১
ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাকাসিদ আশ-শারিয়াহ্ এর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব
বান্দার কল্যাণ সাধনে আল্লাহর যে উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে মাকাসিদ আশ-শারীয়াহ বলতে মূলত তাকেই বুঝানো হয়। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা। বান্দার পার্থিব ও পারলৌকিক প্রয়োজন পূরণই ইসলামী শারীয়াহ্ প্রণয়ণের উদ্দেশ্য। তাই মাকাসিদ আশ-শারীয়াহ্ মূলত জীবন ঘনিষ্ঠ উদ্দেশ্যেরই একরাশ সমষ্টি।
পৃথিবীতে আল্লাহর হুকুমের বাস্তবায়ন শুধু তাঁর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। যে লক্ষ্যে আল্লাহ মানব জাতির জন্য কালজয়ী ইসলামী আদর্শ প্রদান করেছেন, সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে শুধু কতগুলো প্রথা ও Rituals পালন করা তাঁর কাছে কোন অর্থ বহন করে না। সকল নিষেধাজ্ঞার পেছনে আল্লাহর যে সব হিকমাত ও উদ্দেশ্য রয়েছে সেগুলো এক সুত্রে গাঁথা, সেগুলোতে কোন অসঙ্গতি নেই।
কিন্তু মাকাসিদ আশ-শারীয়াহ্ না জানার কারণে আজ মুসলিমদের প্রাত্যহিক কর্মে দেখা দিয়েছে বৈসাদৃশ্য। অনেক সময় দেখা যায়, যে মুসলিম প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে আল্লাহর আনুগত্যের ঘোষণা দেয়, সে আবার তার অর্থনৈতিক লেনদেনে কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শে এই আল্লাহরই নাফরমানি করতে দ্বিধা করে না। ইসলামী শরীয়াহ এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবতার সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং যাবতীয় অকল্যাণ থেকে সমগ্র মানবতাকে রক্ষা করা। গভীরভাবে মাকসিদ উপলব্ধি না করার কারণেই আজ মুসলিমের অনেকে ইসলামকে আচার-অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্ম মনে করছে। ফলশ্রুতিতে তারা ঈমান হারা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে যেহেতু এবিষয়টি আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ইসলাম শিক্ষার অপরিহার্য পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত হয় নি, ফলে এ সম্পর্কিত ব্যাপক অজ্ঞানতা বিরাজ করছে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মধ্যেও। বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে যেসকল ফাতওয়া দেওয়া হয় কিংবা চাঁদ দেখা সহ আরো অন্যান্য বিষয় নিয়ে বাক-বিতণ্ডা সৃষ্টি হয় তা মাকাসিদ এর জ্ঞান না থাকার কারণেই; কেননা মাসআ’লার বিভিন্নতা ইসলামী শরীয়াহ এর মধ্যে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শরীয়াহ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন। এজন্যই আমরা পূর্ববর্তী ইমাম ও স্কলারদেরকে দেখি তারা পরস্পর অনেক মতানৈক্য করেছেন, কিন্তু মাকাসিদের আলোকে তাদের মধ্যে কোন বিভেদ ছিল না। তাদের মধ্যে গবেষণা ছিল একটা অব্যাহত প্রক্রিয়া, নিজেদের কোন ভুল প্রমানিত হলেই তারা সঠিক সিদ্ধান্তের প্রতি ফিরে যেতেন।
যারা আজ দীনের দা‘ঈ হিসেবে কাজ করছেন, ইসলামী জ্ঞান বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তাদের জন্য এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অনেক বেশি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর শরীয়াহ্-এর জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দীন পালন ও প্রসারের তাওফীক দান করুন। আমীন!
পৃথিবীতে আল্লাহর হুকুমের বাস্তবায়ন শুধু তাঁর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। যে লক্ষ্যে আল্লাহ মানব জাতির জন্য কালজয়ী ইসলামী আদর্শ প্রদান করেছেন, সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে শুধু কতগুলো প্রথা ও Rituals পালন করা তাঁর কাছে কোন অর্থ বহন করে না। সকল নিষেধাজ্ঞার পেছনে আল্লাহর যে সব হিকমাত ও উদ্দেশ্য রয়েছে সেগুলো এক সুত্রে গাঁথা, সেগুলোতে কোন অসঙ্গতি নেই।
কিন্তু মাকাসিদ আশ-শারীয়াহ্ না জানার কারণে আজ মুসলিমদের প্রাত্যহিক কর্মে দেখা দিয়েছে বৈসাদৃশ্য। অনেক সময় দেখা যায়, যে মুসলিম প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে আল্লাহর আনুগত্যের ঘোষণা দেয়, সে আবার তার অর্থনৈতিক লেনদেনে কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শে এই আল্লাহরই নাফরমানি করতে দ্বিধা করে না। ইসলামী শরীয়াহ এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবতার সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং যাবতীয় অকল্যাণ থেকে সমগ্র মানবতাকে রক্ষা করা। গভীরভাবে মাকসিদ উপলব্ধি না করার কারণেই আজ মুসলিমের অনেকে ইসলামকে আচার-অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্ম মনে করছে। ফলশ্রুতিতে তারা ঈমান হারা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে যেহেতু এবিষয়টি আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ইসলাম শিক্ষার অপরিহার্য পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত হয় নি, ফলে এ সম্পর্কিত ব্যাপক অজ্ঞানতা বিরাজ করছে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মধ্যেও। বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে যেসকল ফাতওয়া দেওয়া হয় কিংবা চাঁদ দেখা সহ আরো অন্যান্য বিষয় নিয়ে বাক-বিতণ্ডা সৃষ্টি হয় তা মাকাসিদ এর জ্ঞান না থাকার কারণেই; কেননা মাসআ’লার বিভিন্নতা ইসলামী শরীয়াহ এর মধ্যে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শরীয়াহ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন। এজন্যই আমরা পূর্ববর্তী ইমাম ও স্কলারদেরকে দেখি তারা পরস্পর অনেক মতানৈক্য করেছেন, কিন্তু মাকাসিদের আলোকে তাদের মধ্যে কোন বিভেদ ছিল না। তাদের মধ্যে গবেষণা ছিল একটা অব্যাহত প্রক্রিয়া, নিজেদের কোন ভুল প্রমানিত হলেই তারা সঠিক সিদ্ধান্তের প্রতি ফিরে যেতেন।
যারা আজ দীনের দা‘ঈ হিসেবে কাজ করছেন, ইসলামী জ্ঞান বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তাদের জন্য এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অনেক বেশি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর শরীয়াহ্-এর জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দীন পালন ও প্রসারের তাওফীক দান করুন। আমীন!