১
ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭
তৃতীয় বিষয়ঃ আকল বা বিবেকের হেফাযত
আকল বা বিবেক মানুষকে দেয়া আল্লাহর একটি বিশাল নেয়ামত। মূলত আকলের মাধ্যমেই মানুষকে আর সব প্রাণীর উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এবং এর কারণেই মানুষকে তিনি শারীয়াহ্ অনুসরণের গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আকল বা বিবেককে সকল বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার গুরুত্ব সকল যুগে সকল শারীয়াহ্ এর মধ্যেই ছিল। আল-কুরআনে মহান আল্লাহ বার বার বিবেক সম্পন্ন লোকদের সম্বোধন করেছেন এবং বিবেকবান লোকেদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসলামে দু’ভাবে আকলকে হেফাযত করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছেঃ
আকল নষ্টকারী বাহ্যিক উপকরণসমূহ থেকে একে হেফাযতে রাখা। এ সব উপকরণের মধ্যে রয়েছে মদ, ড্রাগ, হিরোইন ও নেশাগ্রস্তকারী অন্যান্য মাদকদ্রব্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٩٠ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَن يُوقِعَ بَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ فِي ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِ وَيَصُدَّكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَعَنِ ٱلصَّلَوٰةِۖ فَهَلۡ أَنتُم مُّنتَهُونَ ٩١ ﴾ [ المائدة : ٩٠، ٩١ ]
‘‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর যাতে তোমরা সফল হতে পার। শয়তান তো মদ জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’’ [সূরা আল-মায়িদাহ : ৯০-৯১]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ، وَكُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ»
‘‘নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই মদ এবং সকল মদই হারাম’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০০৩]। তিনি আরো বলেন,
وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ
‘‘কোন ব্যক্তি ঈমানদার অবস্থায় মদ পান করতে পারে না’’ [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৭৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১১]।
অন্যত্র তিনি বলেন,
«مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ»
‘‘যা বেশী পরিমাণে পান করলে নেশাগ্রস্ত হয়, তা কম পরিমাণে পান করাও হারাম’’ [মুসনাদ ইমাম আহমাদ, ২/৯১,১৬৭,১৭৯, সুনান আবি দাউদ, ৩/৩২৭, হাদীস নং ৩৬৮১, সুনান তিরমিযী, ৪/২৯২, হাদীস নং ১৮৬৫, সুনান ইবন মাজাহ, ২/১১২৪, হাদীস নং ৩৩৯২-৩৩৯৪]।
আকল নষ্টকারী আভ্যন্তরীন উপকরণসমূহ থেকে একে হেফাযতে রাখা। এ সবের মধ্যে রয়েছে দীন, সমাজ, রাজনীতি প্রভৃতি ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণা যা আকলকে বিভ্রান্ত করে এবং শরীয়তের আলোকে সঠিক চিন্তাধারা থেকে আকলকে অকার্যকর করে রাখে। এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনে কাফিরদের নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। কারণ তারা কুরআনের আয়াতসমূহ ও আল্লাহর অন্যান্য নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করার ব্যাপারে নিজেদের আকলকে কোন কাজে লাগায় নি। ফলে তারা সত্যপথের দিশা লাভ করে নি। আল্লাহ বলেন,
﴿ أَمۡ تَحۡسَبُ أَنَّ أَكۡثَرَهُمۡ يَسۡمَعُونَ أَوۡ يَعۡقِلُونَۚ إِنۡ هُمۡ إِلَّا كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّ سَبِيلًا ٤٤ ﴾ [ الفرقان : ٤٤ ]
‘‘তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ শোনে ও বোঝে? তারা তো পশুর মতই; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট’’ [সূরা আল-ফুরকান : ৪৪]।
﴿ وَجَعَلۡنَا لَهُمۡ سَمۡعٗا وَأَبۡصَٰرٗا وَأَفِۡٔدَةٗ فَمَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُمۡ سَمۡعُهُمۡ وَلَآ أَبۡصَٰرُهُمۡ وَلَآ أَفِۡٔدَتُهُم مِّن شَيۡءٍ إِذۡ كَانُواْ يَجۡحَدُونَ بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِ ﴾ [ الاحقاف : ٢٦ ]
