hadith book logo

ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

১। ইসলামী শরীয়াহ্ আল্লাহ প্রদত্তঃ

মানব রচিত নয় বলে শারীয়াহ্ সব ধরনের ত্রুটিমুক্ত। পক্ষান্তরে মানুষ যেহেতু তার সকল কাজে পদে পদে ভুল-ত্রুটি, অজ্ঞতা ও অক্ষমতার মুখোমুখি হয়, ফলে তাদের তৈরী আইন ও মতবাদ হয়ে থাকে নানাপ্রকার ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতায় পরিপূর্ণ। তদুপরি পরিবেশ, প্রবৃত্তি ও ভাবাবেগের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া থেকে তা মোটেই মুক্ত নয়। অথচ শারীয়াহ্ প্রণয়ন করেছেন সর্বজ্ঞানী মহাবিজ্ঞানময় এমন এক ইলাহ, আসমান ও যমীনের অনু পরিমাণ কোনো বস্তুও যার থেকে অদৃশ্য ও অজ্ঞাত থাকে না, যিনি মানুষকে সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। ফলে স্বভাবতই তিনি তাদের সার্বিক কল্যাণের উপযোগী বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। ‘মাআ’লিম ফিত-তরীক’ গ্রন্থকার বলেন, ‘‘যে শারীয়াহ্ আল্লাহ মানব জীবনকে সুসংবদ্ধ করার জন্য প্রণয়ন করেছেন তা এমনই এক বিধান যা জগতের সাধারণ নিয়মের সাথে সম্পর্কিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ............সুতরাং মানবজীবন ও যে জগতে সে মানব বাস করে তার মধ্যে একটা সুসামঞ্জস্য বিধানের প্রয়োজনেই এ শারীয়াহ্ মেনে চলার আবশ্যকতা সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, বরং যে আইন মানুষের ভেতরের স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে ও যে আইন মানুষের বাহ্যিক জীবনকে পরিচালনা করে এতদুভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের প্রয়োজনে এবং মানব ব্যক্তিত্বের ভেতর ও বাহিরের দুটি দিকের মধ্যে একটা সঙ্গতি বিধানের তাড়নায়ও এ শারীয়াহ্ মেনে চলা উচিত। মানুষ যখন জগতের সকল নিয়ম নীতি জানার সামর্থ রাখে না এবং সাধারণ জাগতিক নিয়মের সকল দিক আয়ত্বও করতে পারে না, এমন কি যে সত্ত্বা তাদের ফিতরাত ও প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করেন ও তাদেরকে নিজের অধীনস্ত করে রাখেন, তারা চাক বা না চাক - সে সত্ত্বাকেও তারা আয়ত্ব করার সামর্থ রাখে না, তাহলে মানব জীবনের জন্য এমন বিধান রচনার অধিকার তাদের নেই, যদ্বারা মানুষের জীবন ও জগতের সঞ্চালনে এবং তাদের সুপ্ত স্বভাব ও বাহ্যিক জীবনে একটা ব্যাপক সামঞ্জস্য সাধিত হতে পারে।.....এ কাজের অধিকার রাখেন জগতের স্রষ্টা, মানুষের স্রষ্টা, যিনি নিজের ইচ্ছামত একটি নিয়মের অধীনে জগত ও মানবকে পরিচালিত করেন...’’ [মাআ’লিম ফিত-তরীক, সাইয়েদ কুতুব, পৃঃ ১১১]।

নিয়ম-কানুন ও আইন প্রণয়নে মানুষের মধ্যে বিস্ময়কর বিরোধিতার উপস্থিতি উপরোক্ত বক্তব্যকে দৃঢ়ভাবে সত্যায়ন করছে। কেননা পুঁজিবাদে মানুষ অসীম সম্পত্তির মালিক হতে পারে। পক্ষান্তরে কম্যুনিজম ও সমাজতন্ত্র এর পুরোপুরি বিপরীত। সেখানে ব্যক্তি সম্পদের মালিক হতে পারে না। সুতরাং প্রকৃত সত্য কথা হল, মানুষ যত বুদ্ধিমানই হোক না কেন, সে আসলে অক্ষম এবং তার জ্ঞান যতই বিস্তৃত হোক না কেন, তা সীমিত। অতএব মানুষের পক্ষে এমন বিধান রচনা অসম্ভব যা পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর ও উপযোগী এবং সকল জাতির সুখ-শান্তির নিশ্চয়তাদানকারী।