১
ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
পঞ্চম বিষয়ঃ সম্পদের হেফাযত
সম্পদ বলতে এখানে মানুষের জীবনে যে সকল বস্তু ও টাকা পয়সার প্রয়োজন সে সবকেই বুঝানো হয়েছে [মাকাসিদুশ শারীআ’হ আল-ইসলামিইয়াহ পৃঃ ২৮৫]। সম্পদ ছাড়া মানুষের পার্থিব জীবন কোন মতেই চলতে পারে না। ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও উম্মাহ্ (জাতি) - সকলেরই প্রয়োজন সম্পদের। ব্যক্তি পর্যায়ে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজন অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান, যা ছাড়া একদিনও গুজরান করা সম্ভব নয়। জনগোষ্ঠী ও উম্মাহর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ব্যক্তির দারিদ্রের প্রভাব সমগ্র উম্মাহর উপর পড়ে। এভাবে বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র দেখা দিলে উম্মাহও সংকটাপন্ন হয় এবং মান মর্যাদা হারায়। তদুপরি শত্রুর হাত হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন অর্থ ও সম্পদের। আল্লাহ বলেন,
﴿ وَأَعِدُّواْ لَهُم مَّا ٱسۡتَطَعۡتُم مِّن قُوَّةٖ وَمِن رِّبَاطِ ٱلۡخَيۡلِ تُرۡهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمۡ ﴾ [ الانفال : ٦٠ ]
‘‘তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যদ্বারা তোমরা সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রুকে ও তোমাদের শত্রুকে...’’ [সূরা আত-তাওবাহ : ৬০]।
এভাবে প্রয়োজনীয় সম্পত্তির ব্যবস্থা হলেই শুধু উম্মাহ্ তার শত্রুদের মুখাপেক্ষিতা কাটিয়ে উঠতে পারবে। কেননা আজকের বিশ্ব-ব্যবস্থায় এটা স্পষ্ট যে, দরিদ্র জাতি ও দরিদ্র রাষ্ট্র শত্রুদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয় এবং এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে শত্রুরা সে জাতি ও রাষ্ট্রের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা যেমন চালায়, তেমনি তাদের মধ্যে নিজেদের সংস্কৃতি, মতবাদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার প্রসার ঘটায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটি জলজ্যান্ত ও বাস্তব।
সুতরাং ইসলামে সম্পত্তির হেফাযতের গুরুত্ব অত্যন্ত প্রকট। ইসলামী শারীয়াহ্-এর দৃষ্টিতে সম্পদ অর্জন ও তা সঠিকভাবে হেফাযতের জন্য নিম্নবর্ণিত উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছেঃ
হালাল পন্থায় সম্পদ অর্জনে উদ্বুদ্ধকরণ।
কারো সম্পদের উপর চড়াও হওয়া হারাম ঘোষণা।
সম্পদ বিনষ্ট করা কিংবা অপচয় করা হারাম ঘোষণা।
সম্পদের সুরক্ষার জন্য শারীয়াহ্ কর্তৃক চুরি ও ডাকাতির শাস্তি নির্ধারণ।
বিনষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জামানাত ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান।
সম্পদ রক্ষার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার বৈধতা।
ঋণ প্রদানের সময় সাক্ষী রাখা ও এর লিখিত কাগজপত্র করা।
কুড়ানো সম্পদ মালিকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।
﴿ وَأَعِدُّواْ لَهُم مَّا ٱسۡتَطَعۡتُم مِّن قُوَّةٖ وَمِن رِّبَاطِ ٱلۡخَيۡلِ تُرۡهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمۡ ﴾ [ الانفال : ٦٠ ]
‘‘তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যদ্বারা তোমরা সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রুকে ও তোমাদের শত্রুকে...’’ [সূরা আত-তাওবাহ : ৬০]।
এভাবে প্রয়োজনীয় সম্পত্তির ব্যবস্থা হলেই শুধু উম্মাহ্ তার শত্রুদের মুখাপেক্ষিতা কাটিয়ে উঠতে পারবে। কেননা আজকের বিশ্ব-ব্যবস্থায় এটা স্পষ্ট যে, দরিদ্র জাতি ও দরিদ্র রাষ্ট্র শত্রুদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয় এবং এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে শত্রুরা সে জাতি ও রাষ্ট্রের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা যেমন চালায়, তেমনি তাদের মধ্যে নিজেদের সংস্কৃতি, মতবাদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার প্রসার ঘটায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটি জলজ্যান্ত ও বাস্তব।
সুতরাং ইসলামে সম্পত্তির হেফাযতের গুরুত্ব অত্যন্ত প্রকট। ইসলামী শারীয়াহ্-এর দৃষ্টিতে সম্পদ অর্জন ও তা সঠিকভাবে হেফাযতের জন্য নিম্নবর্ণিত উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছেঃ
হালাল পন্থায় সম্পদ অর্জনে উদ্বুদ্ধকরণ।
কারো সম্পদের উপর চড়াও হওয়া হারাম ঘোষণা।
সম্পদ বিনষ্ট করা কিংবা অপচয় করা হারাম ঘোষণা।
সম্পদের সুরক্ষার জন্য শারীয়াহ্ কর্তৃক চুরি ও ডাকাতির শাস্তি নির্ধারণ।
বিনষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জামানাত ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান।
সম্পদ রক্ষার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার বৈধতা।
ঋণ প্রদানের সময় সাক্ষী রাখা ও এর লিখিত কাগজপত্র করা।
কুড়ানো সম্পদ মালিকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।