১
সর্বযুগের বিশ্বস্ত নবী
লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
(৩) রিসালতের সার্বজনীনতা
يقول الرسول صلي الله عليه وسلم كان كل نبي قبلي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس كافة : ( متفق عليه (
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন আমার পূর্বেকার সকল নবীদের নির্দিষ্ট করে তাদের গোত্রের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। আর আমি প্রেরিত হয়েছি সকল মানুষের নিকট
কুরআনুল করিমে এর সমর্থনে আয়াত এসেছে-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ ﴿ الأنبياء : ১০৭﴾
আমি আপনাকে সমস্ত জগতের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করেছি
وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ ﴿القلم :৫২﴾
এই কুরআন হচ্ছে বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ স্বরূপ’
আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ( الأعراف : ১৫৮(
বলুন! হে মানব সকল বিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রাসূল হিসাবে প্রেরিত হয়েছি যার জন্য আকাশ সমূহ ও জমিন সমূহের রাজত্ব।
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ ﴿ ألمائدة : ১৫﴾
হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন। কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে তিনি তার মধ্য হতে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আহলে কিতাব গণ ও আছেন। এথেকে পরিস্কার হয় যে, এ রিসালত যে দাওয়াতের দায়িত্ব বহন করছে তাহলো সকল মানুষের জন্য দাওয়াত। আল্লাহ তাআলার নিয়ম ছিল প্রত্যেক সমপ্রদায়ের কাছে পৃথক পৃথক রাসূল নিয়মিত ও অনিয়মিত ভাবে প্রেরণ করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ ﴿ فاطر :২৪﴾
এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ( ألنحل :৩৬(
আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূর প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদে থাক।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى ( ألمؤمنون : ৪৪(
এরপর আমি একাধিকক্রমে আমার রাসূল প্রেরণ করেছি
অতঃপর আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালত হবে শেষ ও সকল মানুষের জন্য প্রেরিত রিসালত এবং অব্যাহত থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।এতে আমরা আল্লাহ তাআলার মহান এক হিকমত বিষয় চিন্তা করতে পারি।
ইতিপূর্বেকার উম্মত একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থান করত। সম্প্রদায়িক পরিচয়ে নির্দিষ্ট এলাকা ছিল তাদের আবাসস্থল, আল্লাহ তাআলা ঐ সময় তাদের প্রতি আঞ্চলিক রাসূল প্রেরণ করতেন প্রত্যেকেই তার জন্য নির্ধারিত অঞ্চলে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে দাওয়াত দিতেন।
দাওয়াত ছিল-
يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره
হে আমার কাউম আল্লার ইবাদত কর তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন উপাস্য নেই।
আল্লাহ তাআলা জানতেন মানব জাতি এক সময় পরিণত হবে ও সুপথে প্রদর্শিত হবে, স্থান কালের দূরত্ব ছোট হয়ে একাকার হবে; সে সময় তাদের প্রতি প্রেরণ করবেন একজন রাসূল। তিনিই হচ্ছেন শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার রিসালত পৌঁছাবেন সারা বিশ্বের কাছে এবং তার পর তার অনুসারীগণ প্রত্যেক জনবসতির কাছে তা পৌঁছাবে, যাতে ভূ-খন্ডের কোন অঞ্চল তার রিসালত থেকে বাদ পড়ে না যায়। অন্য দিকে নবী রাসূলদের সূচনা কালেই আল্লাহর জানা ছিল তাদের জন্য প্রত্যক্ষ মুজিযা প্রয়োজন। যাতে উম্মতেরা প্রেরিত রাসুলের রিসালতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। প্রত্যক্ষ মুজিযার বৈশিষ্ট্য হলো নির্দিষ্ট পরিধিতে তা আবদ্ধ থাকে। তাহলো দর্শকদের পরিধি যারা সরাসরি তা দেখার অথবা কাছে থেকে ঘটনা শুনার সুযোগ হয়। এতে করে রাসূলের মুজিযা বিশেষভাবে তার কাউমের লোকেরাই দেখতে পেতো ।
অতঃপর আল্লাহ এও জানতেন যে মানব জাতি একদিন পরিণত অবস্থায় ফিরে আসবে তখন শুধু প্রত্যক্ষ মুজিযা যথেষ্ট নয়; যার পরিধি হচ্ছে খুবই সীমিত।
তখন এমন এক মুজিযা প্রয়োজন যার কোন নির্ধারিত পরিধি বা সীমা রেখা থাকবেনা, যা হবে সকলের বোধগম্য। সেই মুজিযা বা আল কুরআন দিয়ে প্রেরণ করেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। যার মাধ্যমে তার রিসালত উপস্থিত অনুপস্থিত সকলের কাছে পৌছে যাবে কিয়ামত পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা তার সৃষ্টি ও তাদের জন্য প্রতি মুহুর্তে কি উপযোগী তা সবচেয়ে বেশী জানেন।
আল্লাহ বলেন-
أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ﴿ألملك :১৪ ﴾
তিনি কি জানবেন না যিনি সৃষ্টি করেছেন? তিনি সুক্ষ্ম জ্ঞানী সম্যক জ্ঞাত।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন আমার পূর্বেকার সকল নবীদের নির্দিষ্ট করে তাদের গোত্রের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। আর আমি প্রেরিত হয়েছি সকল মানুষের নিকট
কুরআনুল করিমে এর সমর্থনে আয়াত এসেছে-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ ﴿ الأنبياء : ১০৭﴾
আমি আপনাকে সমস্ত জগতের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করেছি
وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ ﴿القلم :৫২﴾
এই কুরআন হচ্ছে বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ স্বরূপ’
আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ( الأعراف : ১৫৮(
বলুন! হে মানব সকল বিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রাসূল হিসাবে প্রেরিত হয়েছি যার জন্য আকাশ সমূহ ও জমিন সমূহের রাজত্ব।
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ ﴿ ألمائدة : ১৫﴾
হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন। কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে তিনি তার মধ্য হতে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আহলে কিতাব গণ ও আছেন। এথেকে পরিস্কার হয় যে, এ রিসালত যে দাওয়াতের দায়িত্ব বহন করছে তাহলো সকল মানুষের জন্য দাওয়াত। আল্লাহ তাআলার নিয়ম ছিল প্রত্যেক সমপ্রদায়ের কাছে পৃথক পৃথক রাসূল নিয়মিত ও অনিয়মিত ভাবে প্রেরণ করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ ﴿ فاطر :২৪﴾
এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ( ألنحل :৩৬(
আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূর প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদে থাক।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى ( ألمؤمنون : ৪৪(
এরপর আমি একাধিকক্রমে আমার রাসূল প্রেরণ করেছি
অতঃপর আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালত হবে শেষ ও সকল মানুষের জন্য প্রেরিত রিসালত এবং অব্যাহত থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।এতে আমরা আল্লাহ তাআলার মহান এক হিকমত বিষয় চিন্তা করতে পারি।
ইতিপূর্বেকার উম্মত একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থান করত। সম্প্রদায়িক পরিচয়ে নির্দিষ্ট এলাকা ছিল তাদের আবাসস্থল, আল্লাহ তাআলা ঐ সময় তাদের প্রতি আঞ্চলিক রাসূল প্রেরণ করতেন প্রত্যেকেই তার জন্য নির্ধারিত অঞ্চলে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে দাওয়াত দিতেন।
দাওয়াত ছিল-
يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره
হে আমার কাউম আল্লার ইবাদত কর তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন উপাস্য নেই।
আল্লাহ তাআলা জানতেন মানব জাতি এক সময় পরিণত হবে ও সুপথে প্রদর্শিত হবে, স্থান কালের দূরত্ব ছোট হয়ে একাকার হবে; সে সময় তাদের প্রতি প্রেরণ করবেন একজন রাসূল। তিনিই হচ্ছেন শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার রিসালত পৌঁছাবেন সারা বিশ্বের কাছে এবং তার পর তার অনুসারীগণ প্রত্যেক জনবসতির কাছে তা পৌঁছাবে, যাতে ভূ-খন্ডের কোন অঞ্চল তার রিসালত থেকে বাদ পড়ে না যায়। অন্য দিকে নবী রাসূলদের সূচনা কালেই আল্লাহর জানা ছিল তাদের জন্য প্রত্যক্ষ মুজিযা প্রয়োজন। যাতে উম্মতেরা প্রেরিত রাসুলের রিসালতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। প্রত্যক্ষ মুজিযার বৈশিষ্ট্য হলো নির্দিষ্ট পরিধিতে তা আবদ্ধ থাকে। তাহলো দর্শকদের পরিধি যারা সরাসরি তা দেখার অথবা কাছে থেকে ঘটনা শুনার সুযোগ হয়। এতে করে রাসূলের মুজিযা বিশেষভাবে তার কাউমের লোকেরাই দেখতে পেতো ।
অতঃপর আল্লাহ এও জানতেন যে মানব জাতি একদিন পরিণত অবস্থায় ফিরে আসবে তখন শুধু প্রত্যক্ষ মুজিযা যথেষ্ট নয়; যার পরিধি হচ্ছে খুবই সীমিত।
তখন এমন এক মুজিযা প্রয়োজন যার কোন নির্ধারিত পরিধি বা সীমা রেখা থাকবেনা, যা হবে সকলের বোধগম্য। সেই মুজিযা বা আল কুরআন দিয়ে প্রেরণ করেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। যার মাধ্যমে তার রিসালত উপস্থিত অনুপস্থিত সকলের কাছে পৌছে যাবে কিয়ামত পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা তার সৃষ্টি ও তাদের জন্য প্রতি মুহুর্তে কি উপযোগী তা সবচেয়ে বেশী জানেন।
আল্লাহ বলেন-
أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ﴿ألملك :১৪ ﴾
তিনি কি জানবেন না যিনি সৃষ্টি করেছেন? তিনি সুক্ষ্ম জ্ঞানী সম্যক জ্ঞাত।