১
সর্বযুগের বিশ্বস্ত নবী
লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
৩) পরামর্শ ও ন্যায় বিচারের ভিত্তি স্থাপন
وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ ( ألشورى : ৩৮(
এবং পারস্পরিক পরামর্শক্রমে তারা কাজ সম্পাদন করে।
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ ﴿ألنساء :৫৮﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানত সমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার মীমাংসা করতে আরম্ভ কর তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক।
ইসলাম রাজনীতির জন্য যে মূলনীতি পেশ করেছে তন্মধ্যে শুরা নীতি হলো অন্যতম তা ছাড়া শুরানীতি মানব মর্যাদার জন্য গুরুত্ব পূর্ণ।
ইউরোপ সংসদে প্রতিনিধিত্বের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় রাজনীতি আলোচনায় সংসদের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে রাজনীতির জগতে গণতন্ত্রের বিশাল বিজয় বলে মনে করে। এর দ্বারা সাধারণ নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেও মনে করে।
ইউরোপ এ অধিকার প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছতে বহু শক্তি ক্ষয় করেছে অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছে। পক্ষান্তরে ইসলাম আল্লাহর মনোনীত দ্বীন, মানুষের এসব অধিকার সমূহ তাদের পক্ষ হতে চাওয়ার আগেই প্রথম থেকেই প্রদান করে এবং এর জন্য কোন শক্তিক্ষয় অথবা রক্ত ঝরাতে হয় না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের পরামর্শ চাইতেন যে সব বিষয়ে কোন অহী অবতীর্ণ হয়নি, এবং সঠিক মত গ্রহণ করতেন। যেমন বদর যুদ্ধের সময় মুসলমানদের অবস্থান কি হবে সে বিষয় পরামর্শ চেয়েছেন। (আবু সুফিয়ানের কাফেলা মহানবীর পশ্চাদ্বাবনের সংবাদ জানতে পেরে নদীর তীর ধরে অতিক্রম করে চলে গেছে। আর কোরাইশ তাদের রক্ষণা-বেক্ষণে ও মুসলমানদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য, মক্কা থেকে এক হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী এগিয়ে আসছে এ সংবাদে অবস্থার মোড় পাল্টে যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন আগত এ বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করা হবে কিনা।) অথবা কোন একটি মতামত গ্রহণ করেছেন কিন্তু অহী সঠিক মতামতের পক্ষে সংশোধনী পেশ করেছে। যেমন বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে আবু কর রা. এর মতামত গৃহীত হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে ওমর এর মতামত সঠিক বলে অহীর মাধ্যমে জানানো হলো। অথবা কোন মতামত গ্রহণ করার পর পরিস্কার হলো, বিপরীত মত গ্রহণ সঠিক ছিল। যেমন উহুদ যুদ্ধের সময় যুবকদের পরামর্শে মদিনা হতে বের হওয়া শত্রুর অপেক্ষায় মদিনা অবস্থান না করা, যেমনটি প্রবীন সাহাবীগণ মতামত দিয়েছেন। যার ফলে উহুদ যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য বাহিনী অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। এ উদাহরণ তিনটি প্রমাণ বহন করে ইসলামিক পদ্ধতিতে শুরার মৌলিকত্বের এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ইসলামী রাজনীতিতে শুরুর সু-দৃঢ় অবস্থানের। আল্লাহ অবশ্যই পারতেন বদর যুদ্ধে তারা কোন স্থানে অবস্থান করবেন সে সম্পর্কে অহী অবতীর্ণ করতে, সবকটি যুদ্ধতো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে। মুসলমানদের এতে কোন ভূমিকা এবং প্রস্তুতি ছিলনা।
كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكَارِهُونَ ﴿৫﴾ يُجَادِلُونَكَ فِي الْحَقِّ بَعْدَمَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى الْمَوْتِ وَهُمْ يَنْظُرُونَ ﴿৬﴾ وَإِذْ يَعِدُكُمُ اللَّهُ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُونُ لَكُمْ وَيُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُحِقَّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَيَقْطَعَ دَابِرَ الْكَافِرِينَ ﴿৭﴾ لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ ﴿৮﴾ ( الأنفال :৫-৮(
