hadith book logo

ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা

লেখকঃ ড. আবদুল করিম জায়দান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের অধিকার

রাষ্ট্রের ওপর নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে বিস্তারিত অলোচনা করেছি। কিন্তু রাষ্ট্র নাগরিকদের এসব অধিকার যথাযথরূপে আদায় করতে পারে না, যদি নাগরিকগণ এ কাজে রাষ্ট্রের পূর্ণ সহযোগিতা না করে। আসলে রাষ্ট্র বাইরে থেকে আসা কোন জিনিস নয়, জনগণ গঠিত সংস্থারই অপর নাম রাষ্ট্র ও সরকার। এজন্যে জন-প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্যে যে সংস্থা গঠন করা হয়, সার্বিক ও নির্বিশেষ ভাবে সকলকেই বাস্তব সহযোগিতা করাতে হবে। জনগণের শক্তিই রাষ্ট্রের শক্তি। রাষ্ট্রের অস্তিত্ব জনগণের বাস্তব সহযোগিতার ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল। অতএব বলতে হবে, রাষ্ট্রের ও অনেক অধিকার রয়েছে জনগণের ওপর এবং সে অধিকার সমূহ জনগণকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।

রাষ্ট্র হলো জনগণের ঘর, জনগণ এ ঘরেই বসবাস করে, জীবন যাপন করে। জনগণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় নিশ্চিন্তে দিন যাপন করে। জনগণের খেদমত-জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই রাষ্ট্রের কাজ। এক কথায় রাষ্ট্র জনগণের খাদেম। রাষ্ট্র যেন বংশের পিতা-পৈত্রিক স্নেহ মমতা নিয়েই জনগণের খেদমত করতে হবে। যেমন পিতা স্নেহ মমতাভাজন হয়ে থাকে ছেলে সন্তান ও পারবারবর্গের প্রতি। তাই জনগণের কল্যাণ হলো জনগণের ওপর রাষ্ট্রের অধিকার অধিকার আদায়ে রাষ্ট্রের পূর্ণ সহযোগিতা করাই জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য। দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে বাস্তব সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে আসতে হবে দেশের জনগণকে। জনগণ যদি রাষ্ট্রের এ অধিকার পূর্ণ মাত্রায় ও যথাযথভাবে আদায় না করে তা হলে তার পরিণাম এই হবে যে, রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ থেকে যাবে এবং তার সমূহ ক্ষতি জনগণকেই ভোগ করতে হবে। তার পরিণতিতে জন-জীবনে নেমে আসবে কঠিন বিপর্যয়ের ঢল। এ কারণে জনগণের ওপর রাষ্ট্রের প্রধানতম অধিকার হলো, জনগন রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করবে, রাষ্ট্রের আদেশ ও নিষেধ মেনে চলবে। রাষ্ট্রের মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষার্থে যে কোনো কাজের জন্যে সতত প্রস্তুত থাকতে হবে। জনগণের ওপর রাষ্ট্রের এ অধিকার দু’টি সম্পর্কেই আমরা সর্ব প্রথমে আলোচনা করবো।