১
শিয়াদের আকীদা-বিশ্বাস
লেখকঃ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস সালাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
ইহুদী ও রাফেযী শিয়াদের মধ্যে মিল
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্ রহ. বলেন, ‘‘ইহুদীদের সাথে রাফেযীদের সামঞ্জস্যতার কিছু উদাহরণ, ইহুদীদের দাবি, দাউদের বংশধর ব্যতীত রাজত্ব করা কারো জন্য শোভনীয় নয়। আর রাফেযী শিয়াদের দাবি, আলী রা.-র সন্তানগণ ব্যতীত কারো জন্য ইমামত বৈধ নয়।
ইহুদীরা বলে, মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব ও তরবারী অবতীর্ণ ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্ নেই। আর রাফেযীরা বলে, মাহদীর আগমন ও আসমানী আহববান ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ নেই।
ইহুদীরা আসমানে তারকারাজী উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করে। অনুরূপভাবে রাফেযীরা মাগরিবের সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট ও উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করে। অথচ হাদীসের ভাষ্য এর বিপরীত :
لا تزال أمتي على الفطرة ما لم يخروا المغرب إلى أن تشتبك النجوم .
‘‘আমার উম্মত ইসলামী ফিৎরাতের উপরই বিদ্যমান থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা মাগরিব সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করবে।’’
ইহুদীরা তাওরাতে পরিবর্তন এনেছে আর রাফেযীরা কুরআন শরীফে পরিবর্তন করেছে।
ইহুদীরা মোজার উপরে মাসাহ্ করা বৈধ মনে করে না। অনুরূপভাবে রাফেযীরাও মোজার উপর মাসাহ্ করা বৈধ মনে করে না।
ইহুদীরা ফেরেশতাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে বলে, ফেরেশ্তাদের মধ্যে আমাদের শত্রু হচ্ছে জিবরীল, অনুরূপভাবে রাফেযীরা বলে, জিবরীল ভুল করে ওহী নাযিল করেছে মুহাম্মাদের উপর। [গুরাবিয়া নামক আরেকটি দল আছে তারা বলে যে, জিবরীল হচ্ছে, খেয়ানতকারী সে ওহী নাযিল করে মুহাম্মাদ সা. এর উপর অথচ রেসালাত পাওয়ার অধিক হকদার ছিল আলী ইবনে আবি তালেব। এ জন্যই তারা বলে, ‘‘খেয়ানত করেছে আমীন তথা জিবরীল আর হায়দার তথা আলীকে রেসালাত থেকে বঞ্চিত করেছে’’। হে মুসলিম মিলাত! দেখুন কিভাবে তারা জিবরীল আমীন এর প্রতি খেয়ানতের অপবাদ দিচ্ছে অথচ আল্লাহ্ তাকে আমানতদারীর গুনে ভূষিত করেছেন। যেমন আল্লাহ্ বলেন, এটা নাযিল হয়েছে আমানতদার আত্নার মাধ্যমে।]
রাফেযীরা খৃষ্টানদের সাথেও বেশ কিছু বিষয়ে মিল রাখে। যেমন খৃষ্টানদের মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর নেই বরং যা দেয় তা ব্যবহারের বিনিময় হিসেবে দেয়। অর্থাৎ স্ত্রীর নিকট হতে যে ফায়েদা গ্রহণ করে তারই বিনিময় হিসেবে গণ্য। অনুরূপ রাফেযীরা মুত‘আহ্ বিবাহ (Contract marriage) বৈধ মনে করে এবং প্রদত্ত অর্থ বিনিময় মূল্য হিসেবে গণ্য করে, মোহর হিসেবে নয়।
