hadith book logo

শিয়াদের আকীদা-বিশ্বাস

লেখকঃ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস সালাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

‘তুকইয়া’ সম্পর্কে রাফেযী শিয়াদের বিশ্বাস

আধুনিক যুগের একজন রাফেযী আলেম ‘তুকইয়া’-র সংজ্ঞা বর্ণনা করেন : ‘‘তোমার জীবন থেকে অথবা মন থেকে কষ্ট দুর করার উদ্দেশ্যে অথবা তোমার কারামত রক্ষার উদ্দেশ্যে তোমার অন্তরে যে বিশ্বাস আছে তার বিপরীত কিছু বলা অথবা করাই ‘তুকইয়া।’

তাদের আরো ধারণা, মুনাফিকদের সরদার আব্দুল্লাহ্ বিন উবাই বিন সালুলের মৃত্যুর পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুরূপ তুকইয়া করেছিলেন। তিনি যখন তার সালাতে জানাযা আদায় করতে আসেন, তখন ওমর রা. বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ কি আপনাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেননি? অর্থাৎ এই মুনাফিকের কবরে দাঁড়াতে, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তোমার ধংস হোক, তুমি এটা কি বলছো? আমি তো আসলে বলেছি যে, হে আল্লাহ্! তুমি তার পেট আগুন দ্বারা পূর্ণ করো। তার কবর আগুন দ্বারা পূর্ণ করো এবং তাকে জাহান্নামের আগুন পর্যন্ত পৌঁছে দাও।’’

খেয়াল করে দেখুন হে মুসলিম জাতি, কিভাবে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর মিথ্যাারোপ করে। এটা কি বিবেক সিদ্ধ কথা : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার একজন সাহাবীর ভয়ে তুকইয়ার আশ্রয় নিয়ে বলবেন যে, আমি তার জন্য দোয়া করিনি, তার উপর লা‘নত করেছি ?!

আল-কুলাইনী ‘‘উছুলুল কাফী’’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘‘আবু আব্দুল্লাহ্ বলেন, হে আবু ওমর, নিশ্চয় দীনের দশ ভাগের নয় ভাগই নিহিত রয়েছে তুকইয়া‘র মধ্যে, যার মধ্যে তুকইয়া নেই তার ভেতর দীন নেই, দু’টি বিষয় অর্থাৎ নাবিয ও মোজার উপর মাসাহ্ ছাড়া সকল বিষয়েই তুকইয়া রয়েছে।’’

কুলাইনী আবু আব্দুল্লাহর বরাত দিয়ে আরো উল্লেখ করেন, তিনি বলেন, ‘‘তোমরা দীনের ব্যাপারে ভয় করো অর্থাৎ সতর্ক থাকো এবং তুকইয়া দ্বারা দীনকে হেফাযত করো, কেননা যার মধ্যে তুকইয়া নেই তার ভেতর ঈমানই নেই। এই তুকইয়া‘র অজুহাতে রাফেযীদের নিকট গায়রুলাহ‘র নামে হলফ করাও বৈধ হয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ।

আল হুররিল আমেলী ‘‘ওয়াসায়েলুশ্ শিয়াহ্’’ গ্রন্থে ইবনে বুকাইর হতে, তিনি যুরারাহ্ হতে তিনি আবু জা‘ফার আস-সাদেক হতে বর্ণনা করেন, যুরারাহ্ বলেন, আমি জা‘ফারকে বললাম, নিশ্চয় আমরা যখন তাদের তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের নিকট থেকে অতিক্রম করি, তখন তারা আমাদের সম্পদের উপর হলফ তলব করে অথচ আমরা ঐ সম্পদের যাকাত আদায় করেছি। অতঃপর জা‘ফার বলেন, হে যুরারাহ্! যদি সম্পদের ভয় করো তাহলে তারা যেভাবে চায় সেভাবেই হলফ করো। আমি বললাম, আপনার জন্য জীবন কুরবান হোক, তালাক ও দাস মুক্তির কসম করব? তিনি বলেন, তারা যা চায় তাই করো।

সামা‘আহ্ হতে বর্ণিত, তিনি আবু আব্দুল্লাহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জবরদস্তির কারণে বাধ্য হয়ে কেউ যদি তুকইয়ার আশ্রয়ে হলফ করে তাহলে তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না।’’

রাফেযীদের নিকট তুকইয়া ওয়াজিব, বরং তুকইয়া ব্যতীত তাদের মাযহাব টিকতেই পারে না। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল ব্যাপারেই তারা তুকইয়ার মূলনীতি গ্রহণ করে এবং যখনই প্রয়োজন বোধ করে তখনই ঐ মূলনীতির উপর আমল করে। অতএব হে মুসলিম জাতি, রাফেযীদের এরূপ জঘন্য আক্বীদা থেকে সাবধান থাকুন।

(আরবি)

‘‘নিশ্চয় মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। তুমি তাদের জন্য কক্ষনো কোন সাহায্যকারী পাবে না।’’ (সুরা আন নিসা: ১৪৫)