১
ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
মাকাসিদ আশ্-শারীয়াহ্ এর উদাহরণ
মাকাসিদ আশ্-শারীয়াহ্ এর উদাহরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শারীয়াহ্ এর বিভিন্ন হুকুম-আহকাম ও বিষয়সমূহে। ইবাদাত, মুয়া’মালাত, বিবাহ-শাদী, অপরাধ আইন ও কাফফারা প্রভৃতি সকল অধ্যায়েই শারীয়াহ্-এর উদ্দেশ্য ও মাকাসিদ বর্ণিত আছে।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, শারীয়াহ্ এর প্রতিটি হুকুম ও শিক্ষা প্রণীত হয়েছে বিশেষ কিছু হিকমাত, উদ্দেশ্য ও এমন সব কল্যাণকে সামনে রেখে যার সুফল বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে লাভ করে থাকে। এ সকল হিকমাত, উদ্দেশ্য ও কল্যাণের অনেকগুলো আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, আবার বেশ কিছু উল্লেখ করা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহে এবং কিছু কুরআন ও সুন্নাহের মূলনীতির আলোকে উদ্ভাবন করেছেন আলেম, তাফসীরকারক ও মুজতাহিদগণ [আল-মাকাসিদ আল-শারইয়াহ্, ড. নূরুদ্দীন ইবন মুখতার আল-খাদিমী, পৃঃ ৩০-৩৩]। সেসবের কিছু উদাহরণ আমরা নিচে উল্লেখ করছি।
অযু ও গোসলের বিধান দেয়া হয়েছে সালাত ও তাওয়াফের কার্য সম্পাদনের জন্য এবং প্রত্যেক মুসলিমের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য, যাতে একটি পরিচ্ছন্ন সভ্য মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সকল জাতির মধ্যে ফুলের মতই সৌন্দর্যের আধার হয়ে বিরাজ করবে।
জামায়াতবদ্ধ সালাত ও জুমুয়া’হ্ এর সালাতের বিধান এসেছে মহান আল্লাহর স্মরণকে জাগরূক করার জন্য, মুসলিমদেরকে সত্য, সততা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য এবং ঈমান-আকীদাকে নবায়ন করা, সহীহ জ্ঞানার্জন করা ও ইবাদাতকে বিশুদ্ধ পন্থায় আদায় করার জন্য।
সালাতের উদ্দেশ্যে আযানের বিধান দেয়া হয়েছে ইবাদাতের সময় হওয়ার ঘোষণা দেয়ার জন্য এবং মানুষকে আল্লাহর ইবাদাতের উদ্দেশ্যে একত্রিত করার জন্য। বস্তুতঃ আযান হচ্ছে মানুষের বাস্তব জীবনে ইসলামের নীতি ও আদর্শ প্রচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম এবং আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ব ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রকাশের একটি উত্তম পন্থা।।
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের বিধান দেয়া হয়েছে আল্লাহর ইবাদাত পালনের জন্য, দিনে পাঁচবার তাঁর সাথে সম্পর্ক নবায়ন করে স্থির আদর্শ ও আনুগত্যের উপর নিজেকে অভ্যস্ত করার জন্য, অলসতা ঝেড়ে ফেলে সময়ানুবর্তিতা ও শৃংখলার অনুসারী হওয়ার জন্য এবং সালাত আদায়কারীকে দুনিয়ার সকল কষ্ট, জীবনের নানাবিধ সমস্যা ও শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য।
শুকর, মৃতদেহ ও রক্তের ন্যায় অপবিত্র ও নিকৃষ্ট বস্তুসমূহ মুসলিমদের উপর হারাম করার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য ও আদেশ পালন এবং শারীরিক, মনস্তাত্বিক ও সামাজিক বিপর্যয় ও ক্ষতি পরিহার। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে এ সকল হারাম ও নিকৃষ্ট বস্তু মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সমাজের সবার মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এজন্যই দেয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন নিজ নিজ অধিকার লাভ করে এবং সমাজের ফিতনা, ফাসাদ ও বিবাদ-বিসম্বাদ দূরীভূত হয়। আর মানুষ যেন আইন ও শৃংখলার পথে অধিকার অর্জনের পথে অগ্রসর হয়।
বিবাহ-শাদী, নানাবিধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য অনেক মু‘য়ামালাত ইসলামী শারীয়াহ্-এর মধ্যে বৈধ করা হয়েছে মানুষের জীবন-ধারণকে সহজতর করার জন্য এবং মানুষের জরুরী ও প্রয়োজনীয় লেনদেনকে সহজ করে মানুষের জীবনযাত্রাকে সমৃদ্ধ ও সুন্দর করার জন্য।
