hadith book logo

সর্বযুগের বিশ্বস্ত নবী

লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

ন্যায়-বিচারঃ

এ বিষয় তো ইসলাম সবার শীর্ষে। ইসলাম ছাড়া অন্য কেহ আজও এর সঠিক ব্যবহার শিখেনি। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের এ বলে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآَنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿ألمائدة :৮﴾

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিধান সমূহ পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠাকারী ও ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হয়ে যাও। কোন বিশেষ সমপ্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এর প্রতি উদ্যত না করে যে, তোমরা ন্যায় বিচার করবেনা। তোমরা ন্যায় বিচার কর, এটা তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ( النساء :১৩৫

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্যদান কারী, সুবিচারে প্রতিষ্ঠিত থাকবে এটা তোমাদের নিজের অথবা পিতা মাতা ও আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। বাস্তব জীবনে, এ সত্য কার্যকর হয়েছে। আমরা দেখেছি ওমর রা. কিবতী সমপ্রদায়ের ঐ ব্যক্তির সাথে কেমন আচরণ করেছে, যাকে আমর ইবনু আসের ছেলে প্রহার করেছিল। জনৈক কৃতদাস তাওয়াফ প্রক্কালে জাবালা ইবনু আইহামের পোষাকে পা দিলে জাবালা কৃতদাসের মুখে চপেটাঘাত করলো সে বিষয়টি ওমর রা.-এর নিকট উত্থাপন করলে ওমর রা. কেছাছের আদেশ দিলেন। এরপর জাবালা পালিয়ে গিয়ে ধর্মত্যাগ করল। কিন্তু এরপরও ওমর রা. ন্যায়প্রতিষ্ঠায় বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। আমিরুল মুমিনীন আলী রা.-এর বর্ম হারিয়ে গেলে তা একজন ইহুদীর কাছে পাওয়া গেল। আলী রা. প্রমাণ পেশ করতে অপারগ হওয়ায় কাজী বর্মটির রায় ইহুদীর পক্ষেই দিলেন।

এভাবেই ইসলাম বাস্তবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে বুলি আউড়ানো নয়। পুরোমানব ইতিহাসে ন্যায় প্রতিষ্ঠার এরূপ কোন দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে? যা বলে তা বাস্তবায়ন করে? ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা ও লেখার বিপরীতে? যদি উন্নত বিশ্বের ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা দেখতে চান; তাহলে আমেরিকায় বা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী চরিত্রের কারণে নির্যাতিতদের জিজ্ঞেস করুন অথবা পৃথিবীর যে কোন উপনিবেশ অঞ্চলের অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করুন। অথবা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন কোন মামলার বাদী কে যদি সে হয় ঐ অঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলমান। অতঃপর দেখুন কুরআনের সিদ্ধান্তের দিকে।

لَا يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُعْتَدُونَ ﴿التوبة :১০﴾

তারা মর্যাদা দেয়না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্মীয়তার আর না অঙ্গীকারের। আর তারাই সীমালংঘনকারী।