hadith book logo

সর্বযুগের বিশ্বস্ত নবী

লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

সন্দেহাতীত এক জীবন চরিত।

ইসলামের ব্যাপারে আল্লাহর নীতি হলো ইসলাম তার মূলনীতি নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃতি থাকবে। আল্লাহ নিজে ইসলামকে হেফাজত করবেন এবং পৃথিবীর সকল ধর্মের উপর তাকে বিজয়ী দান করবেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ ( الصف ৯(

তিনিই তার রসূলকে পথ নির্দেশ ও সত্য ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে একে সব ধর্মের উপর প্রবল করে দেন। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।

এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা তার বিশেষ ক্ষমতায় কুরআনকে হেফাজত করেছেন। আল্লাহ বলেন-

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ﴿الحجر :৯﴾

অর্থ: আমিই এই কুরআন অবতির্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষক।

এমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র হাদীসকে হিফাজতের মাধ্যমে হেফাজত করেছেন তার জীবন-চরিতকেও। যার ফলে অন্য নবী রাসূলদের জীবনীর মত প্রিয় রাসূলের জীবনী হারিয়ে কিংবা নষ্ট হয়নি এবং তার মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন ও বিকৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেনি। যেমন অনুপ্রবেশ হয়েছে বনী ইস্রাঈলের নবীদের জীবন-চরিতে। মূসা আ. হতে ঈসা আ. পর্যন্ত। তারা যার নাম দিয়েছে, আল কিতাবুল মুকাদ্দাস বা العهد القديم والعهد الجديد বাইবেলের নতুন টেষ্টামেন্ট এবং পুরাতন টেষ্টামেন্ট যা করা হয়েছিল তাওরাত ও ইঞ্জীলের বিপরীতে।

যে পুরাতন টেষ্টামেন্ট পড়বে সে বুঝতে পারবে তাতে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের চরিত্রে কতটা কদর্যতা লেপন করা হয়েছে (তাদের জাল চরিত্র রচনা করার মাধ্যমে) অশ্লীলতার মিথ্যা অপবাদ দানের মাধ্যমে। যা একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়, থাকতো নবী রাসূল?। আল্লাহর জমিনে এমন কোন অপবাদ ও অপকর্ম নেই যা অন্যায়ভাবে তারা ঐ সকল নবী রাসূলদের কুৎসা রটনায় ব্যবহার করেনি। হত্যা, চুরি,জবর দখল, লুন্ঠন ধোকাবাজী, মিথ্যা, চারিত্রিক দুস্কর্ম। আশ্চর্যের বস্তু হলো এসব লেখেছে ঐ সব লোক যারা তাদের উম্মত। মহান আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন-

قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُمْ بِهِ إِيمَانُكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿البقرة :৯৩﴾

বলে দিন, তোমরা ঈমানদার হয়ে থাকলে তোমাদের সে ঈমান তোমাদেরকে মন্দ বিষয়াদিরই আদেশ করে থাকে

فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ ﴿البقرة :৭৯ ﴾

অতএব তাদের জন্যে আফসোস যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্যে এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।

তারা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের জীবন চরিত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে তাদের নোংরা আঁচরণ নির্দোষ প্রমান ও গোপন করার জন্য। যদি তাদের নবীগণ এমন অপকর্ম করে থাকেন যেগুলো তারা বলছে তাহলে যারা তাদের অনুসারী তারা কি এসব অপকর্ম করেনি? ইঞ্জিলের বিভিন্ন ভলিয়মে ঈসা আলাইহিস সালামের চরিত্র কলঙ্কিত করা সম্পর্কে যদি বলেন; সেখানে তো কোন জালিয়তি বা বিকৃতি হয়নি। তাহলে বলবো ঈসা আ. কে প্রভুর আসনে বসানো ও আল্লাহর সন্তান বলে দাবী করা কি জগন্যতম জালিয়াতি নয়?

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا ﴿৮৮﴾ لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا ﴿৮৯﴾ تَكَادُ السَّمَوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا ﴿৯০﴾ أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا ﴿৯১﴾ مريم

অর্থ: তারা বলে দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। নিশ্চয় তোমরাতো এক অদ্ভুত কান্ড করেছ। হয়তো এর কারণেই এখনই নভোমন্ডল ফেটে পড়বে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে এবং পর্বতমালা চুর্ণ- বিচূর্ণ হবে। একারণে যে, তারা আল্লাহর জন্যে সন্তান আহ্বান করে।

এ হলো পূর্বেকার আম্বিয়া আ. এর জীবন-চরিত যাতে ভূল তথ্য অথবা বিকৃতি সংঘটিত হয়েছিল। পক্ষান্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনীকে আল্লাহ তাআলা ভুল ও অমুলক হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন এবং এমন এক অসাধারণ উম্মতের নিকট তার জীবনী রক্ষার দায়িত্ব অর্পন করেছেন যাদের আমানত ও দ্বীনদারীর দৃষ্টান্ত পৃথিবীবাসী পেশ করতে আজও অক্ষম। ফলে তারা মূল সূত্রসহ তার জীবনীর বিবরণ পরিপূর্ণ হেফাজত করেছেন। এতে করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী যুগ যুগ ধরে অক্ষত অবস্থায় বিদ্যমান আছে। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন- চরিত সকল জীবন চরিতের চেয়ে নির্ভূল, নির্ভেজাল সন্দেহাতীত। যার সকল ঘটনা, বিবরণ, সূত্র গ্রহনীয়।

তার জীবনীর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো- তার জীবনীর সূত্রে এবং কুরআনুল করীমের মাধ্যমে পূর্বেকার আম্বিয়া আ. এর জীবনীরও কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ রক্ষিত হয়েছে। অতএব আম্বিয়া আ. এর জীবনীর যতুটুকু নির্ভরতা আজো আছে তা শুধু কোরআন ও হাদীসের বর্ণনায় আসার কারণে। আজকে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী পড়ছি অথচ এর বাঁকে বাঁকে পড়ে নিচ্ছি সকল নবী রাসূলদের জীবনী। বলা যায় পূর্বেকার নবী রাসুলদের বিক্ষিপ্ত অগোছানো জীবনী রাসূলের মাধ্যমে আমরা সাজানো গোছানো পাচ্ছি। যাতে পাওয়া যায় তাদের তাওহীদ, রহমত, হিকমত, সবর, আদলসহ উত্তম চরিত্রের বিবরণ।