hadith book logo

ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

মাকাসিদ আশ্-শারীয়াহ্ এর দৃষ্টিতে মানব জীবনের প্রয়োজনসমূহ (আল-হাজিয়্যাত) ও শোভাবর্ধনকারী বিষয়সমূহ (তাহ্-সিনিয়্যাত) মানব জীবনের প্রয়োজনসমূহ (আল-হাজিয়্যাত):

জরুরী বিষয়গুলো দিয়ে মানব জীবনের সকল চাহিদা মেটে না। জীবনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করার জন্য তার প্রয়োজন আরো অনেক কিছু। এগুলো হল আল-হাজিয়্যাত। ইমাম শাতিবী রহ্ এর সংজ্ঞায় বলেন, ‘তা হল সে সকল বিষয়, মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ আনয়নের জন্য এবং কঠোরতা, সমস্যা ও অসুবিধা দূরীভূত করার জন্য যা প্রয়োজন। এ বিষয়গুলোর প্রতি যদি বিশেষ নজর দেয়া না হয় তাহলে সাধারণভাবে বান্দার উপর সমস্যা ও অসুবিধা আরোপিত হয়, তবে তা জনকল্যাণের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বিপর্যয় সৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে না’ [আল-মুয়াফিকাত ২/১১]।

আল-হাজিয়্যাত এর হেফাযতের জন্য ইসলামী শারীয়াহ্ নিম্নলিখিত উপায় অবলম্বন করেছেঃ

ইবাদাতের ক্ষেত্রে উদ্ভূত অসুবিধাসমূহ উঠিয়ে নিয়েছে, যা সচরাচর মানুষের পক্ষে মানিয়ে নেয়া কষ্টকর। আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖۚ ﴾ [ الحج : ٧٨ ]

‘‘আর তিনি দীনের মধ্যে তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেন নি’’ [সূরা আর-হাজ্জ : ৭৮]।

﴿ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ ﴾ [ البقرة : ١٨٥ ]

‘‘আল্লাহ তোমাদের উপর কোনো কঠোরতা আরোপ করতে চান না...’’ [সূরা আল-মায়িদাহ : ৬]।

এ দৃষ্টিকোণ থেকেই ইবাদাতে রুখসাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেমন অসুস্থ ও মুসাফির ব্যক্তির জন্য রমযানে সাওম ভঙ্গের রুখসাত ও অনুমতি রয়েছে। এছাড়াও মুসাফির ব্যক্তির জন্য সফরে কসর সালাত আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। এ রকম রুখসাত শারীয়ায় আরো অনেক রয়েছে।

মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দের সাথে জীবন যাপন করতে পারে সেজন্য অন্ন, বস্ত্র ও সংস্থান হিসাবে নানা প্রকার অসংখ্য পবিত্র বস্তুও ব্যবহার তাদের জন্য বৈধ করে দেয়া হয়েছে।

মুয়ামিলাতের ক্ষেত্রে ইজারাহ, বাই’ সালাম, মুদারাবাহ প্রভৃতি ব্যবসায় পদ্ধতি জায়েয করা হয়েছে।