hadith book logo

ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

‘মাকাসিদ আশ্-শারীয়াহ্’ এর দলীল ও প্রমাণঃ

আল-কুরআনে ‘মাকাসিদ আশ্-শারীয়াহ্’ তথা ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও পন্থায় পেশ করা হয়েছে্। নিম্নে তার কিছু উদ্ধৃত করা হলঃ

আল্লাহ কুরআনের বহু জায়গায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাকীম ও প্রজ্ঞাবান। আল্লাহ বলেন,

﴿ تَنزِيلٞ مِّنۡ حَكِيمٍ حَمِيدٖ ٤٢ ﴾ [ فصلت : ٤٢ ]

‘‘এটি প্রজ্ঞাবান প্রশংসিত আল্লাহর নিকট হতে অবতারিত’’ [সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ : ৪২]। তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿ تَنزِيلُ ٱلۡكِتَٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡحَكِيمِ ١ ﴾ [ الزمر : ١ ]

‘‘এটি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ প্রন্থ’’ [সূরা আয্-যুমার : ১, আল-মু‘মিন : ২, আল-জাসিয়া : ২, আল-আহকাফ : ২]।

আয়াতসমূহের এ কথাগুলোর অনিবার্য দাবী হল, তাঁর প্রণীত প্রতিটি বিধানের অবশ্যই একটি হিকমাত ও উদ্দেশ্য রয়েছে এবং কোনো কিছুই তিনি অনর্থক উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রচলন করেন নি।

আল্লাহ কুরআনের একাধিক স্থানে তিনি নিজেকে সবচেয়ে দয়ালু ও করুণাময় বলে উল্লেখ করেন।

﴿ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ ﴾ [ الاعراف : ١٥ 6]

‘‘আর আমার দয়া প্রতিটি বস্তুতে ব্যপ্ত হয়েছে’’ [সূরা আল-আ’রাফ : ১৫৬]।

একটি জিকির">দোয়ায় তিনি এভাবে বলা শিখিয়ে দিয়েছেন যে,

﴿ رَبَّنَآ ءَامَنَّا فَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَا وَأَنتَ خَيۡرُ ٱلرَّٰحِمِينَ ١٠٩ ﴾ [ المؤمنون : ١٠٩ ]

‘‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে রহম করুন। আর আপনিই তো সর্বোত্তম দয়ালু’’ [সূরা আল-মু‘মিনূন : ১০৯]।

আর মানুষের প্রতি তাঁর করুণা হচ্ছে, তাদের জন্য এমন সকল বিধান প্রণয়ন যা তাদের জন্য কল্যাণকর। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনুল কাইয়েম শিফাউল ‘আলীল গ্রন্থে বলেন, ‘‘তাঁর হিকমাত ও তাঁর উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করার অর্থই হল প্রকৃতপক্ষে তাঁর রহমাত ও দয়াকে অস্বীকার করা’’ [শিফাউল আ’লীল, ইমাম ইবনুল কাইয়েম, পৃঃ ৪২৬]।

কুরআনের বহু স্থানে আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি এই এই কাজ এই এই উদ্দেশ্যে করেছেন। যেমন তিনি বলেন,

﴿ وَكَذَٰلِكَ جَعَلۡنَٰكُمۡ أُمَّةٗ وَسَطٗا لِّتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيۡكُمۡ شَهِيدٗاۗ ﴾ [ البقرة : ١٤٣ ]

‘‘আর অনুরূপভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থাবলম্বী জাতি করে দিয়েছি, যাতে তোমরা সকল মানুষের উপর সাক্ষী হয়ে যাও এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হয়ে যান...’’ [সূরা আল-বাকারাহ : ১৪৩]।

তিনি আরো বলেন,

﴿ إِنَّآ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِتَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ بِمَآ أَرَىٰكَ ٱللَّهُۚ ﴾ [ النساء : ١٠٥ ]

‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্য সহকারে গ্রন্থ নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের মধ্যে সে বিষয় দিয়ে মীমাংসা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন’’ [সূরা আন-নিসা : ১০৫]।

কুরআনের অনেক স্থানে শারীয়াহ্ এর কতিপয় ব্যাপক মাকাসিদ ও উদ্দেশ্যের কথা বর্ণিত হয়েছে আবার কোথাও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে।

ব্যাপক মাকাসিদের উদাহরণঃ যেমন দীনের সকল ক্ষেত্রে কঠোরতা বিলোপ ও অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্য। আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖۚ ﴾ [ الحج : ٧٨ ]

‘‘তিনি দীনের মধ্যে তোমাদের উপর কোনো কঠোরতা আরোপ করেন নি’’ [সূরা আর-হাজ্জ : ৭৮]।

আর কুরআনে সুনির্দিষ্টভাবে জিহাদ, সালাত, সিয়াম, যাকাত ও হাজ্জ প্রভৃতি ইবাদাতসমূহের উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সালাত সম্পর্কে বলা হয়েছে,

﴿ وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِذِكۡرِيٓ ١٤ ﴾ [ طه : ١٤ ]

‘‘এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য সালাত কায়েম কর’’ [সূরা ত্বহা : ১৪]। আর সিয়াম সম্পর্কে বলা হয়েছে,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ ﴾ [ البقرة : ١٨٣ ]

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার’’ [সূরা আল-বাকারাহ : ১৮৩]।