hadith book logo

ইসলামী শরীয়াহর বাস্তবায়ন ও উম্মাহর উপর এর প্রভাব

লেখকঃ আব্দুল্লাহ ইবন স‘উদ আল-হুয়াইমিল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

পঞ্চমত: ইসলামী শরী‘য়াহ মানুষের অন্তরকে লালন পালন করে:

ইসলামী শরী‘য়াহর আহকাম আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও ইসলাম মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর ভয়-ভীতি বীজ বপন করে, যা মুসলিমকে বলপ্রয়োগ বা জোর ছাড়াই আল্লাহর বিধানসমূহ সন্তুষ্টচিত্তে ও নিজের পছন্দে মানতে সাহায্য করে। কেননা সে একথা উপলব্ধি করে যে, ইসলামী আইন মানা হচ্ছে দ্বীন ও আল্লাহর আনুগত্য পোষণ, পক্ষান্তরে মানব রচিত আইন মানতে মানুষ জালিয়াতি ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। তারা মনে করেন যে, এ আইন মেনে চলা কোনো আনুগত্য করা নয় এবং এর থেকে ভেগে যাওয়া কোনো দোষ নয়। [ফি মুয়াজিহাহিল মু’আমারাতি ‘আলা তাত্ববীকেশ শরী‘য়াহ আল-ইসলামীয়াহ, লেখক, মুস্তফা ফারগিলী আশ-শুক্বাইরী: পৃষ্ঠা ৬৮।]

ইসলামী শরী‘য়াহ মানুষের অন্তর গঠন ও একে পরিশোধন করতে অতুলনীয় ভাবে সফল হয়েছে। এটা আমরা দেখতে পাই মা‘য়েয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ঘটনায়, যখন তিনি যিনায় পতিত হলে তার অন্তর তাকে আল্লাহর ভয় সম্পর্কে সতর্ক করে। ফলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন, তিনি তাঁর কাছে তাকে পরিশুদ্ধ করতে বললেন। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রজমের নির্দেশ দেন এবং তাকে রজম দেয়া হয়। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

فَقَالَ : «اسْتَغْفِرُوا لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ»، قَالَ : فَقَالُوا : غَفَرَ اللهُ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ أُمَّةٍ لَوَسِعَتْهُمْ»

“তোমরা মা‘য়েয ইবন মালিকের জন্য ইসতিগফার করো, তারা বললেন, আল্লাহ মা‘য়েয ইবন মালিককে ক্ষমা করে দিন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে এমন তওবা করেছে যে, যদি আমি তা আমার উম্মতের মধ্যে বণ্টন করি তবে তা যথেষ্ট হবে”।

লেনদেনের মধ্যে ইসলামী সুউচ্চ জীবন ও জাগ্রত অন্তর পাওয়া যায়। যা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ব্যবসায় প্রভাব ফেলে। তিনি তার ব্যবসায়িক অংশীদার হাফস ইবন আব্দুর রহমানকে কিছু কাপড় দিয়েছিলেন। তাকে জানিয়ে দেন যে, কাপড়গুলোতে কিছু ত্রুটি আছে। ফলে হাফস সেগুলো কিনে নেয় কিন্তু বিক্রি করার সময় ত্রুটি উল্লেখ করতে ভুলে যায়। তিনি ত্রুটিপূর্ণ কাপড়ে পূর্ণ মূল্য প্রদান করেন। বলা হয়ে থাকে যে, সে কাপড়ের মূল্য ত্রিশ হাজার বা পঁয়ত্রিশ হাজার দিরহাম ছিল। কিন্তু আবু হানিফা রহ. সে অর্থ নিতে অস্বীকার করলেন। তিনি তার সাথীকে উক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে বলেন, কিন্তু অনেক খোঁজার পরেও তাকে পাওয়া গেল না। তখন আবু হানিফা রহ. তার অংশীদারের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি উক্ত সম্পদ তার মালের সাথে মিলাতে অস্বীকার করেন এবং তা দান করে দেন। [ফি ওজহিল মু’আমারাতি ‘আলা তাত্ববীকেশ শরী‘য়াহ আল-ইসলামীয়াহ, পৃষ্ঠা ৭০।]

ইসলামী শরী‘য়াহয় এ ধরণের জীবন্ত অনুভূতি ইসলাম তার অনুসারীদেরকে শিক্ষা দিয়েছে, যা অন্যান্য আইনের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, আসমানী শরী‘য়াহ যেমন মানুষের অন্তরে প্রভাব ফেলে মানব রচিত আইনে এরূপ কোনো প্রভাব নেই।

ইসলাম থেকে বিচ্যুত সমাজে যা কিছু ঘটছে এবং তাদের আইন কানুন সমাজে নিরাপত্তা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অপরাধ দমনে ব্যর্থতাই প্রমাণ করে ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়ন কতোটা প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলা যথার্থই বলেছেন,

﴿ وَمَنۡ أَحۡسَنُ مِنَ ٱللَّهِ حُكۡمٗا لِّقَوۡمٖ يُوقِنُونَ ٥٠ ﴾ [ المائ‍دة : ٥٠ ]

“আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম? [সূরা আল-মায়েদা: ৫০]