hadith book logo

ইসলামী শরীয়াহর বাস্তবায়ন ও উম্মাহর উপর এর প্রভাব

লেখকঃ আব্দুল্লাহ ইবন স‘উদ আল-হুয়াইমিল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

তৃতীয় কারণ: ইসলামী শরী‘য়াহ সম্পর্কে অজ্ঞতা:

বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান ইসলামকে জন্মসূত্রে পেয়েছে। তাদের বাপ দাদাকে এ ধর্মে পেয়েছে। যার ফলে মুসলিম উম্মাহর নেতা হোক বা সাধারণ অনুসারী হোক অনেকের কাছেই ইসলামী শরী‘য়াহর বিধিবিধান অজানা। এমনকি তাদের অনেকেই নিজেদের ধর্মের নাম ছাড়া কিছুই জানে না। তারা তাদের ধর্মের আহকাম, ‘আকাইদ, আখলাক ও আদাব সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। এতে করে অতি সহজেই আল্লাহর শত্রুরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট ও তাদের বিষাক্ত ছোবল ছড়াতে সক্ষম হয়।

এখানে মুসলিম উম্মাহর সন্তানদের প্রচলিত কিছু অজ্ঞতার নমুনা পেশ করলাম। তাদের একদলকে মানবরূপী শয়তান এমনভাবে ভ্রষ্ট করেছে যে, তারা বলে ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়ন যোগ্য। এ ধরনের লোক বার দুইভাগে বিভক্ত:

-একদল ইসলামী শরী‘য়াহ ও এর বিধিবিধান সম্পর্কে কিছু জানে না, কিন্তু তারা কিছু সুবিধাবাদী খবিশদের কাছে শিক্ষা পেয়েছে যে, ধর্ম হলো পশ্চাদগামীতা, অধঃপতন, সীমাবদ্ধতা ও পশ্চাদমুখিতা। সভ্য-সংস্কৃতি, উন্নতি ও অগ্রসর হওয়ার একমাত্র উপায় হলো সম্পূর্ণরূপে ধর্মহীন হওয়া।

- আরেক দল আছে যারা ইসলামী শরী‘য়াহর কিছুই পড়ে নি, তবে তারা শুধু সাধারণ আইন পড়েছে। মুসলমানদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দীক্ষার জন্য এমন লোকদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় যারা ইসলামের হাক্বিকত সম্পর্কে কিছুই জানে না। বরং তারা এ ধর্ম সম্পর্কে কিছু অপবাদ ও সন্দেহ সংশয় জানে যা তাদের অন্তরে সর্বদা ঘুরপাক খায়। [জাহেলিয়াতুল কারনিল ‘ঈশরীন, লেখক মুহাম্মদ কুতুব, পৃষ্ঠা ২৭৪।]

-আরেকটি দল আছে যাদেরকে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ইত্যাদির নামে তাদেরকে রাস্তাঘাটে বের করা হয়েছে। এগুলো ইসলামী সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কৌশল হিসেবে কাজ করছে। ফলে ইসলামী সমাজের ভিত্তি নড়বড় ও ধ্বংস হয়ে যায়। [ওয়াকি‘উনাল মু‘আসির, লেখক মুহাম্মদ কুতুব, পৃষ্ঠা ২৫০।]

বর্তমানে কিছু সাধারণ লোকের সরলতা ও অজ্ঞতার কারণে এমনকি কিছু আলিমেরও সরলতা ও অজ্ঞতার কারণে তারা শির্কে পতিত হয়ে যায়। প্রমাণস্বরূপ বলা যায় কিছু আরবী ও ইসলামী দেশে দেখা যায় যে, তারা কবর ও দর্শনীয় স্থানে গিয়ে মাথা পেতে থাকে (সিজদা করে), মৃত্যু ব্যক্তির কাছে প্রার্থনা করে, তাদের কাছে কল্যাণ কামনা করে ও অকল্যাণ থেকে মুক্তি চায় ইত্যাদি। [মাসরা‘উশ শিরক ওয়াল খারাফাহ, লেখক খালিদ আলী আল-হাজ্ব, পৃষ্ঠা: ৩৪-৩৫।]