ইহুদী ও খৃষ্টান জাতি রাফেযীদের থেকে দুটি বিষয়ে উৎকৃষ্ট। ইহুদীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : মুসার সঙ্গী-সাথীরা। অনুরূপভাবে নাসারাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : ঈসার শিষ্যরা। আর রাফেযীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট? তারা বলেছিল : মুহাম্মাদের সাহাবীগণ।’’
শায়খ আব্দুল্লাহ্ আল-জুমাইলী ‘‘বাযলুল মাজহুদ ফী মুশাবিহাতির রাফেযাতে লিল ইহুদ’’ গ্রন্থে রাফেযী
ও ইহুদীদের মধ্যে কতিপয় সাদৃশ্য উল্লেখ করেন, যেমন ইহুদ ও রাফেযীরা নিজেদের ছাড়া অন্যদের
কাফের বলে এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ তথা জান ও মাল হালাল মনে করে। অতঃপর তিনি বলেন, ইহুদীরা মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে, যথা: ইয়াহুদ ও উমামি। উমামিরা হচ্ছে, ঐ সমস্ত লোক যারা ইহুদী নয়। ইহুদীরা আরো বিশ্বাস করে যে, শুধুমাত্র তারাই মু‘মিন। আর তাদের নিকট উমামিরা হচ্ছে, কাফের মূর্তিপূজক আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।
তালমুদ গ্রন্থে এসেছে যে, ইহুদীরা ব্যতীত সকল জাতি-ই মূর্তিপূজক। এমনকি ঈসা আ. ও তাদের এ
কুফরী সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। তালমুদে তারা বলেছে, ‘ঈসা আ. কাফের, সে আল্লাহকে চেনে না।’
রাফেযীরা বলে মু‘মিন তথা ইহুদী ও তারা ব্যতীত অবশিষ্ট সকলে কাফের ও মুরতাদ। ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই।
মুসলমানদেরকে কাফের বলার কারণ হচ্ছে এই যে, মুসলমানরা ‘বেলায়াত’ মানে না, অথচ রাফেযীরা এটাকে ইসলামের রোকন বলে বিশ্বাস করে। অতএব ‘বেলায়াত’ অস্বীকারকারী রাফেযীদের নিকট কাফের। তার কুফরী কালিমা শাহাদাত অথবা ইসলামের পাঁচ রুকনের কোন এক রুকন অস্বীকারকারীর ন্যায়। আর তাদের নিকট বেলায়াত ইসলামের সকল রুকনের উর্ধ্বে।
আল-বারকী আবু আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘‘আমরা ও আমাদের শিয়ারা ব্যতীত আর কেউ মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই অর্থাৎ শুধুমাত্র আমরাই মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর সব মানুষ তা থেকে মুক্ত।’’
আবু আব্দুল্লাহ সূত্রে তাফসীরে কুম্মীতে রয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘আমরা ও ইহুদীরা ব্যতীত কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের উপর আর কেউ নেই।’’
ইহুদীরা বলে, মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব ও তরবারী অবতীর্ণ ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্ নেই। আর রাফেযীরা বলে, মাহদীর আগমন ও আসমানী আহববান ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ নেই।
ইহুদীরা আসমানে তারকারাজী উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করে। অনুরূপভাবে রাফেযীরা মাগরিবের সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট ও উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করে। অথচ হাদীসের ভাষ্য এর বিপরীত :
لا تزال أمتي على الفطرة ما لم يخروا المغرب إلى أن تشتبك النجوم .
