hadith book logo

ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

২। ইসলামী শরীয়াহ্ চারিত্রিক তারবিয়াতের উপর গুরুত্ব আরোপ করেঃ

ইসলামী শরীয়াহ্ এর দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের সুষ্ঠু পরিচালনা, ব্যক্তি ও সমষ্টির সার্বিক কল্যাণ এবং জান, মাল, ইজ্জত-আব্রুর হেফাযতের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আখলাক। এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الْأَخْلَاقِ

‘‘আমাকে উত্তম ও সৎ চরিত্রের পরিপূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে’’ [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস-৩৩৫৭ ও মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-৮৯৫২]।

আর তাই ইসলামী শারীয়াহ্-এর যাবতীয় হুকুম আহকাম চারিত্রিক মূলনীতি ও নৈতিকতার সঙ্গে সর্বতোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ। যারা তাদের আচারে ব্যবহারে, কর্মে ও জীবনের পথ পরিক্রমায় চারিত্রিক সততার দাবী অনুযায়ী চলে, ইসলামী শারীয়াহ্ তাদের সাওয়াব ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করে। আর যারা এর বিপরীত পথে চলে ইসলামী শারীয়াহ্ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য ব্যবস্থা করেছে যথার্থ শাস্তির। অন্যদিকে মানবরচিত আইনে এদিকের প্রতি কোন গুরুত্ব নেই। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চারিত্রিক অধঃপতন হিসেবে বিবেচিত হওয়া সত্বেও মানবরচিত আইনে যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি মাত্র দু’টো অবস্থাতেই দেয়া হয়।

(ক) যখন জবরদস্তিমূলক ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়।

(খ) যখন একপক্ষের সম্মতি ও অপর পক্ষের অসম্মতি থাকে।

এছাড়া অন্য সকল অবস্থায় ব্যভিচারের শাস্তির কোনো ব্যবস্থা মানবরচিত আইনে নেই। মদ্যপান, সমকামিতা ইত্যাদি আরো অনেক ক্ষেত্রের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। অথচ ইসলামী শারীয়ায় এ সব কিছুই পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও আইনত দন্ডনীয়।

৩। ইসলামী শরীয়াহ্-এর দৃষ্টিতে আল্লাহ ও তাঁর দেয়া বিধানের প্রতি সঠিক আকীদা পোষণ হচ্ছে সমাজে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় উপকরণ এবং ব্যক্তি ও ব্যষ্টির কল্যাণ সাধনের মৌল ভিত্তি। কেননা তাকওয়াই শুধু সমাজের সকল মানুষকে সততা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারে এবং অন্যায়-অবিচার ও যুলুম থেকে রক্ষা করতে পারে। পক্ষান্তরে মানব রচিত কোনো আইনেই মানুষের স্রষ্টার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের কোন গুরুত্ব নেই। ফলে সে আইন সমাজ থেকে সকল অন্যায় ও অবিচার দূর করতে অক্ষম।