যে রূপে তোমার প্রতিপালক তোমাকে তোমার গৃহ হতে (বদরের দিকে) যথাযথভাবে বের করলেন আর মুসলমানদের একটি দল একে খুবই (অপছন্দ) মনে করেছিল। সেই যথার্থ বিষয় প্রকাশ হওয়ার পরেও তারা তোমার সাথে এরূপ বিবাদ করেছিল যেন কেউ তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছে। আর তোমরা সেই সময়টিকে স্বরণ কর যখন আল্লাহ তোমাদেরকে সেই দুই দলের মধ্য হতে একটি সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন যে, ওটা তোমাদের কলরতল গত হবে আর তোমরা এই অভিপ্রায়ে ছিলে যেন নিরস্ত্র দলটি তোমাদের আয়ত্তে এসে পড়ে, আর আল্লাহর ইচ্ছা ছিল এই যে তিনি স্বীয় নির্দেশনাবলী দ্বারা সত্যকে সত্য রূপে প্রতিপন্ন করেছেন এবং সেই কাফিরদের মূলকে কর্তন করেছেন। যেন সত্যকে সত্যরূপে এবং অসত্যকে অসত্য রূপে প্রমাণিত করে দেন যদিও এটা অপরাধীরা অপ্রীতিকরই মনে করে।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের পরামর্শের উপর ছেড়ে দিলেন এ জাতীয় বিষয়ে শুরার ভীত রচনা করার জন্য।
যুদ্ধ বন্দী- বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মতামত গ্রহণ করেছিলেন তা ছিল ভূল। যার প্রেক্ষিতে অহী অবতীর্ণ হয়েছিল।
مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآَخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿৬৭﴾ لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿৬৮﴾ الأنفال : ৬৭-৬৮
কোন নবীর পক্ষে ততক্ষণ পর্যন্ত বন্দী লোক রাখা শোভা পায়না যতক্ষণ পর্যন্ত ভূ-পৃষ্ঠ (দেশ) হতে শত্রুবাহিনী নির্মূল না হয়, তোমরা দুনিয়ার সম্পদ কামনা করছো আর আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। পূর্ব থেকেই জানতেন এই ঘটনা ঘটবে। কিন্তু আল্লাহ তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ভূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে অহীর মাধ্যমে নিষেধ করেননি। এবং এই ঘটনার পরও পরামর্শ পরিত্যাগের জন্য বলেননি। যাতে মুসলিম জীবনে একটা বদ্ধমূল ধারণা জন্মে যে উম্মতের রাজনৈতিক প্রাচীর নিমার্ণে পরামর্শ অন্যতম একটি মৌলিক বিষয়। যদিও বা কখনো ভূল মাতমত গ্রহণ হয়। মানুষ সবসময় ভূলে পতিত হয়; এবং পরামর্শ এককভাবে বিশুদ্ধতার উপরও সীমাবদ্ধ নয়। যে পরামর্শে ভূল হলে উম্মতকে দোষারুপ করা যাবে। উহুদের ঘটনায় বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়। বিষয়টি এতে সীমাবদ্ধ থাকেনি যে, যে যুবকেরা শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদিনা হতে বাহির হতে উদ্ধুদ্ধ করেছিল। এবং তারা শুধু অধিকাংশের মতামত উপেক্ষা করেছিল যার প্রতি প্রবীণদেরও সমর্থন ছিল। বরং সৈন্য বাহিনীর একদল যুবক সরাসরি রাসূলের আদেশকেও অমান্য করলেন। যাদেরকে যে কোন অবস্থাতেই পাহাড়ের নির্ধারিত স্থান ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছিল। যদিও মুসলমানের উপর তারা দুর্যোগ আসতে দেখে। যার ফলে মুসলমাদের পরাজয় হওয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্ষত বিক্ষত হওয়া, এবং কাফিরদের উল্লাস প্রকাশ করা হয়। এতো কিছুর পরো আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়-
فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ( آل عمران : ১৫৯(
অতএব তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর ও তাদের জন্য ক্ষমার প্রার্থনা কর এবং কার্য সম্বন্ধে তাদের সাথে পরামর্শ কর।
এতে বুঝা যায় শুরা অবশ্যই পালনীয় যদিও কখনো অপ্রত্যাশিত ফলাফল প্রত্যক্ষ করতে হয়। ইসলাম এ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছে, গুরুত্বারোপ করেছে, স্পষ্ট করেছে এর কল্যাণ আজ থেকে ১০০০ এক হাজার বছর পূর্বে যখন ইউরোপ এ সম্পর্কে কল্পনা করতেও শিখেনি।