এভাবে ইসলামী শারীয়াহ্ এর সকল বিধানেই নিহিত রয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য, হিকমাত ও কারণ।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, শারীয়াহ্ এর প্রতিটি হুকুম ও শিক্ষা প্রণীত হয়েছে বিশেষ কিছু হিকমাত, উদ্দেশ্য ও এমন সব কল্যাণকে সামনে রেখে যার সুফল বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে লাভ করে থাকে। এ সকল হিকমাত, উদ্দেশ্য ও কল্যাণের অনেকগুলো আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, আবার বেশ কিছু উল্লেখ করা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহে এবং কিছু কুরআন ও সুন্নাহের মূলনীতির আলোকে উদ্ভাবন করেছেন আলেম, তাফসীরকারক ও মুজতাহিদগণ [আল-মাকাসিদ আল-শারইয়াহ্, ড. নূরুদ্দীন ইবন মুখতার আল-খাদিমী, পৃঃ ৩০-৩৩]। সেসবের কিছু উদাহরণ আমরা নিচে উল্লেখ করছি।
অযু ও গোসলের বিধান দেয়া হয়েছে সালাত ও তাওয়াফের কার্য সম্পাদনের জন্য এবং প্রত্যেক মুসলিমের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য, যাতে একটি পরিচ্ছন্ন সভ্য মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সকল জাতির মধ্যে ফুলের মতই সৌন্দর্যের আধার হয়ে বিরাজ করবে।
জামায়াতবদ্ধ সালাত ও জুমুয়া’হ্ এর সালাতের বিধান এসেছে মহান আল্লাহর স্মরণকে জাগরূক করার জন্য, মুসলিমদেরকে সত্য, সততা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য এবং ঈমান-আকীদাকে নবায়ন করা, সহীহ জ্ঞানার্জন করা ও ইবাদাতকে বিশুদ্ধ পন্থায় আদায় করার জন্য।
সালাতের উদ্দেশ্যে আযানের বিধান দেয়া হয়েছে ইবাদাতের সময় হওয়ার ঘোষণা দেয়ার জন্য এবং মানুষকে আল্লাহর ইবাদাতের উদ্দেশ্যে একত্রিত করার জন্য। বস্তুতঃ আযান হচ্ছে মানুষের বাস্তব জীবনে ইসলামের নীতি ও আদর্শ প্রচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম এবং আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ব ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রকাশের একটি উত্তম পন্থা।।
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের বিধান দেয়া হয়েছে আল্লাহর ইবাদাত পালনের জন্য, দিনে পাঁচবার তাঁর সাথে সম্পর্ক নবায়ন করে স্থির আদর্শ ও আনুগত্যের উপর নিজেকে অভ্যস্ত করার জন্য, অলসতা ঝেড়ে ফেলে সময়ানুবর্তিতা ও শৃংখলার অনুসারী হওয়ার জন্য এবং সালাত আদায়কারীকে দুনিয়ার সকল কষ্ট, জীবনের নানাবিধ সমস্যা ও শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য।
শুকর, মৃতদেহ ও রক্তের ন্যায় অপবিত্র ও নিকৃষ্ট বস্তুসমূহ মুসলিমদের উপর হারাম করার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য ও আদেশ পালন এবং শারীরিক, মনস্তাত্বিক ও সামাজিক বিপর্যয় ও ক্ষতি পরিহার। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে এ সকল হারাম ও নিকৃষ্ট বস্তু মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সমাজের সবার মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এজন্যই দেয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন নিজ নিজ অধিকার লাভ করে এবং সমাজের ফিতনা, ফাসাদ ও বিবাদ-বিসম্বাদ দূরীভূত হয়। আর মানুষ যেন আইন ও শৃংখলার পথে অধিকার অর্জনের পথে অগ্রসর হয়।
বিবাহ-শাদী, নানাবিধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য অনেক মু‘য়ামালাত ইসলামী শারীয়াহ্-এর মধ্যে বৈধ করা হয়েছে মানুষের জীবন-ধারণকে সহজতর করার জন্য এবং মানুষের জরুরী ও প্রয়োজনীয় লেনদেনকে সহজ করে মানুষের জীবনযাত্রাকে সমৃদ্ধ ও সুন্দর করার জন্য।
এভাবে ইসলামী শারীয়াহ্ এর সকল বিধানেই নিহিত রয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য, হিকমাত ও কারণ।