‘‘আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর তাদের কোনো কাজে আসে নি। কেননা তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল’’ [সূরা আল-আহক্বাফ : ২৬]।
অতএব আকলকে সত্যের পথে পৌঁছার জন্য কাজে লাগানো উচিত এবং আকল বিনষ্টকারী সকল বিষয় থেকে একে হেফাযতের ব্যবস্থা করা উচিত।
ইসলামে দু’ভাবে আকলকে হেফাযত করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছেঃ
আকল নষ্টকারী বাহ্যিক উপকরণসমূহ থেকে একে হেফাযতে রাখা। এ সব উপকরণের মধ্যে রয়েছে মদ, ড্রাগ, হিরোইন ও নেশাগ্রস্তকারী অন্যান্য মাদকদ্রব্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٩٠ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَن يُوقِعَ بَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ فِي ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِ وَيَصُدَّكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَعَنِ ٱلصَّلَوٰةِۖ فَهَلۡ أَنتُم مُّنتَهُونَ ٩١ ﴾ [ المائدة : ٩٠، ٩١ ]
‘‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর যাতে তোমরা সফল হতে পার। শয়তান তো মদ জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’’ [সূরা আল-মায়িদাহ : ৯০-৯১]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ، وَكُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ»
‘‘নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই মদ এবং সকল মদই হারাম’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০০৩]। তিনি আরো বলেন,
وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ
‘‘কোন ব্যক্তি ঈমানদার অবস্থায় মদ পান করতে পারে না’’ [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৭৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১১]।
অন্যত্র তিনি বলেন,
«مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ»
‘‘যা বেশী পরিমাণে পান করলে নেশাগ্রস্ত হয়, তা কম পরিমাণে পান করাও হারাম’’ [মুসনাদ ইমাম আহমাদ, ২/৯১,১৬৭,১৭৯, সুনান আবি দাউদ, ৩/৩২৭, হাদীস নং ৩৬৮১, সুনান তিরমিযী, ৪/২৯২, হাদীস নং ১৮৬৫, সুনান ইবন মাজাহ, ২/১১২৪, হাদীস নং ৩৩৯২-৩৩৯৪]।
আকল নষ্টকারী আভ্যন্তরীন উপকরণসমূহ থেকে একে হেফাযতে রাখা। এ সবের মধ্যে রয়েছে দীন, সমাজ, রাজনীতি প্রভৃতি ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণা যা আকলকে বিভ্রান্ত করে এবং শরীয়তের আলোকে সঠিক চিন্তাধারা থেকে আকলকে অকার্যকর করে রাখে। এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনে কাফিরদের নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। কারণ তারা কুরআনের আয়াতসমূহ ও আল্লাহর অন্যান্য নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করার ব্যাপারে নিজেদের আকলকে কোন কাজে লাগায় নি। ফলে তারা সত্যপথের দিশা লাভ করে নি। আল্লাহ বলেন,
﴿ أَمۡ تَحۡسَبُ أَنَّ أَكۡثَرَهُمۡ يَسۡمَعُونَ أَوۡ يَعۡقِلُونَۚ إِنۡ هُمۡ إِلَّا كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّ سَبِيلًا ٤٤ ﴾ [ الفرقان : ٤٤ ]
‘‘তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ শোনে ও বোঝে? তারা তো পশুর মতই; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট’’ [সূরা আল-ফুরকান : ৪৪]।
﴿ وَجَعَلۡنَا لَهُمۡ سَمۡعٗا وَأَبۡصَٰرٗا وَأَفِۡٔدَةٗ فَمَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُمۡ سَمۡعُهُمۡ وَلَآ أَبۡصَٰرُهُمۡ وَلَآ أَفِۡٔدَتُهُم مِّن شَيۡءٍ إِذۡ كَانُواْ يَجۡحَدُونَ بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِ ﴾ [ الاحقاف : ٢٦ ]
‘‘আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর তাদের কোনো কাজে আসে নি। কেননা তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল’’ [সূরা আল-আহক্বাফ : ২৬]।
অতএব আকলকে সত্যের পথে পৌঁছার জন্য কাজে লাগানো উচিত এবং আকল বিনষ্টকারী সকল বিষয় থেকে একে হেফাযতের ব্যবস্থা করা উচিত।