এবং পারস্পরিক পরামর্শক্রমে তারা কাজ সম্পাদন করে।
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ ﴿ألنساء :৫৮﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানত সমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার মীমাংসা করতে আরম্ভ কর তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক।
ইসলাম রাজনীতির জন্য যে মূলনীতি পেশ করেছে তন্মধ্যে শুরা নীতি হলো অন্যতম তা ছাড়া শুরানীতি মানব মর্যাদার জন্য গুরুত্ব পূর্ণ।
ইউরোপ সংসদে প্রতিনিধিত্বের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় রাজনীতি আলোচনায় সংসদের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে রাজনীতির জগতে গণতন্ত্রের বিশাল বিজয় বলে মনে করে। এর দ্বারা সাধারণ নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেও মনে করে।
ইউরোপ এ অধিকার প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছতে বহু শক্তি ক্ষয় করেছে অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছে। পক্ষান্তরে ইসলাম আল্লাহর মনোনীত দ্বীন, মানুষের এসব অধিকার সমূহ তাদের পক্ষ হতে চাওয়ার আগেই প্রথম থেকেই প্রদান করে এবং এর জন্য কোন শক্তিক্ষয় অথবা রক্ত ঝরাতে হয় না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের পরামর্শ চাইতেন যে সব বিষয়ে কোন অহী অবতীর্ণ হয়নি, এবং সঠিক মত গ্রহণ করতেন। যেমন বদর যুদ্ধের সময় মুসলমানদের অবস্থান কি হবে সে বিষয় পরামর্শ চেয়েছেন। (আবু সুফিয়ানের কাফেলা মহানবীর পশ্চাদ্বাবনের সংবাদ জানতে পেরে নদীর তীর ধরে অতিক্রম করে চলে গেছে। আর কোরাইশ তাদের রক্ষণা-বেক্ষণে ও মুসলমানদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য, মক্কা থেকে এক হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী এগিয়ে আসছে এ সংবাদে অবস্থার মোড় পাল্টে যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন আগত এ বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করা হবে কিনা।) অথবা কোন একটি মতামত গ্রহণ করেছেন কিন্তু অহী সঠিক মতামতের পক্ষে সংশোধনী পেশ করেছে। যেমন বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে আবু কর রা. এর মতামত গৃহীত হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে ওমর এর মতামত সঠিক বলে অহীর মাধ্যমে জানানো হলো। অথবা কোন মতামত গ্রহণ করার পর পরিস্কার হলো, বিপরীত মত গ্রহণ সঠিক ছিল। যেমন উহুদ যুদ্ধের সময় যুবকদের পরামর্শে মদিনা হতে বের হওয়া শত্রুর অপেক্ষায় মদিনা অবস্থান না করা, যেমনটি প্রবীন সাহাবীগণ মতামত দিয়েছেন। যার ফলে উহুদ যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য বাহিনী অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। এ উদাহরণ তিনটি প্রমাণ বহন করে ইসলামিক পদ্ধতিতে শুরার মৌলিকত্বের এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ইসলামী রাজনীতিতে শুরুর সু-দৃঢ় অবস্থানের। আল্লাহ অবশ্যই পারতেন বদর যুদ্ধে তারা কোন স্থানে অবস্থান করবেন সে সম্পর্কে অহী অবতীর্ণ করতে, সবকটি যুদ্ধতো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে। মুসলমানদের এতে কোন ভূমিকা এবং প্রস্তুতি ছিলনা।
كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكَارِهُونَ ﴿৫﴾ يُجَادِلُونَكَ فِي الْحَقِّ بَعْدَمَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى الْمَوْتِ وَهُمْ يَنْظُرُونَ ﴿৬﴾ وَإِذْ يَعِدُكُمُ اللَّهُ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُونُ لَكُمْ وَيُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُحِقَّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَيَقْطَعَ دَابِرَ الْكَافِرِينَ ﴿৭﴾ لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ ﴿৮﴾ ( الأنفال :৫-৮(
