয় পাবে না।
(আরবী)
“ কালের শপথ মানুষ মাত্রই ধ্বংসের মুখে উপস্থিত। তবে যারা ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে এবং সত্য ও ধৈর্যাবলম্বনের জন্যে উপদেশ দেবে-তারা এ থেকে বাচতে পারবে। ” সূরা আল আসরঃ১-৩
বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
“ মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন স্ত্রী পরস্পর বন্ধু। তারা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ ব্রতে ব্রতী হয়ে থাকে। ”-সুরা আত তওবাঃ৭১
আর এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছেঃ
(আরবী)
“ তোমাদের মধ্যে থেকে একটি সুসংহত বাহিনী এমন বের করতে হবে, যারা কল্যাণের দিকে আহবান জানাবে, ন্যায়ের আদেশ করবে ও অন্যায়ের প্রতিরোধ করবে। ” সূরা আল ইমরাণঃ১৪
হাদিসে রাসূলে করীম স: এর স্পষ্ট ঘোষণা ও উদ্বৃত্ত হয়েছে এ পর্যায়েঃ
(আরবী)
“ তোমাদের মাঝে যে লোক কোন অন্যায় দেখতে পাবে সে যেন তা তার শক্তি দিয়ে প্রতিহত করে, শক্তি না থাকলে মুখে যেন তার বিরুদ্ধে কথা বলে। আর মুখে বলার মতো অবস্থা না হলে অনন্ত মনে মনেও যেন তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। যদি ও এ অত্যন্ত দুর্বল ঈমানের পরিচয়।
শাসন কর্তৃপক্ষের ওপর তীব্র-তীক্ষ্ণ সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং তাদের কোনো ত্রুটি গোচরীভূত হলে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা প্রত্যেকটি নাগরিকেরই কর্তব্য। আর এসব কাজ সম্ভব হতে পারে ঠিক তখন যদি ব্যক্তির মত পোষণ ও প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা স্বীকৃত থাকে।
পারস্পরিক পরামর্শ বিধান এ কাজে যে মতবিরোধ হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাতে ও চিন্তা ও মতের স্বাধীনতা অপরিহার্য, বরং তা না থাকলে পারস্পরিক পরামর্শের ইসলামী বিধান কার্যকরই হতে পারে না।
“এ সব কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তিদের নিজস্ব চিন্তা ও মতের স্বাধীনতাকে পূর্ণ গুরুত্ব সহকারে রক্ষা করা হয়। ব্যক্তির অনুরূপ পরিবেশ দিয়ে লালন ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এবং শাসন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জনগনকে সব সময়ই উৎসাহ দান করে থাকে। কেউ যদি এ অধিকার ভোগ না করে তাহলে বরং তাদের কড়া শাসন করা হয়। এ পর্যায়ে ঐতিহাসিক ঘটনার কোন শেষ নেই। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা: কে লক্ষ্য করে একব্যক্তি বললো ‘ হে ওমর তুমি আল্লাহকে ভয় কর। তখন ওমর রা: বললেন, হ্যাঁ, আমাকে তাই বলবে। না বললে বরং তোমরা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারবেনা। আর আমরাও কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারবো না, যদি তা না শুনি।”
তবে ব্যক্তি স্বাধীন মত পোষণ ও প্রকাশের শুধু সুযোগ থাকাই যথেষ্ট নয় বরং এ জন্যে তাদের মাঝে প্রবল মনোবল, সৎ সাহস, ও বীরত্ব বর্তমান থাকা আবশ্যক। শাসকদের ব্যাপারে তাদের সম্পূর্ণ নির্ভীক হতে হবে, তবেই তারা এ সুযোগের পুরোমাত্রায় সদ্ব্যবহার করতে পারবে। কেননা ভয়, ত্রাস ও শঙ্কা মানুষকে তার স্বাধীন মত প্রকাশ থেকে বিরত রাখে, সুযোগ হলেও কোনো কথাই বলতে দেয়া হয় না। আর কোনো জাতি যদি এমনি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে তা হলে সে জাতির ধ্বংস অনিবার্য। সে জাতি আল্লাহর রহমত থেকেও বঞ্চিত হয়। এ জন্য নবী করিম সা: ইরশাদ করেছেনঃ
(আরবী)
“ তুমি যখন আমার উম্মতকে দেখবে যে, সে যালেমকে যালেম বলতে ভয় পায়, তখন তুমি তার কাছ থেকে বিদায় নিবে। ”
আর মুসলমানদের মনোবল, সাহস, হিম্মত ও বীরত্বের মূল উৎস হচ্ছে তাদের তাওহীদি আকিদা। এ আকিদা যদি তাদের মনে বদ্ধমূল হয় এবং তারা গভীর ভাবে এর তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে, তাহলে তাদের মনে জাগবে সাহস ও বীরত্ব। মুসলমানদের এ কথাই বুঝতে হবে যে, ক্ষতি এবং উপকার সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে নিবন্ধ, অন্য সবই আল্লাহর দাসানুদাস মাত্র, রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য সরকারী কর্মচারী সকলে আল্লাহরই সৃষ্ট, আল্লাহর কাছে তাদের ও হিসাব দিতে হবে। তাহলেই তারা স্পষ্ট ভাষায় নিজেদের মত প্রকাশ করার সাহস পাবে এবং এ ব্যাপারে তরা কাউকে ভয় পাবে না।