‘‘আমার উম্মত ইসলামী ফিৎরাতের উপরই বিদ্যমান থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা মাগরিব সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করবে।’’
ইহুদীরা তাওরাতে পরিবর্তন এনেছে আর রাফেযীরা কুরআন শরীফে পরিবর্তন করেছে।
ইহুদীরা মোজার উপরে মাসাহ্ করা বৈধ মনে করে না। অনুরূপভাবে রাফেযীরাও মোজার উপর মাসাহ্ করা বৈধ মনে করে না।
ইহুদীরা ফেরেশতাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে বলে, ফেরেশ্তাদের মধ্যে আমাদের শত্রু হচ্ছে জিবরীল, অনুরূপভাবে রাফেযীরা বলে, জিবরীল ভুল করে ওহী নাযিল করেছে মুহাম্মাদের উপর। [গুরাবিয়া নামক আরেকটি দল আছে তারা বলে যে, জিবরীল হচ্ছে, খেয়ানতকারী সে ওহী নাযিল করে মুহাম্মাদ সা. এর উপর অথচ রেসালাত পাওয়ার অধিক হকদার ছিল আলী ইবনে আবি তালেব। এ জন্যই তারা বলে, ‘‘খেয়ানত করেছে আমীন তথা জিবরীল আর হায়দার তথা আলীকে রেসালাত থেকে বঞ্চিত করেছে’’। হে মুসলিম মিলাত! দেখুন কিভাবে তারা জিবরীল আমীন এর প্রতি খেয়ানতের অপবাদ দিচ্ছে অথচ আল্লাহ্ তাকে আমানতদারীর গুনে ভূষিত করেছেন। যেমন আল্লাহ্ বলেন, এটা নাযিল হয়েছে আমানতদার আত্নার মাধ্যমে।]
রাফেযীরা খৃষ্টানদের সাথেও বেশ কিছু বিষয়ে মিল রাখে। যেমন খৃষ্টানদের মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর নেই বরং যা দেয় তা ব্যবহারের বিনিময় হিসেবে দেয়। অর্থাৎ স্ত্রীর নিকট হতে যে ফায়েদা গ্রহণ করে তারই বিনিময় হিসেবে গণ্য। অনুরূপ রাফেযীরা মুত‘আহ্ বিবাহ (Contract marriage) বৈধ মনে করে এবং প্রদত্ত অর্থ বিনিময় মূল্য হিসেবে গণ্য করে, মোহর হিসেবে নয়।
ইহুদী ও খৃষ্টান জাতি রাফেযীদের থেকে দুটি বিষয়ে উৎকৃষ্ট। ইহুদীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : মুসার সঙ্গী-সাথীরা। অনুরূপভাবে নাসারাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : ঈসার শিষ্যরা। আর রাফেযীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট? তারা বলেছিল : মুহাম্মাদের সাহাবীগণ।’’
শায়খ আব্দুল্লাহ্ আল-জুমাইলী ‘‘বাযলুল মাজহুদ ফী মুশাবিহাতির রাফেযাতে লিল ইহুদ’’ গ্রন্থে রাফেযী
ও ইহুদীদের মধ্যে কতিপয় সাদৃশ্য উল্লেখ করেন, যেমন ইহুদ ও রাফেযীরা নিজেদের ছাড়া অন্যদের
কাফের বলে এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ তথা জান ও মাল হালাল মনে করে। অতঃপর তিনি বলেন, ইহুদীরা মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে, যথা: ইয়াহুদ ও উমামি। উমামিরা হচ্ছে, ঐ সমস্ত লোক যারা ইহুদী নয়। ইহুদীরা আরো বিশ্বাস করে যে, শুধুমাত্র তারাই মু‘মিন। আর তাদের নিকট উমামিরা হচ্ছে, কাফের মূর্তিপূজক আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।
তালমুদ গ্রন্থে এসেছে যে, ইহুদীরা ব্যতীত সকল জাতি-ই মূর্তিপূজক। এমনকি ঈসা আ. ও তাদের এ
কুফরী সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। তালমুদে তারা বলেছে, ‘ঈসা আ. কাফের, সে আল্লাহকে চেনে না।’
রাফেযীরা বলে মু‘মিন তথা ইহুদী ও তারা ব্যতীত অবশিষ্ট সকলে কাফের ও মুরতাদ। ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই।
মুসলমানদেরকে কাফের বলার কারণ হচ্ছে এই যে, মুসলমানরা ‘বেলায়াত’ মানে না, অথচ রাফেযীরা এটাকে ইসলামের রোকন বলে বিশ্বাস করে। অতএব ‘বেলায়াত’ অস্বীকারকারী রাফেযীদের নিকট কাফের। তার কুফরী কালিমা শাহাদাত অথবা ইসলামের পাঁচ রুকনের কোন এক রুকন অস্বীকারকারীর ন্যায়। আর তাদের নিকট বেলায়াত ইসলামের সকল রুকনের উর্ধ্বে।
আল-বারকী আবু আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘‘আমরা ও আমাদের শিয়ারা ব্যতীত আর কেউ মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই অর্থাৎ শুধুমাত্র আমরাই মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর সব মানুষ তা থেকে মুক্ত।’’
আবু আব্দুল্লাহ সূত্রে তাফসীরে কুম্মীতে রয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘আমরা ও ইহুদীরা ব্যতীত কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের উপর আর কেউ নেই।’’