যে রূপে তোমার প্রতিপালক তোমাকে তোমার গৃহ হতে (বদরের দিকে) যথাযথভাবে বের করলেন আর মুসলমানদের একটি দল একে খুবই (অপছন্দ) মনে করেছিল। সেই যথার্থ বিষয় প্রকাশ হওয়ার পরেও তারা তোমার সাথে এরূপ বিবাদ করেছিল যেন কেউ তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছে। আর তোমরা সেই সময়টিকে স্বরণ কর যখন আল্লাহ তোমাদেরকে সেই দুই দলের মধ্য হতে একটি সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন যে, ওটা তোমাদের কলরতল গত হবে আর তোমরা এই অভিপ্রায়ে ছিলে যেন নিরস্ত্র দলটি তোমাদের আয়ত্তে এসে পড়ে, আর আল্লাহর ইচ্ছা ছিল এই যে তিনি স্বীয় নির্দেশনাবলী দ্বারা সত্যকে সত্য রূপে প্রতিপন্ন করেছেন এবং সেই কাফিরদের মূলকে কর্তন করেছেন। যেন সত্যকে সত্যরূপে এবং অসত্যকে অসত্য রূপে প্রমাণিত করে দেন যদিও এটা অপরাধীরা অপ্রীতিকরই মনে করে।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের পরামর্শের উপর ছেড়ে দিলেন এ জাতীয় বিষয়ে শুরার ভীত রচনা করার জন্য।
যুদ্ধ বন্দী- বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মতামত গ্রহণ করেছিলেন তা ছিল ভূল। যার প্রেক্ষিতে অহী অবতীর্ণ হয়েছিল।
مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآَخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿৬৭﴾ لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿৬৮﴾ الأنفال : ৬৭-৬৮
কোন নবীর পক্ষে ততক্ষণ পর্যন্ত বন্দী লোক রাখা শোভা পায়না যতক্ষণ পর্যন্ত ভূ-পৃষ্ঠ (দেশ) হতে শত্রুবাহিনী নির্মূল না হয়, তোমরা দুনিয়ার সম্পদ কামনা করছো আর আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। পূর্ব থেকেই জানতেন এই ঘটনা ঘটবে। কিন্তু আল্লাহ তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ভূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে অহীর মাধ্যমে নিষেধ করেননি। এবং এই ঘটনার পরও পরামর্শ পরিত্যাগের জন্য বলেননি। যাতে মুসলিম জীবনে একটা বদ্ধমূল ধারণা জন্মে যে উম্মতের রাজনৈতিক প্রাচীর নিমার্ণে পরামর্শ অন্যতম একটি মৌলিক বিষয়। যদিও বা কখনো ভূল মাতমত গ্রহণ হয়। মানুষ সবসময় ভূলে পতিত হয়; এবং পরামর্শ এককভাবে বিশুদ্ধতার উপরও সীমাবদ্ধ নয়। যে পরামর্শে ভূল হলে উম্মতকে দোষারুপ করা যাবে। উহুদের ঘটনায় বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়। বিষয়টি এতে সীমাবদ্ধ থাকেনি যে, যে যুবকেরা শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদিনা হতে বাহির হতে উদ্ধুদ্ধ করেছিল। এবং তারা শুধু অধিকাংশের মতামত উপেক্ষা করেছিল যার প্রতি প্রবীণদেরও সমর্থন ছিল। বরং সৈন্য বাহিনীর একদল যুবক সরাসরি রাসূলের আদেশকেও অমান্য করলেন। যাদেরকে যে কোন অবস্থাতেই পাহাড়ের নির্ধারিত স্থান ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছিল। যদিও মুসলমানের উপর তারা দুর্যোগ আসতে দেখে। যার ফলে মুসলমাদের পরাজয় হওয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্ষত বিক্ষত হওয়া, এবং কাফিরদের উল্লাস প্রকাশ করা হয়। এতো কিছুর পরো আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়-
فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ( آل عمران : ১৫৯(
অতএব তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর ও তাদের জন্য ক্ষমার প্রার্থনা কর এবং কার্য সম্বন্ধে তাদের সাথে পরামর্শ কর।
এতে বুঝা যায় শুরা অবশ্যই পালনীয় যদিও কখনো অপ্রত্যাশিত ফলাফল প্রত্যক্ষ করতে হয়। ইসলাম এ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছে, গুরুত্বারোপ করেছে, স্পষ্ট করেছে এর কল্যাণ আজ থেকে ১০০০ এক হাজার বছর পূর্বে যখন ইউরোপ এ সম্পর্কে কল্পনা করতেও শিখেনি।